প্রকাশ: শুক্রবার, ২ জুন, ২০২৩, ১:১২ পিএম
প্রস্তাবিত ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটকে বাস্তবতা বিবর্জিত ও অলিক বাজেট হিসাবে আখ্যায়িত করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি। অলিক আর্থিক কাঠামোর ভিত্তিতে এই বাজেট তৈরি করা হয়েছে। শুক্রবার (২ জুন) রাজধানীর লেকশোর হোটেলে বাজেট পর্যালোনায় সিপিডির পক্ষ থেকে এ কথা বলা হয়।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সিপিডির সম্মানীয় ফেলো প্রফেসর মোস্তাফিজুর রহমান বাজেটের কাঠামো প্রসঙ্গে বলেন, এই বাজেট বাস্তবায়নের বিষয়ে অনেক শঙকা রয়েছে। এটিকে আমরা অলিক ও বাস্তবতাবির্জিত বাজেট বলছি এ কারণে যে, বর্তমান চলমান অর্থনৈতিক সংকটের বিষয়গুলোকে আমলে নেওয়া য়নি। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের সময় আমরা বলেছিলাম-তখন বৈশি^ক অস্থিরতা চলছে। সেই সময় বাজেটে ডিজিপি প্রবৃদ্ধি ধরা হলো ৭.৫ শতাংশ, মূল্যস্ফীতির হার ধরা হয়েছিল ৫ দশমিক ২ শতাংশ। কিন্তু বছর শেষে এসে দেখা গেল জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ। এখন মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ। তখন ডলার রেট ছিল ৮৬ টাকা, এখন হয়েছে ১০৮ টাকা। বাস্তবতার নিরিখে বাজেট প্রস্তুত না করার কারণেই এমনটি হয়েছে।
তিনি বলেন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তুতের ক্ষেত্রেও একই পথে হেঁটেছেন অর্থমন্ত্রী। এবারও বাজেট প্রস্তুতের ক্ষেত্রে দেশে চলমান অর্থনৈতিক সংকটের বিষয়গুলোকে আমলে নেওয়া হয়নি। এ জন্যই আমরা এবারের বাজেটকি বাস্তবতাবিবর্জিত ও অলিক বাজেট বলছি। যে মূলনীতির ভিত্তিতে বাজেট করা হয়েছে তাতে ঘাটতি থাকায় বাজেট বাস্তবায়ন সমস্যা হবে। ৬ ভাগ ব্যক্তিখাতের বিনিয়োগ হবে। কাঠামগত অনুমিত ভিত্তিতে বাজেট করতে গেলে আবারও সমস্যার মুখে পড়বে।
মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, খেলাপি ঋণ নিয়ে কারো কোনো মাথা ব্যথা নেই। ২০০৯ সালে এই সরকার যখন ক্সমতায় আসে তখন খেলাপি ঋণ ছিল ২১ হাজার কোটি টাকার মতো। এখন খেলাপি ঋণ ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এই বিশাল খেলাপি ঋণ নিয়ে কারো কোনো দুশ্চিন্তা হচ্ছে না, কারো ঘুম হারাম হচ্ছে না। তাই আমরা ব্যাংকিং কমিশন গঠনের কথা বলছি দীর্ঘদিন থেকে। কিন্তু আমাদের কথা আমলে নেওয়া হচ্ছে না। দরকার হলে ইচ্ছাকৃত, অনিচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপির তালিকা করেন, তার পর সে অনুযায়ী ব্যবস্থা করুন।