প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৩, ১:৩৫ এএম
পিছিয়ে পড়া মানুষরা বিগত ১৫ বছরে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ভোগের ক্ষেত্রে অগ্রগামী হতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) ফেলো এবং নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, বিগত ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা এবং পরিসংখ্যানে এটা প্রকাশ্য সত্য যে, বাংলাদেশে বৈষম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। বৈষম্য শুধু সম্পদ কিংবা অর্থের নয়, ভোগেরও বৈষম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। পিছিয়ে পড়া মানুষগুলো শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ভোগের ক্ষেত্রে অগ্রগামী হতে পারেনি।
বুধবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ও ন্যায্যতার লক্ষ্যে নাগরিক এজেন্ডা : শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন এবং সামাজিক সুরক্ষা’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম আলোচনায় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। মিডিয়া ব্রিফিং সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান। অনুষ্ঠানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জলবায়ু বিষয়ক তিনটি ডিজিটাল ফিচার উপস্থাপন করা হয়।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, আমরা যখন ২০০৩-০৪ সালে বাৎসরিকভাবে যেসব অর্থনৈতিক মূল্যায়ন করি, সেই অর্থনৈতিক মূল্যায়নকে অতিক্রম করে সরকার যেসব প্রতিশ্রুতি দেয় সেগুলোর একটা পর্যালোচনা হওয়া বাঞ্ছনীয়। প্রথমত আমরা ২০০৩ সালে সরকারের মধ্যমেয়াদে পর্যালোচনা করি। তখন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় ছিল। তারপর ২০০৬ সালে যখন নির্বাচন আসে তখন আমাদের মনে হয়েছিল জাতীয় নির্বাচনে যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় সেগুলোর একটা পর্যালোচনা হওয়া বাঞ্ছনীয়। তখন আমরা রূপকল্প ২০২০-২১ তৈরি করি। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ একই নামে অনেক ক্ষেত্রে একই বিষয়বস্তু নিয়ে তাদের নির্বাচনি ইশতেহার তৈরি করে।
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, পরামর্শ দেওয়ার ক্ষেত্রে ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের প্রাক-নির্বাচনের সময় পরিস্থিতির কারণে উৎসাহবোধ করিনি। কিন্তু এবার নির্বাচনের প্রাক্কালে গত দেড় দশকের উন্নয়নের অভিজ্ঞতা আমরা মূল্যায়ন করার চেষ্টা করেছি। এটা করতে গিয়ে আমাদের মনে হয়েছে, জাতীয় উন্নয়নের যে আখ্যান বা বয়ান আমরা সর্বদা শুনি, সেটা কতখানি সত্যি এবং মজবুত সেটা বোঝা প্রয়োজন। সেটা বুঝতে গিয়ে বাংলাদেশের সাতটি জায়গায় বিপন্ন এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রায় ৫০০ মানুষের সঙ্গে আলোচনা করেছি।
এক প্রশ্নের জবাবে দেবপ্রিয় বলেন, বাংলাদেশে দৃশ্যমান উন্নয়ন হচ্ছে। আমরা এগিয়েছি সন্দেহ নেই। যে মানুষগুলো বিপন্ন অবস্থায় আছে, তাদের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছাতে পারিনি। উন্নয়নের মধ্যে ন্যায্যতা আনতে হবে। পিছিয়ে পড়া মানুষের হিস্যাকে সামনে আনতে হবে। উন্নয়নের ন্যায্যতা ফিরিয়ে আনাই হলো আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ। গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতাই পিছিয়ে পড়া মানুষগুলোকে জায়গা দেয়। সবচেয়ে বড় ক্রিয়া ক্ষেত্র হলো নির্বাচন। নির্বাচনের অঙ্গীকারগুলো সামনে নিয়ে আসতে হবে। পিছিয়ে পড়া মানুষগুলোর উন্নয়নকে বারবার উপস্থাপন করতে হবে।
অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শিক্ষার ক্ষেত্রে উন্নতি হলেও শিক্ষার মান রক্ষা ও ঝরে পড়া রোধ করা যায়নি। প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশু, শহরের নিম্ন আয়ের পরিবারের শিশু, ছিন্নমূল শিশু, উপকূলীয় শিশু এবং করোনাকালীন যেসব শিশু ঝরে পড়েছিল, সেসব শিশুরা পিছিয়ে আছে। উন্নয়নের ছাঁকনি নিয়ে ছেঁকে যাদের মূল ধারাতে আনার লক্ষ্য ছিল, তা থেকে তারা বের হয়ে গেছে।
সময়ের আলো/জেডআই