দিয়াবাড়ী খালে অস্ত্র উদ্ধারের জট খোলেনি সাড়ে ৪ বছরেও

আব্দুল্লাহ আল মামুন

প্রথম পাতা

রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ী খাল থেকে কয়েক দফায় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধারের পর ইতোমধ্যে পার হয়ে গেছে সাড়ে ৪ বছর। এই

2020-12-30T22:01:00+00:00
2020-12-29T23:08:35+00:00
 
  শনিবার, ৬ জুন ২০২৬,
২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
প্রথম পাতা
দিয়াবাড়ী খালে অস্ত্র উদ্ধারের জট খোলেনি সাড়ে ৪ বছরেও
অন্ধকারেই থেকে গেল রহস্য
আব্দুল্লাহ আল মামুন
প্রকাশ: বুধবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২০, ১০:০১ পিএম  আপডেট: ২৯.১২.২০২০ ১১:০৮ পিএম  (ভিজিট : ৪৪৯)
রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ী খাল থেকে কয়েক দফায় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধারের পর ইতোমধ্যে পার হয়ে গেছে সাড়ে ৪ বছর। এই দীর্ঘ সময়ে এসব অস্ত্রের উৎস ও জড়িতদের সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছুই জানতে পারেনি তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। কারা, কোথা থেকে এবং কী উদ্দেশ্যে এসব অস্ত্র এনেছিল এখন পর্যন্ত তার কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি তারা। অস্ত্রের ছবি ও অন্যান্য আলামত দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার কাছে পাঠিয়ে তথ্য জানতে চাওয়া হলেও সেভাবে সাড়া আসেনি। কবে নাগাদ পুরোপুরি খুলবে এ জট সেটিও নিশ্চিত নয়। দীর্ঘ সময় ধরে তদন্ত চললেও অন্ধকারেই থেকে গেল অস্ত্র উদ্ধারের রহস্য।
ডিএমপির উপকমিশনার (মিডিয়া) মো. ওয়ালিদ হোসেন বলেন, দিয়াবাড়ীর অস্ত্র উদ্ধার ঘটনার তদন্ত আগের অবস্থায়ই রয়েছে। বর্তমানে উল্লেখ করার মতো তেমন কোনো আপডেট নেই। ঘটনাটি পুরোপুরি ক্লুলেস হওয়ায় তদন্তকাজে সময় লাগছে। তবে কাজ অব্যাহত রয়েছে।
দিয়াবাড়ী থেকে অস্ত্র উদ্ধারের পর সে সময়ে বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের অভিমত প্রকাশ করেছিলেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। তখন অনেকে আশঙ্কা করেছিলেনÑ বড় ধরনের নাশকতা বা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে অস্ত্রগুলো আনা হয়। দেশি-বিদেশি কোনো গোষ্ঠী বা গোয়েন্দা সংস্থা এসব অস্ত্র বাংলাদেশে আনায় জড়িত থাকতে পারে। আবার কেউ পাশর্^বর্তী কোনো দেশের জন্য এসব অস্ত্র আনা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করে। কিন্তু যথাসময়ে সেসব দেশে পার করতে না পারায় এবং দেশে সাঁড়াশি অভিযান চলায় নিরাপদ মজুদের আশঙ্কায় অস্ত্রগুলো দিয়াবাড়ী খালে ফেলে দেওয়া হয়।
অস্ত্র উদ্ধারের পর তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছিলেন, এত বিশাল অস্ত্রের সঙ্গে সাধারণ কোনো অপরাধী জড়িত থাকার কথা নয়। দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশে অশান্তি সৃষ্টিকারী চক্র জড়িত বলে তিনি মন্তব্য করেন। দিয়াবাড়ীর অস্ত্র উদ্ধারের এক বছর পরে রাজধানীর অদূরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের খালে আরও একটি বড় অস্ত্রের চালান উদ্ধার হলে বিষয়টি ফের আলোচনায় আসে।
অস্ত্রগুলো উদ্ধারের পর বড় ধরনের নাশকতার সন্দেহ করা হলেও সে সময়ে কোনো ধরনের মামলা না করে তুরাগ থানায় তিনটি পৃথক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। ওই তিনটি জিডি ধরেই তদন্তকাজ শুরু করে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপ। যদিও যথাযথ ক্লু না পাওয়ায় তদন্ত বর্তমানে এক প্রকার থমকে আছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা তদন্তের সঙ্গে জড়িত সিটিটিসির স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপের উপকমিশনার (ডিসি) হিসেবে বর্তমানে দায়িত্বে রয়েছেন আবদুল মান্নান। তার আগে একই পদে দায়িত্ব পালন করেন ছানোয়ার হোসেন। তিনি বর্তমানে অ্যান্টিটেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত। এ বিষয়ে মঙ্গলবার ছানোয়ার হোসেন বলেন, আমি চলে আসার পর তদন্তের অগ্রগতি বর্তমানে কোন পর্যায়ে রয়েছে সেটি জানা নেই। এর আগে দায়িত্বে থাকাকালে অস্ত্রের ব্যাপারে খোঁজ জানতে বিভিন্ন সংস্থায় চিঠি দেওয়াসহ বেশ কিছু উদ্যোগের কথা জানান। যদিও তাতে তেমন সাড়া মেলেনি।
জিডির তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপের পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম বলেন, অস্ত্র উদ্ধারের পর শেখ নাজমুল আলমকে (বর্তমানে সিআইডিতে ডিআইজি হিসেবে কর্মরত) প্রধান করে সাত সদস্যের একটি কমিটি করে দেওয়া হয়। সে সময়ে বিভিন্ন সংস্থার কাছে অস্ত্রের বিষয়ে তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে কেউ কেউ সাড়া দিলেও অনেকে তেমন সাড়া দেয়নি। এ ছাড়া ঘটনার পরপর আদালতের মাধ্যমে উদ্ধার করা অস্ত্রগুলো সশস্ত্র বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
জানা যায়, অস্ত্র উদ্ধারের প্রথম দফায় ২০১৬ সালের ১৮ জুন উত্তরার ১৬ নম্বর সেক্টরের দিয়াবাড়ী খাল থেকে সাতটি কালো ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। সেসব ব্যাগের ভেতর থেকে ৯৫টি ৭ দশমিক ৬২ এমএম পিস্তল, ২টি ৯ এমএম পিস্তল, ৪৬২টি ম্যাগাজিন (২৬৩টি এসএমজি), ১০৬০টি গুলি, ১০টি বেয়নেট, ১৮০টি ক্লিনিং রড ও ১০৪টি স্প্রিং যুক্ত বাক্স উদ্ধার করা হয়। পরে ১৯ জুন ওই খাল থেকে আরও তিনটি ব্যাগে এসএমজির ৩২টি ম্যাগাজিন ও ৮টি ক্লিনিং রড উদ্ধার করা হয়। তৃতীয় ধাপে ২৫ জুন একই এলাকার অন্য একটি খাল থেকে তিনটি ব্যাগে ৫টি ওয়াকিটকি, ২টি ট্রান্সমিটার, ২টি ফিডার ক্যাবল, ২২টি কৌটা (যার মধ্যে ছিল আইসি, ট্রানজিস্টর, ক্যাপাসিটর ও সার্কিট), ৭ প্যাকেট বিস্ফোরক জেল, ৪০টি পলিথিনের ব্যাগে থাকা বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম এবং ৩২৫টি রুপালি ও সবুজ রঙের স্প্রিংযুক্ত বাক্স পাওয়া যায়। এ ছাড়া আরও কিছু ইলেট্রনিকস ডিভাইসও উদ্ধার করা হয়।

Loading...
Loading...
প্রথম পাতা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: