শহরে ৫০ আর বস্তির ৩১ শতাংশ নারী সন্তান জন্ম দেন সিজারে

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

দেশে বস্তিতে থাকা আর বস্তির বাইরে থাকা এবং শহরে বসবাসরত নারী সবার মধ্যেই সিজারের (অস্ত্রোপচার) মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেওয়ার হার

2023-01-03T22:15:19+00:00
2023-01-03T22:15:19+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
শহরে ৫০ আর বস্তির ৩১ শতাংশ নারী সন্তান জন্ম দেন সিজারে
নিপোর্টের গবেষণা জরিপ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৩, ১০:১৫ পিএম 
দেশে বস্তিতে থাকা আর বস্তির বাইরে থাকা এবং শহরে বসবাসরত নারী সবার মধ্যেই সিজারের (অস্ত্রোপচার) মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেওয়ার হার বেড়েছে। গবেষণা বলছে, সরকারি হাসপাতালগুলোতে সিজারের হার কমলেও ভয়ংকরভাবে বাড়ছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে। যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক সেবা নেওয়ার পরও সরকারি হাসপাতালের তুলনায় সিজারের হার দ্বিগুণ।

বর্তমানে দেশের ১১টি সিটি করপোরেশনে বস্তিতে বসবাসকারী অন্তঃসত্ত্বা নারীর ৩১ দশমিক ৩ শতাংশ সিজারের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেন। সেসব সিটি এলাকায় বস্তির বাইরে থাকা ৫৯ দশমিক ৪ শতাংশ নারীর সন্তান জন্মদানও হয় সিজারে। আর দেশের জেলা-উপজেলাগুলোতে যেসব শহরে ৪৫ হাজারের বেশি মানুষের বাস সেসব শহরের ৫০ দশমিক ৫ শতাংশ নারী সিজারে সন্তান জন্ম দেন। তবে গর্ভাবস্থায় প্রাতিষ্ঠানিক সেবা নেওয়া নারীদের সিজারে সন্তান জন্মদানের হার বেশি।

জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (নিপোর্ট) এক জরিপ গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সারা দেশে তৃতীয় বাংলাদেশ আরবান হেলথ সার্ভে (বিইউএইচএস) ২০২১-এর ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য তুলে ধরে নিপোর্ট। বাংলাদেশ আরবান হেলথ সার্ভে রিপোর্টের ফলাফল প্রকাশ করেন ঢাকা বিশ^^বিদ্যালয়ের (ঢাবি) পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ শাহাদাত হোসেন এবং বেগম রোকেয়া বিশ^^বিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক একে এম নুর উন নবী।

দেশের ১১টি সিটি করপোরেশনের বস্তি ও বস্তির বাইরের এবং জেলা পৌরসভার অবশিষ্ট শহুরে জনসংখ্যা এবং বড় শহর যেখানে ৪৫ হাজারের বেশি জনসংখ্যা বাস করে এমন এলাকার ৩৫ হাজার ৮৬০ জন মানুষের ওপর এই গবেষণা চালানো হয়।

গবেষণায় ১২ থেকে ৪৯ বছর বয়সি নারী, ১৫ থেকে ৫৪ বছর বয়সি বিবাহিত পুরুষ, পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশু ও সমাজের নেতারা অংশ নেন।

জরিপে দেখা যায়, সিটি করপোরেশনের মধ্যে বস্তি, বস্তির বাইরে এবং জেলা পৌরসভায় সরকারি হাসপাতালে যেখানে সিজারে সন্তান প্রসবের হার ৪৪ শতাংশ, সেখানে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে তা ৮৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এ ছাড়া বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) আওতাধীন প্রতিষ্ঠানে ৪১ শতাংশ।

জরিপে উঠে আসে, সিটি করপোরেশনের বস্তি এলাকায় সরকারিতে যেখানে অস্ত্রোপচারে সন্তান প্রসবের হার ৪৪ শতাংশ, বেসরকারিতে তা ৭৫ শতাংশ, সিটি করপোরেশনের বস্তির বাইরে সরকারি হাসপাতালে যেখানে ৫১ শতাংশ বেসরকারিতে এই হার সেখানে ৮৭ শতাংশ এবং পৌরসভার সরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের সন্তান জন্মদানের হার ৩৭ শতাংশ হলেও বেসরকারিতে তা ৮৮ শতাংশ। এ ছাড়া বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) আওতাধীন এই তিন শ্রেণির (সিটি করপোরেশনের বস্তি, বস্তির বাইরে ও পৌরসভা) প্রতিষ্ঠানে এই হার যথাক্রমে ২৫ শতাংশ, ৫১ শতাংশ এবং ৪৭ শতাংশ।

 এ সময় গবেষণা নিয়ে কথা বলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এ কে এম নুরুন্নবী। 

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার গত ১৫ বছরের তুলনামূলক চিত্র এখানে উঠে এসেছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে শহরে কেন জানি একটু কম গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারি (প্রসব) বাড়লেও সিজারের হার আশঙ্কাজনক। এটি ভাববার বিষয়। এ জন্য সরকারের নীতিনির্ধারকদের বিশেষ নজর দেওয়া দরকার।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, সঠিক ডাটা পেলে কোন কাজ কতদূর এগিয়েছে সেটির চিত্র ফুটে ওঠে। একই সঙ্গে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও করণীয় ঠিক করা সহজ হয়। আমাদের সবচেয়ে বড় সংকট জনবল। যে পরিমাণ দরকার তার তুলনায় খুবই কম। ফলে স্বাস্থ্যসেবা অর্জনে কষ্ট হয়। বস্তি ও অন্যান্য এলাকায় বিশুদ্ধ পানি পাচ্ছে মানুষ। একই সঙ্গে বিদ্যুৎও পাচ্ছে। তবে স্যানিটেশনে অনেক পিছিয়ে আছে।

তিনি বলেন, বস্তি এলাকায় জন্মহার কমছে। বস্তি ও দরিদ্র মানুষের মাঝেও বাল্যবিবাহ নিয়ে সচেতনতা বাড়ছে। সবক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে। বস্তি এলাকায় গর্ভাবস্থায় স্বাস্থ্যসেবা নেওয়ার হার বেড়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারির হার বাড়লেও তা এখনও কিছুটা পিছিয়ে। সারা দেশে ৪ হাজার ইউনিট আছে। সেখানে ৮ ঘণ্টা নয়, ২৪ ঘণ্টা চালুর ব্যবস্থা করলে এ হার বাড়বে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে সেবার মান বাড়াতে হবে।
জাহিদ মালেক বলেন, গ্রামে অবকাঠামোগত উন্নত হওয়ায় শহরের মতোই সবকিছু পাওয়া যাচ্ছে। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে মাইগ্রেশন কমেছে।



  বিষয়:   সিজার 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: