উপেক্ষিত সরকারি মূল্য: এখনো বাড়তি দামেই সয়াবিন তেল
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২২, ১০:০৩ পিএম (ভিজিট : ৪৪৯)
সয়াবিন তেল ফাইল ছবি
সরকার নির্ধারিত দাম উপেক্ষিত সয়াবিন তেলে। দাম কমার দুই সপ্তাহ পার হলেও এখনো আগের বাড়তি দামেই সয়াবিন তেল কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের। ব্যবসায়ীদের প্রতিবারের মতো এবারও অজুহাত নতুন দামের তেল আসেনি বাজারে।
শুক্রবার (৩০ ডিসেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়। ১ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকায়। পাম তেল বিক্রি হচ্ছে ১২০-১২২ টাকায়। এরআগে গত ১৫ ডিসেম্বর লিটারে ৫ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করে দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এতে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৬৭ টাকা, বোতল ১৮৭ টাকা এবং পাম তেলের দাম ১১৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
মালিবাগের খুচরা দোকানদার রফিকুল ইসলাম বলেন, সরকার দাম কমালেও আমরা পাইকারি বাজারে নতুন দামে সয়াবিন তেল পাই না। কম দামের কথা বললে তারা বলে কোম্পানি থেকে এখনো এই দামে তেল দেয় নাই। তার প্রশ্ন আমরা কম দামে না পেলে কিভাবে বিক্রি করব?
আমনের মোটা চাল বাজারে আসায় কমেছে দাম। তবে সরু চালের দাম এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। স্বর্ণা চালের দাম ৫০ টাকা থেকে কমে ৪৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এবং পাইজাম চাল ৬০ টাকা থেকে কমে ৫৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সাধারণ মানের বিআর-২৮ চালের কেজি ৬৪-৬৬ টাকা, মিনিকেট ৭০-৭৪ টাকা এবং ভালো মানের নাজিরশাইল ৭৫-৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
রামপুরা বাজারের চাল ব্যবসায়ী রহমতুল্লাহ বলেন, আমনের মোটা চাল বাজারে এসেছে। ফলে এখন চালের সরবরাহ ভালো। এ কারণে মোটা চালের দাম কমেছে। সরবরাহ ভালো থাকলে মোটা চালের দাম আরও কমতে পারে। তবে চিকন চালের দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। আগের দামেই আছে।
এদিকে শীতের ভরা মৌসুমেও সবজির দামে তেমন প্রভাব পড়েনি। শেওড়া পাড়া ও কারওয়ান বাজারে দেখা গেছে, প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, এক সপ্তাহ আগে ছিল ৬০ টাকা। ৫০ টাকা থেকে বেড়ে টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। শিম প্রতি কেজি ৬০ টাকা। মাঝারি আকারের একটি লাউয়ের দাম ৫০ টাকা।
সবজির দামের বিষয়ে কারওয়ানবাজারের সবজি বিক্রেতা সোহেল মিয়া বলেন, কুয়াশার কারণে সবজির ক্ষতি হচ্ছে। আবার পরিবহনও বিঘ্ন হচ্ছে যার কারণে তুলনামূলক দাম একটু বেশি। তবে ধীরে ধীরে দাম কমে যাবে বলে জানান তিনি।
বাজারে নতুন পেঁয়াজ ওঠায় দাম কমেছে। নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে। তাতে কমে এসেছে আমদানি ও পুরনো দেশি পেঁয়াজের দামও। সেগুলো এখন কেজিতে ৫ টাকা কমে ৪০ থেকে ৪৫ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। আদা বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকা এবং রসুন ৮০-১০০ টাকা।
ব্রয়লার মুরগীর দামও বেড়েছে। গতকাল শেওড়াপাড়া বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার বিক্রি হয় ১৫৫ টাকায়। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে ১৫ টাকা। দেশি মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে হয়েছে ৪৪০ টাকা। এক সপ্তাহ আগে সোনালিকা মুরগির কেজি ছিল ২৩০ টাকা, যা গতকাল বিক্রি হয়েছে ২৫০ টাকায়। ব্রয়লারের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, শীতে মুরগির বাচ্চা মরে যায় তাই দাম বেড়েছে।
চিনির দাম ১১৫-১২০ টাকা কেজি। কমেনি মসুর ডাল ও আটা-ময়দার দাম। খুচরায় প্রতি কেজি মসুর ডাল এখনো ১৩০-১৪০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি আটার দাম ৭০ টাকা ও ময়দা ৭৫ টাকা।