ভবিষ্যতে বাংলাদেশ যুদ্ধজাহাজ তৈরি করবে : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রথম পাতা

ভবিষ্যতে বাংলাদেশ যুদ্ধজাহাজ তৈরি করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ যুদ্ধ নয়, শান্তিতে বিশ^াস

2020-12-31T21:54:00+00:00
2020-12-30T23:26:06+00:00
 
  শনিবার, ৬ জুন ২০২৬,
২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
প্রথম পাতা
ভবিষ্যতে বাংলাদেশ যুদ্ধজাহাজ তৈরি করবে : প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২০, ৯:৫৪ পিএম  আপডেট: ৩০.১২.২০২০ ১১:২৬ পিএম  (ভিজিট : ৫১৪)
ভবিষ্যতে বাংলাদেশ যুদ্ধজাহাজ তৈরি করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ যুদ্ধ নয়, শান্তিতে বিশ^াস করে। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সব ধরনের প্রস্তুতি থাকতে হবে। বুধবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে চট্টগ্রামে নেভাল একাডেমিতে শীতকালীন রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে অংশ নিয়ে এ কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সরকারে আসার পর খুলনা শিপইয়ার্ড নৌবাহিনীর হাতে তুলে দিই। আমাদের ডকইয়ার্ড চট্টগ্রামে এবং নারায়ণগঞ্জে, সেটাও আমরা নৌবাহিনীর হাতে তুলে দিই। লক্ষ্য হলো নিজস্ব শিপইয়ার্ডে আমরা আমাদের যুদ্ধজাহাজও তৈরি করব। যার কাজ ইতোমধ্যে আমরা কিছু কিছু শুরুও করেছি। তা ছাড়া কক্সবাজারের পেকুয়াতে আমরা সাবমেরিন ঘাঁটি নির্মাণ করছি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে বলেন, এই ভূখণ্ডে নৌবাহিনীর হেডকোয়ার্টার স্থাপনে প্রথম উদ্যোগ নিয়েছিলেন জাতির পিতা। স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে ভারত ও যুগোসøাভিয়া থেকে জাহাজ নিয়ে জাতির পিতা নৌবাহিনীর যাত্রা শুরু করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নে প্রথমবারের মতো প্রতিরক্ষা নীতিমালা গঠন করলেও ১৫ আগস্টের পর স্বাধীনতার চেতনা থেকে দেশ দূরে সরে যায় বলে আক্ষেপ করেন প্রধানমন্ত্রী।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবিতেও বাংলাদেশে নৌবাহিনীর সদর দফতর করার দাবি ছিল উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা স্বাধীনতার পর মাত্র সাড়ে তিন বছরের শাসনামলেই জাতির পিতার শক্তিশালী নৌবাহিনী গড়ে তোলার প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করেন।
ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই সম্পদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও নৌবাহিনীর উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকার কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের আওতায় সমুদ্রে বিজয় এনেছে বাংলাদেশ। অথচ প্রথমবারের মতো ১৯৭৪ সালে সমুদ্রসীমা আইন জাতির পিতা প্রণয়ন করে গেলেও অতীতের সরকারগুলো কেউই সমুদ্রসীমা উদ্ধারের বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
সরকারপ্রধান বলেন, সমুদ্রসীমায় আমাদের যে অধিকার আছে, সেটা নিয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করি, আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করে আমাদের দুটি প্রতিবেশী দেশ ভারত ও মিয়ানমার, তাদের বিরুদ্ধে মামলা করলেও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে মামলা করেছিলাম এবং বিজয় অর্জন করি। বিশাল সমুদ্রসীমা আমরা অর্জন করতে সক্ষম হই।
২৭টি যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিনের সংযোজনের দৃষ্টান্ত তুলে ধরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, নৌবাহিনী এখন ত্রিমাত্রিক একটি বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।
তিনি জানান, ‘সবার সঙ্গেই বন্ধুত্ব কিন্তু শত্রুতা নয় কারও সঙ্গে’ এই নীতিতেই চলছে বাংলাদেশ। তারপরও বাংলাদেশ শান্তি চায়, যুদ্ধ নয়! কিন্তু স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে সরকার প্রতিটি বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য এই স্বাধীন দেশ সবসময় বিশ^দরবারে মাথা উঁচু করে চলবে এবং আমরা আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবরকম প্রস্তুতি নেব। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে চলমান করোনা মহামারি প্রসঙ্গ।
তিনি বলেন, আমরা জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করছি। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলো এর মধ্যে করোনা এসে যোগাযোগ, চলাচল ও অর্থনীতি সবকিছুর মধ্যে একটা স্থবিরতা নিয়ে এসেছে। দেশের মানুষের সংক্রমণের কথা মাথায় রেখে ভার্চুয়াল পরিসরে সীমিত আয়োজন করা হচ্ছে। ২০২০-এর শেষে নতুন বছরে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপিত হবে দেশে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী বছর মুজিব বর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উৎসব একসঙ্গে সীমিতভাবে সাবধানতা মেনে উদযাপন করা হবে। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় এগিয়ে যাচ্ছে সরকার। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত দেশ হিসেবে বিশে^র বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকের নবীন কর্মকর্তারাই ২০৪১ সালে নেতৃত্ব দেবেন, অগ্রগতির সৈনিক হতে হবে আপনাদের। করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও প্রতিকূল বাস্তবতায় দীর্ঘমেয়াদি এই প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাওয়ায় নেভাল একাডেমিসহ বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান সরকারপ্রধান।
অনুষ্ঠানে মিডশিপম্যান ২০১৮/এ ব্যাচ এবং ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসার (ডিইও) ২০২০/বি ব্যাচের নবীন কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ শেষ হয়। সমাপনী এই‌ আয়োজনে এ বছর বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ৩১ জন মিডশিপম্যান এবং ৩২ জন ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসারসহ ৬৩ নবীন কর্মকর্তা কমিশন লাভ করেন। এদের মধ্যে ৩ জন মহিলা মিডশিপম্যান এবং ৬ জন মহিলা ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসার রয়েছেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয় সালাম জানান নবীন কর্মকর্তারা। সামরিক রীতি অনুযায়ী নবীন এই ৬৩ কর্মকর্তা একসঙ্গে শপথ পাঠ করেন দেশসেবার। এরপর নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম শাহীন ইকবাল প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে সমাপনী ব্যাচের সেরা প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে পদক ও সোর্ড অব অনার তুলে দেন। এ বছর ডিইও/২০২০-বি ব্যাচ থেকে শ্রেষ্ঠ ফল অর্জনকারী অ্যাক্টিং সাব লেফটেন্যান্ট ফরিদুর রহমান খান বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন স্বর্ণপদক, মিডশিপম্যান হামিদ হোসেন আদনান নৌপ্রধান স্বর্ণপদক এবং সব বিষয়ে সর্বোচ্চ মান অর্জনকারী মেহরাব হোসেন অমি সোর্ড অব অনার প্রাপ্ত হন। প্রধানমন্ত্রীকে অনুষ্ঠান থেকে রাষ্ট্রীয় সালাম জানানো হয় এবং তিনি মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজও প্রত্যক্ষ করেন।
নবীন কমিশনপ্রাপ্ত অফিসারদের ২০৪১ সালের উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার স্বপ্ন সারথী আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের কমিশনপ্রাপ্ত নবীন অফিসাররা সে সময় স্ব-স্ব দায়িত্ব পালন করবেন। তখন আপনারাই হবেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। কাজেই এ দেশের লক্ষ্যÑ ২০৪১ অর্জনের ক্ষেত্রে আপনারাই মূল সৈনিক হিসেবে কাজ করবেন এবং দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবেন।
তিনি বলেন, আমি আশা করি, চাকরি বা ব্যক্তি জীবনের যেকোনো সঙ্কট অতিক্রমে আমাদের এই নবীন অফিসাররা সব থেকে বেশি দক্ষ হবে। তোমরা যেন উন্নত জীবনযাপন করতে পার এবং দেশের সেবা করতে পার, সে জন্য আমার দোয়া থাকল তোমাদের জন্য।
তিনি এ সময় জাতির পিতার নির্দেশনা সবাইকে মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে ১৯৭৪ সালের ১০ ডিসেম্বর নৌবাহিনী দিবস উপলক্ষে জাতির পিতার দেওয়া ভাষণের চুম্বক অংশ উদ্ধৃত করেন।
জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘যে জাতি নিজেকে সম্মান করতে পারে না, আত্মমর্যাদা রক্ষা করতে পারে না, সে জাতি দুনিয়ায় কোনোদিন বড় হতে পারে না। সে জন্য আজকে আমরা আত্মমর্যাদা বিশিষ্ট জাতি হিসেবে, আত্মমর্যাদা নিয়ে বাস করতে চাই। আমরা অন্য কারও বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চাই না। অন্য কেউ আমাদের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করুক তাও আমরা সহ্য করব না। আমরা এই নীতিতেই বিশ^াসী।
‘দেশের একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না’ সেই নীতি নিয়ে সরকার সারা দেশে গৃহহীনদের বাড়িঘর নির্মাণ করে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছে এবং নৌবাহিনীর মাধ্যমে সরকারের এই আশ্রয়ণ প্রকল্পের শুরু হয় বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ১৯৯৭ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর সেন্টমার্টিন দ্বীপে আশ্রয় গ্রহণকারী ৭০টি ভূমিহীন পরিবারকে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে দিয়েছিল বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পেরও সেই থেকে শুরু। তারপর থেকে সারা দেশে সেনাবাহিনী, বিভিন্ন বাহিনী ও প্রশাসনের সহায়তায় সরকার এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।
শেখ হাসিনা বলেন, মুজিব বর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশে আর একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না, সেটা পূরণই আমাদের লক্ষ্য, যা আমাদের দারিদ্র্য বিমোচন এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
দেশের উন্নয়নে বর্তমান সরকারের পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার সঙ্গে ১০ ও ২০ বছর মেয়াদি প্রেক্ষিত পরিকল্পনা এবং শতবর্ষ মেয়াদি ‘ডেল্টা পরিকল্পনা-২১০০’ বাস্তবায়নের পদক্ষেপও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আজকে যে শিশুটি জন্মগ্রহণ করেছে তার ভবিষ্যৎটা কেমন হবে সেই চিন্তা থেকেই এসব পরিকল্পনা করা হয়েছে।




Loading...
Loading...
প্রথম পাতা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: