চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সে লক্ষ্যে পরিকল্পনা কমিশন অর্থ বরাদ্দের নির্দেশনাসহ মূল প্রকল্পের সংশোধনীর একটি রূপরেখা দিয়েছে। সম্প্রতি সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, আগামী নতুন অর্থবছর আসার আগেই ৩০টি প্রকল্পের কাজ শেষ করতে হবে।
জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে ৩০৯টি প্রকল্পের তথ্য হালনাগাদ করতে হবে। শুধু তাই নয়, সব প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও, শেষ করা যাচ্ছে না তারও একটি তালিকা দিতে বলা হয়েছে।
নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, শুধু অনুমোদিত প্রকল্প বরাদ্দসহ অন্তর্ভুক্ত করা যাবে। নতুন অনুমোদিত প্রকল্প অনুমোদন আদেশ ও প্রশাসনিক আদেশ জারিসহ সফটওয়্যারে অন্তর্ভুক্তি ছাড়া সংশোধিত এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। দারিদ্র্য বিমোচনের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট প্রকল্পসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অধীনে প্রকল্পগুলো অগ্রাধিকার বিবেচনায় রেখে বরাদ্দের প্রস্তাব করা যাবে।
পরিকল্পনা কমিশন মনে করে, সংশোধিত এডিপিতে অর্থ বরাদ্দ প্রদানের ক্ষেত্রে বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রেখে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য কৃষি, কৃষিভিত্তিক শিল্প, বিদ্যুৎ খাত, প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রকল্পে বরাদ্দ প্রদানে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।
সংশোধিত এডিপিতে অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে বেসরকারি অংশীদারত্বের ভিত্তিতে গৃহীত উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহায়ক প্রকল্প গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় রাখা হবে। এলাকা ও অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়নের জন্য যে সব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তার জন্য বরাদ্দ বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। তবে সম্পদের সীমাবদ্ধতার কথা চিন্তা করে নতুন প্রকল্পের চেয়ে চলমান প্রকল্প শেষ করার জন্য মনোযোগ দিতে হবে বলে কমিশনে নির্দেশনায় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
যে সব প্রকল্পে ধীরগতিসম্পন্ন কিংবা রুগ্ণ হিসেবে বিবেচিত সেই সব প্রকল্পে বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। একই সঙ্গে দ্রুতগতিসম্পন্ন প্রকল্পে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দিতে হবে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
সংশোধিত এডিপিতে জাপান ঋণ মওকুফ অনুদান ও একই ধরনের অনুদান স্থানীয় উৎস হিসেবে বিবেচিত হবে। যে সব প্রকল্পে সরকারি অর্থায়নে কিংবা প্রকল্প সাহায্যে বাস্তবায়ন হচ্ছে সেই প্রকল্পের বরাদ্দের প্রতিফলন থাকতে হবে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো চলতি প্রকল্পে বরাদ্দ প্রস্তাবের ক্ষেত্রে অর্থ ছাড়ের বেলায় যেন কোনো কম না হয় তা খেয়াল রাখতে হবে। চলতি অর্থবছরে শেষ করার জন্য নির্ধারিত প্রকল্প যেন অর্থ বরাদ্দ পায় তা নিশ্চিত করতে হবে।
চলতি অর্থবছরের এডিপিতে বরাদ্দ নেই আবার অনুমোদন হয়নি এমন সব প্রকল্পগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশোধিত এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত হবে না। তবে আগামী ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত নতুন প্রকল্প ডিপিপি অনুমোদন প্রক্রিয়াকরণের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাওয়া যাবে সেগুলো সংশোধিত এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বৈদেশিক সাহায্য পাওয়া যাবে, এমন সব প্রকল্প বরাদ্দবিহীনভাবে অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে। প্রকল্প নির্ধারণের জন্য ডিজিটাল বাংলাদেশ বির্নিমাণে সফটওয়্যার শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তি সেবা বিকাশের মাধ্যমে রফতানি বাড়বে এমন সব প্রকল্পে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য নির্দেশনায় বিশেষভাবে বলা হয়েছে।
এদিকে আগামী ৫ জানুয়ারিতে নতুন প্রকল্প, আগামী ১০ জানুয়ারি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্প পাঠানোর জন্য সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে অনুরোধ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।