প্রকাশ: সোমবার, ২৭ জুন, ২০২২, ৮:৩৮ এএম
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এবং কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শামসুল আলম বলেছেন, জ্বালানি সুবিধা পাওয়ার তুলনায় খরচ বেশি করতে হচ্ছে ভোক্তাকে। দামের তুলনায় কম জ্বালানি পাচ্ছে জনগণ। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, জ্বালানি অধিকার হলো সঠিক দামে, সঠিক মানে ও মাপে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা। কিন্তু আমরা কি সঠিক দামে বিদ্যুৎ পাচ্ছি। যে দাম নির্ধারণ করা হয় সেটা কি সঠিক। নিঃসন্দেহে সঠিক নয়।
রোববার গুলশানের একটি হোটেলে ‘জাতীয় বাজেটে এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার সেক্টর’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। সঞ্চালনা করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।
গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, পেট্রোলিয়াম, এলএনজি ও কয়লা আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত চাপের মুখে পড়েছে। ভর্তুকি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির পরও ব্যয় সমন্বয় করা কঠিন। বাড়তি উদ্যোগ না নিয়ে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ভালো বিকল্প হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও তা উপেক্ষা করা হয়েছে।
অধ্যাপক শামসুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেছে। আমাদের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি চাহিদাও বেড়েছে। সুতরাং আমাদের জ্বালানির দাম বাড়বে, এর সঙ্গে বিদ্যুতের দাম বাড়বে। এটাই বাস্তবতা। কিন্তু এই সেক্টরে দীর্ঘদিন ধরে অন্যায় ব্যয় ও লুণ্ঠনমূলক ব্যয় চলে আসছে। জ্বালানি ব্যয়কে বিশেষ আইনের দ্বারা সুরক্ষিত করা হয়েছে। আজকে সময় এসেছে এ বিষয়টি নিয়ে কথা বলার। সরকার বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনে কম দামে দিচ্ছে। তা হলে সেই ঘাটতি কোথা থেকে আসবে। যেখানে ২০ থেকে ২২ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা জ্বালানি খাতে ১০ দফা কিংবা ২১ দফা সংস্কারের কথা বলেছি। সেখানে সবাই বলেছি, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে তাদের বোর্ড থেকে আমলাদের অপসারণ করতে হবে। প্রশাসন অচল হয়ে যাচ্ছে। কোনো অন্যায়ের প্রতিকার হচ্ছে না।
শামসুল ইসলাম আরও বলেন, সরকার চাচ্ছে বিদ্যুৎ খাত বাণিজ্যিক খাতের মাধ্যমে চালাতে। তা হলে আন্তর্জাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক বাজার তৈরি করা প্রয়োজন। হোক সেটা দেশি কিংবা বিদেশি। তা হলে ন্যায্য দামে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সরকারকে নির্ধারিত দামে বিদ্যুৎ ক্রয় করতে হবে। কোম্পানির কাছে সরকার কেন জিম্মি হবে? সরকারের উদ্যোগ কেন হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ হচ্ছে। সরকার যদি এখন উদ্যোগ না নেয় তা হলে বিদ্যুৎ খাত নিয়ে সরকারের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে। একসময় জনগণের মধ্যে চরম অসন্তোষ তৈরি হবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইমরান করিম বলেন, সরবরাহ সিস্টেমে ঘাটতি রয়েছে, সে কারণে লোডশেডিং হচ্ছে। বিদ্যুতে আমাদের সত্যিকারের ক্যাপাসিটি ১৬ হাজার মেগাওয়াট। ১৬ হাজার মেগাওয়াট কিছু না। আমাদের অন্তত ২০ শতাংশ বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা থাকা প্রয়োজন।
/এমএইচ/