স্বাস্থ্য খাতের ভগ্নদশা : টিকার অপেক্ষায় বছর শেষ

এম মামুন হোসেন

প্রথম পাতা

বছরটিতে করোনা মহামারিতে বেরিয়ে এসেছে স্বাস্থ্য খাতের ভগ্নদশা। রাজনীতিবিদ, চিকিৎসক, সাংবাদিক, আমলা, ব্যাংকার, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এই প্রাণঘাতী

2020-12-30T22:01:00+00:00
2020-12-29T23:08:03+00:00
 
  শনিবার, ৬ জুন ২০২৬,
২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
প্রথম পাতা
স্বাস্থ্য খাতের ভগ্নদশা : টিকার অপেক্ষায় বছর শেষ
এম মামুন হোসেন
প্রকাশ: বুধবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২০, ১০:০১ পিএম  আপডেট: ২৯.১২.২০২০ ১১:০৮ পিএম  (ভিজিট : ৫১৬)
বছরটিতে করোনা মহামারিতে বেরিয়ে এসেছে স্বাস্থ্য খাতের ভগ্নদশা। রাজনীতিবিদ, চিকিৎসক, সাংবাদিক, আমলা, ব্যাংকার, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এই প্রাণঘাতী ভাইরাসে প্রাণ হারিয়েছেন। একদিকে করোনার প্রকোপ সামলাতে হিমশিম খেয়েছে স্বাস্থ্য খাত। সে সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতে বিভিন্ন দুর্নীতি আর দুর্বলতার বিষয়টিও সামনে এসেছে। মাস্ক কেলেঙ্কারি, রিজেন্ট হাসপাতাল, জেকেজি, আল-আশরাফ হাসপাতালে করোনাকালে চিকিৎসা জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ্যেই বেরিয়ে আসে। জনস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনাকালে স্বাস্থ্য খাতের ভগ্নদশার চিত্র বেরিয়ে এসেছে। দুর্বল মনিটরিংয়ের সুযোগে সাহেদের মতো অসাধুরা ভুঁইফোড় হাসপাতাল খুলে রমরমা বাণিজ্য করছে। মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা চলছে। অন্যদিকে এই করোনাভাইরাসের উৎস এখনও মানুষের অজানা। এর কোনো ওষুধ এখনও আবিষ্কার করা যায়নি। বিশ^জুড়ে ছড়িয়ে  পড়েছে আতঙ্ক। লকডাউনের কঠোর বিধিনিষেধে গোটা দুনিয়া অচল করে দিয়েও থামানো যায়নি ভাইরাসের বিস্তার। ধনী বা গরিবÑ কোনো দেশই নতুন এ রোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষা বলয় গড়তে সফল হয়নি। করোনার ভ্যাকসিনের অপেক্ষায় বছর শেষ। আশার বাণী হচ্ছে কিছু টিকা তৈরি হয়েছে। তবে বাংলাদেশের মানুষের হাতে তা পৌঁছাতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।
করোনাভাইরাসের কোনো ওষুধ না থাকায় ২০২০ সালের প্রায় পুরোটা সময়ই পুরো বিশ^ টিকা আবিষ্কারের অপেক্ষায় ছিল। সেই অপেক্ষার অবসান হয়েছে বছরের শেষ সময়ে এসেছে। কয়েকটি কোম্পানির টিকা ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে কার্যকর প্রমাণিত হওয়ায় বিভিন্ন দেশের অনুমতি দিতে শুরু করেছে। বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থাও কয়েকটি টিকার বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত জানাবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। ইতোমধ্যে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি তিন কোটি ডোজ করোনাভাইরাসের টিকা কিনতে সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া এবং বাংলাদেশের বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি করে সরকার।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন, এ চুক্তির অধীনে ছয় মাসে ৫০ লাখ করে মোট তিন কোটি ভ্যাকসিন পাবে বাংলাদেশ। তার আশা, টিকার প্রথম চালান জানুয়ারিতেই দেশে পৌঁছাবে। প্রত্যেক ব্যক্তিকে অক্সফোর্ডের এই টিকা দুই ডোজ করে নিতে হবে। এই তিন কোটি ডোজ টিকা বাংলাদেশের দেড় কোটি মানুষকে দেওয়া যাবে। প্রতি ডোজ টিকার দাম পড়বে পাঁচ ডলার বা ৪২৫ টাকা। টিকা কেনার জন্য ৭৩৫ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ করেছে সরকার। এসব টিকা মানুষকে দেওয়া হবে বিনামূল্যে। শুরুতে টিকা পাবেন করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে থাকা সম্মুখভাগের যোদ্ধারা।
গত বছর ডিসেম্বরের শেষে চীনের উহানে নতুন ধরনের এক নিউমোনিয়া ধরা পড়ে। শতাধিক দেশে ছড়িয়ে পড়ে এ ভাইরাস ১ লাখের বেশি মানুষকে আক্রান্ত এবং চার হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটানোর পর মার্চের ১১ তারিখ বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা এ সঙ্কটকে বৈশি^ক মহামারি ঘোষণা করে। বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল ৮ মার্চ। তা ৫ লাখ পেরিয়ে যায় ২০ ডিসেম্বর। এর মধ্যে ২ জুলাই ৪ হাজার ১৯ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়, যা এক দিনে সর্বোচ্চ শনাক্ত। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যু হয়। ১২ ডিসেম্বর তা সাত হাজার ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ৩০ জুন এক দিনেই ৬৪ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ মৃত্যু। জনস হপকিন্স বিশ^বিদ্যালয়ের তালিকায় বিশে^ শনাক্তের দিক থেকে ২৭তম স্থানে আছে বাংলাদেশ, আর মৃতের সংখ্যায় রয়েছে ৩৩তম অবস্থানে।
অতি ছোঁয়াচে এই ভাইরাস থেকে রক্ষার উপায় হিসেবে মাস্ক ব্যবহারে কথা বলা হচ্ছিল শুরু থেকে। সেই মাস্ক নিয়ে কেলেঙ্কারি ছিল মহামারির এই বছরে বাংলাদেশের অন্যতম আলোচিত ঘটনা। তারপর করোনাভাইরাসের পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিয়ে রিজেন্ট হাসপাতাল ও জেকেজি হেলথকেয়ারের জালিয়াতি-প্রতারণা দেশের স্বাস্থ্য প্রশাসনকে নাড়িয়ে দিয়ে গেছে। মহামারির সঙ্কটের শুরুতে পরীক্ষার ব্যবস্থা, সুরক্ষা সামগ্রী, হাসপাতালের আইসিইউ শয্যা, অক্সিজেন সিলিন্ডার ও ভেন্টিলেটরসহ জীবন রক্ষাকারী কিছু চিকিৎসা উপকরণের অপ্রতুলতা ছিল। ধীরে ধীরে তা কাটিয়ে ওঠা গেছে।
২১ জানুয়ারি ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে চীনের উহান থেকে আসা দুজন ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষা করা হয় আইইডিসিআরে, তবে তারা আক্রান্ত ছিলেন না। সেটাই ছিল দেশে করোনাভাইরাসের প্রথম পরীক্ষা। আইইডিসিআর প্রতিদিন দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে দেশবাসীকে হালনাগাদ খবর জানানোর পাশাপাশি সচেতনতামূলক তথ্য জানানোরও ব্যবস্থা করে। ৮ মার্চের সংবাদ সম্মেলনে দেশে প্রথমবারের মতো তিনজনের শরীরে নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ার কথা জানান আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। প্রথম শনাক্ত তিনজনের মধ্যে দুজন ছিলেন পুরুষ, একজন নারী। পুরুষ দুজন ইতালির দুটি শহর থেকে দেশে ফিরেছিলেন। তাদের মধ্যে একজনের সংস্পর্শে এসে পরিবারের ওই নারী সদস্য আক্রান্ত হন। এর ঠিক ১০ দিন পর ১৮ মার্চ করোনাভাইরাসে দেশে প্রথম মৃত্যুর খবর জানানো হয় আইইডিডিআরের সংবাদ সম্মেলনে। বিদেশফেরত সেই বাংলাদেশি নাগরিকের বয়স ছিল সত্তরের বেশি।
যেহেতু কোনো ওষুধ জানা নেই, সংক্রামক এ রোগ থেকে বাঁচতে ঘন ঘন হাত ধোয়া ও মাস্ক পরার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছিল শুরু থেকেই। দেশে যখন প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ল, বিক্রির চাপে আর মজুদদারির কারণে বাজার থেকে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও গ্লাভসসহ বিভিন্ন সুরক্ষা সামগ্রী উধাও হয়ে যায়। অনেকে চাল-তেলের মতো নিত্যপণ্য কিনেও ঘরে মজুদ করতে শুরু করেন।
মার্চে শুরু হয় দেশে দেশে লকডাউন। পুরো বিশে^ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল ততদিনে প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বিশে^র বেশিরভাগ অঞ্চলে জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়ে। মার্চের শেষে বাংলাদেশেও লকডাউনের সেই ব্যবস্থা শুরু হয়। অবশ্য সরকারিভাবে একে বলা হয় সাধারণ ছুটি। দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ১৭ মার্চ থেকেই বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বছরের শেষে এসে এখনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। টানা ৬৬ দিনের লকডাউন ওঠার পর ৩১ মে থেকে অফিস খোলার পাশাপাশি গণপরিবহন চলাচালের অনুমতি দেয় সরকার। ধীরে ধীরে শুরু হয় ফ্লাইট চলাচল। আগস্টে বিনোদন কেন্দ্রও খুলে দেওয়া শুরু হয়। এখন সবই আগের মতো চলছে। জনসমাগম এড়িয়ে চলতে বলা হলেও সেই বাস্তবতা কোথাও নেই। ঘরের বাইরে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক হলেও মানুষকে তা মানাতে না পেরে রাস্তায় ভ্রাম্যমাণ আদালত নামাতে হয়েছে সরকারকে।
করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরুর পর চিকিৎসকদের সরবরাহ করা মাস্ক এবং পিপিইর মান নিয়ে অভিযোগ আসতে থাকে চিকিৎসকদের কাছ থেকে। মানসম্মত সুরক্ষা উপকরণের অনেক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন চিকিৎসকরা। বিষয়টি এমন পর্যায়ে গড়ায় যে খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তদন্ত করার নির্দেশ দেন।
করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসা দিতে ২১ মার্চ বেসরকারি রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি করে স্বাস্থ্য অধিদফতর। সেদিন স্বাস্থ্য অধিদফতরে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবসহ মন্ত্রণালয় এবং অধিদফতরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু নমুনা পরীক্ষা না করে ভুয়া রিপোর্ট দেওয়া, সরকারের কাছে বিল নেওয়ার পর রোগীর কাছ থেকেও অর্থ নেওয়াসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে ৭ ও ৮ জুলাই অভিযান চালিয়ে রিজেন্ট হাসপাতালের মিরপুর ও উত্তরা শাখা বন্ধ করে দেয় র‌্যাব। বাতিল করা হয় হাসপাতালের অনুমোদন।
তখনই জানা যায়, লাইসেন্সের মেয়াদ নেই জেনেও স্বাস্থ্য অধিদফতর রিজেন্ট হাসপাতালকে করোনাভাইরাস চিকিৎসার জন্য ডেডিকেটেড ঘোষণা করে সমঝোতা স্মারকে সই করেছিল। ওই ঘটনায় রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ করিমকে ১৫ জুলাই গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সাহেদসহ রিজেন্ট হাসপাতালের আরও কয়েকজন কর্মকর্তা এখন কারাগারে আছেন। একইভাবে বেরিয়ে আসে জেকেজি হেলথকেয়ারের প্রতারণা।
সমালোচনার মুখে ৪ জুন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সাবেক সচিব মো. আসাদুল ইসলামকে পরিকল্পনা বিভাগে বদলি করা হয়। আসাদুলকে বদলির চার দিনের মাথায় ৮ জুন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (হাসপাতাল অনুবিভাগ) মো. সিরাজুল ইসলাম এবং অতিরিক্ত সচিব (ওষুধ প্রশাসন অনুবিভাগ) মো. ইসমাইল হোসেনকেও বদলি করা হয়। আর ১৮ জুন বদলি করা হয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কোভিড-১৯ সংক্রান্ত মিডিয়া সেলের প্রধান অতিরিক্ত সচিব মো. হাবিবুর রহমান খানকে।
১১ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদের টানাপোড়েন তৈরি হয়। এর ছয় দিনের মাথায় ২১ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের তৎকালীন মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। ২৩ জুলাই তার পদত্যাগপত্র গ্রহণের মাধ্যমে তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করে সরকার। সেদিনই স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আমিনুল হাসানকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পান অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম। এদিকে অবৈধ অস্ত্র ও জাল টাকার কারবারে জড়িত থাকার তথ্য পেয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের মহাপরিচালকের গাড়িচালক আব্দুল মালেককে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।
র‌্যাব কর্মকর্তারা বলছেন, তুরাগের দক্ষিণ কামারপাড়ায় দুটি সাততলা ভবন, একই এলাকায় একটি বিশাল ডেইরি ফার্ম, ধানমন্ডির হাতিরপুলে সাড়ে ৪ কাঠা জমিতে একটি নির্মাণাধীন ১০তলা ভবন ছাড়াও কলাবাগানসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১৫টি ফ্ল্যাট রয়েছে মালেকের। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ অর্থও জমা আছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের নানা দুর্নীতির চিত্র বেরিয়ে আসার মধ্যে অধিদফতরের অফিস সহকরী আবজাল হোসেনেরও বিপুল সম্পদের তথ্য পায় দুদক।
এক পর্যায়ে দেশে আরটিপিসিআর টেস্টের কিটের স্বল্পতা দেখা দিলে তৈরি হয় নতুন জটিলতা। তখনই দেশীয় প্রতিষ্ঠান গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যালস কোভিড-১৯ শনাক্তে র‌্যাপিড অ্যান্টিবডি কিট তৈরির ঘোষণা দেয়। কিন্তু র‌্যাপিড অ্যান্টিবডি টেস্টের কার্যকারিতা নিয়ে বিশ^জুড়ে সন্দেহ থাকায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গণস্বাস্থ্যকে অনুমতি দিতে রাজি হচ্ছিল না। এ নিয়ে দীর্ঘ বিতর্কের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) মূল্যায়ন কমিটি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কিট পরীক্ষা করে দেখে। পরে জানানো হয়, তাদের ওই জিআর কোভিড-১৯ ডট ব্লট কিট অ্যান্টিবডি চিনতে পারলেও সংক্রমণের প্রথমভাগে করোনাভাইরাস শনাক্তে কার্যকর নয়। ওই প্রতিবেদন পাওয়ার পর নতুন করোনাভাইরাস পরীক্ষায় গণস্বাস্থ্যের কিট ব্যবহারের অনুমোদন আর দেয়নি ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর। তবে বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে ১৭ সেপ্টেম্বর করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার জন্য অ্যান্টিজেন টেস্টের অনুমোদন দেয় সরকার। ৫ ডিসেম্বর দেশের ১০ জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে অ্যান্টিজেন টেস্ট শুরু হয়। দেশে এখন সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ১১২টি আরটিপিসিআর এবং ১৮টি জিন এক্সপার্ট ল্যাবে করোনাভাইরাসের পরীক্ষা হচ্ছে। এ ছাড়া ১০ জেলায় চলছে অ্যান্টিজেন পরীক্ষা। তারপরও দৈনিক নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা ২০ হাজারের নিচেই থাকছে।
করোনা আক্রান্ত রোগীদের হাসপাতালগুলোর সেবা নিয়ে সমালোচনা ছিল শুরু থেকেই। এ ছাড়াও অসংখ্য মানুষ অন্যান্য জটিলতার চিকিৎসা নিতে গিয়ে হয়রানির শিকার হয়েছেন। হয়রানির ক্ষেত্রে সরকারি হাসপাতালগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেসরকারি হাসপাতালগুলো কম যায়নি। করোনাকালে বেসরকারি হাসপাতালে রোগী ভর্তি করা গেলেও গুনতে হয় কাড়ি কাড়ি টাকা। হাসপাতালভেদে প্রতিদিন কমপক্ষে ৩৫-৫০ হাজার টাকা গুনতে হয় রোগীর স্বজনদের। যেকোনো মুহূর্তে লাইফ সাপোর্টের প্রয়োজন হতে পারে, এই মর্মে রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর নিয়ে নেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। করোনাকালে মারা যাওয়া একজন অতিরিক্ত সচিবের চিকিৎসক কন্যা অভিযোগ করেছিলেন কিডনির সমস্যা নিয়েও একের পর এক হাসপাতাল ঘুরে তার পিতাকে ভর্তি করাতে পারেননি। শেষপর্যন্ত যখন তারা বিফল হয়ে রোগীকে নিয়ে বাসায় গিয়েছিলেন পরে একজনের তদবিরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করাতে পারেন। কিন্তু আইসিইউ সুবিধা না পাওয়ার কারণে তার পিতা মারা যান।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির ১১টি খাত চিহ্নিত করে। তার মধ্যে বেশি দুর্নীতি হয়Ñ কেনাকাটা, নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি, পদায়ন, চিকিৎসাসেবা, চিকিৎসাসেবায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ব্যবহার ও ওষুধ সরবরাহ খাতে। সাদা চোখে দেখা দুর্নীতির বাইরে একটি অভিনব দুর্নীতির কথাও তখন বলে দুদক। আর তা হলো, দুর্নীতি করার জন্য অনেক অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনা। এমন যন্ত্রপাতি কেনা হয় যা পরিচালনার লোক নেই। ওইসব যন্ত্রপাতি কখনই ব্যবহার করা হয় না।




Loading...
Loading...
প্রথম পাতা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: