
বছর জুড়ে টেলিভিশন, ওয়েব, ইউটিউব প্ল্যাটফর্মের জন্য নির্মিত হয়েছে অসংখ্য নাটক, টেলিফিল্ম, ওয়েব সিরিজ। কেউ ছুটেছেন ভিউর পেছনে, কেউবা মানের পেছনে। বছরের আলোচিত নাটক নিয়ে আমাদের এ আয়োজন।
দুই ঈদেই আশফাক নিপুণকে দেখা গেছে কয়েকটি নাটকের কাজ করতে। রোজার ঈদে অপি করিম-আফরান নিশো জুটিকে নিয়ে তিনি নির্মাণ করেন ‘মিস শিউলি’। অপি করিম পর্দায় নিয়মিত নন, তাই তার জন্য দর্শকের আগ্রহ বরাবরই তুঙ্গে থাকে। ছিলেন চলতি সময়ের দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী সাফা কবির ও ইয়াশ রোহান। দর্শক সাদরে গ্রহণ করে এ নাটক। বছরের অন্যতম আলোচিত নাটক হয়ে ওঠে ‘মিস শিউলি’। সমাজের সাম্প্রতিক ঘটনা প্রবাহের আলোকে তিনি নির্মাণ করেন ‘এই শহরে’। এই নাটক দর্শককে কাঁদিয়েছে। তার আরেকটি নাটক ‘আগন্তুক’ দেখেও দর্শক বাহবা দিয়েছে।
ইফতেখার আহমেদ ফাহমি পরিচালিত ‘কিংকর্তব্যবিমূঢ়’ ছিল চলতি বছরের আরেকটি আলোচিত নাটক। চঞ্চল চৌধুরী ও নুসরাত ইমরোজ তিশা অভিনীত এ নাটকে উঠে এসেছে শিশু ধর্ষণের মতো বিষয়। চলতি সময়ের চার অভিনয় শিল্পী মোশাররফ করিম, জাকিয়া বারী মম, তাহসান খান ও নুসরাত ইমরোজ তিশাকে একই নাটকে নিয়ে আসার মতো অসাধ্য সাধন করেছেন মাবরুর রশিদ বান্নাহ। তাদের নিয়ে তিনি নির্মাণ করেন ‘আশ্রয়’। মোশাররফ করিমকে নিয়ে তার অনবদ্য কাজ ‘আমাদের দিনরাত্রি’ সাড়া ফেলেছিল। এর বাইরে ‘থার্ড জেন্ডার’, ‘লেডি কিলার’, ‘লুজারস’, ‘কীটনাশক’ ইত্যাদি কাজ দিয়ে দর্শকের কাছেই ছিলেন তিনি। বছরের শেষ দিকে তিনি তাহসান খানের শততম নাটক ‘মেমরিস কল্প তরুর গল্প’ উপহার দেন।
মিজানুর রহমান আরিয়ানের কয়েকটি কাজ এ বছর আলোচনায় ছিল। বনানীর এফআর টাওয়ারে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ড নিয়ে নির্মিত ‘২২ শে এপ্রিল’ নাটকটি দর্শকের হৃদয়ে দাগ কেটেছে। আরিয়ানের আরেকটি নাটক ‘লাইফ ইন্স্যুরেন্স’ ছিল আলোচনায়। অপূর্বের সঙ্গে এ নাটকে দেখা যায় রাফিয়াথ রশিদ মিথিলাকে। এ ছাড়াও তিনি নির্মাণ করেন চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা ও অপূর্বকে নিয়ে ‘সাবলেট’ ও অপি করিমকে নিয়ে ‘কেস ৩০৪০’। এ দুটো কাজও দর্শকের সাধুবাদ কুড়িয়েছে। তার অপূর্ব ও তানজিন তিশাকে নিয়ে নির্মিত ‘দেখা হবে কি’ও দর্শকের আগ্রহে ছিল। সাফায়েত মনসুর রানা এ বছর নির্মাণ করেন ‘আমাদের সমাজ বিজ্ঞান’। তরুণ প্রজন্মের বিবেককে নাড়া দিয়েছে তার কাজ।
শিহাব শাহীন এ বছর সাড়া ফেলেছেন ‘এক হৃদয়হীনা’ বানিয়ে। অপূর্ব, অর্ষার অভিনয় মন ছুঁয়ে যায় সবার। এ ছাড়াও তিনি নির্মাণ করেন ‘দ্বিতীয় কৈশোর’। অপূর্ব ও তানজিন তিশাকে নিয়ে নির্মিত তার ঈদ ধারাবাহিক ‘কুহক’ দর্শকের প্রশংসা কুড়িয়েছে । আলোচিত নির্মাতা মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ এ বছর আলোচনায় ছিলেন ধারাবাহিক নাটক ‘ফ্যামিলি ক্রাইসিস’ নিয়ে। এ বছর তার উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো হলো ‘শিশির বিন্দু, ‘বুক ভরা ভালোবাসা, ‘আনফিট’, ‘ম্যাজিক অব লাভ’ ইত্যাদি। সাজ্জাদ সুমনের ‘হ্যাশ মি টু’ নাটকটি প্রশংসা কুড়িয়েছে। মেহজাবিন চৌধুরী ও আফরান নিশো অভিনীত রাফাত মজুমদার রিংকুর ‘পতঙ্গ’ নাটকটিও দর্শক নন্দিত হয়েছে। সাগর জাহানের ‘মায়া সবার মত না’ নাটকে অন্যরকম চরিত্রে দেখা যায় মেহজাবিনকে।
কাজল আরেফিন অমি আলোচনায় ছিলেন ‘এক্স গার্লফ্রেন্ড’ ও ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ নাটক দিয়ে। রুবেল হাসানের ‘মনে প্রাণে’, ‘রাজকুমার’ আলোচিত হয়েছে। অপূর্ব ও মেহজাবিনকে নিয়ে সঞ্জয় সমাদ্দারের ‘গেম ওভার’ও দর্শকপ্রিয় হয়েছে। ভিকি জাহেদের ‘দ্য লাইফ অব জলিল’ ভিন্ন স্বাদের গল্পের জন্য প্রশংসা কুড়িয়েছে। সালহা খানম নাদিয়াকে নিয়ে তিনি নির্মাণ করেন ‘রেইন লাভ’, যা আলোচিত হয় শুরুতেই। রেদওয়ান রনির মোশাররফ করিম ও ফারুক আহমেদকে নিয়ে নির্মিত ধারাবাহিক ‘বিহাইন্ড দ্য পাপ্পি’ আনন্দ দিয়েছে দর্শকদের। সাজিন আহমেদ বাবুর ‘উবার’ প্রশংসা কুড়িয়েছে দর্শকের। রাশেদ সীমান্ত, অর্ষা অভিনীত জিয়াউর রহমান জিয়ার ‘মধ্যরাতের সেবা’ আলোচিত হয়েছে দর্শকদের মাঝে। সত্য ঘটনার আলোকে নির্মিত তানিম নূর ও কৃষ্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের সিরিজ ‘মানি হানি’ ও দর্শকের মাঝে সাড়া ফেলেছিল।