ভালো যাবে আগামী বছরের অর্থনীতি
ক্রয় কমিটির বৈঠকে বললেন অর্থমন্ত্রী
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২০, ১০:১৮ পিএম (ভিজিট : ৩৪৬)
ষ নিজস্ব প্রতিবেদক
মহামারি করোনাভাইরাস বাংলাদেশের অর্থনীতিকে বাধাগ্রস্ত করলেও প্রতিটা সূচক ভালো অবস্থানে আছে। নতুন বছর অর্থাৎ আগামী বছরও দেশের অর্থনীতি ভালো যাবে। তিনি বলেন, আমরা সবসময় ভালোটাই প্রত্যাশা করি। সবাই ভালো করে জানে ২০২০ সালের জন্য বিশ^ব্যাংক ও আইএমএফ প্রক্ষেপণ করেছে সারা বিশে^র অর্থনীতি গত বছরের তুলনায় চার শতাংশ কম হবে। আর এশিয়ার দেশগুলোর জন্য তারা বলেছেন ১ দশমিক ৭ শতাংশ কম হবে। এতে উন্নত দেশগুলোতে সঙ্কট বেশি হবে।
বুধবার অনলাইনে সিঙ্গাপুরে অবস্থানরত অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সবাইকে ইংরেজি নতুন বর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ বৈঠকে অর্থনৈতিক-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে একটি প্রস্তাব ছিল। আর ক্রয়-সংক্রান্ত কমিটিতে প্রস্তাব ছিল আটটি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মনে করি আমাদের এখনও করোনা শেষ হয়নি। করোনা শুরু হওয়ার পর থেকে আমরা যেভাবে মোকাবিলা করেছি। আমরা মোটামুটি বা তুলনামূলকভাবে একটা অবস্থানে আছি। তাই আমরা একইভাবে মনে করব আমাদের অর্থনীতি আগামী বছরও ভালো যাবে। করোনার কারণে চলতি বছর খুব চ্যালেঞ্জিং ছিল, তারপরও আমরা খুব ভালো করেছি পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায়।’
তিনি বলেন, আমাদের অর্থনীতির প্রতিটা সূচকেই আমরা ভালো অবস্থানে আছি ও সবক্ষেত্রেই আমাদের অগ্রগতি আছে। যেহেতু আমরা ভালো অবস্থানে আছি সেহেতু আমাদের আগামী বছরও ইনশাআল্লাহ ভালো যাবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘কালকের পরই নতুন বছর, সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাই। আমাদের প্রত্যাশাগুলো আল্লাহ তায়ালা পূরণ করবেন এবং আমাদের জীবন আরও সাবলীলভাবে অগ্রসরমাণ হবে সেটাই আমার প্রত্যাশা। অর্থনৈতিক-সংক্রান্ত সভায় একটি প্রকল্প ছিল আর ক্রয়-সংক্রান্ত আটটি প্রকল্প ছিল।’
ভারত থেকে আরও ৫০ হাজার টন চাল কিনবে সরকার
এদিকে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ভারত থেকে আরও ৫০ হাজার টন নন-বাসমতি সিদ্ধ চাল ক্রয়ের অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। বৈঠকে মোস্তফা কামাল বলেন, বৈঠকে আট প্রস্তাব উত্থাপন করা হলেও সড়ক ও জনপথ বিভাগের দুটি এবং বিদ্যুৎ বিভাগের একটি প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া টেবিলে চাল ক্রয়ের একটি প্রস্তাবের অুনমোদন দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, টেবিলে উত্থাপিত ৫০ হাজার টন নন-বাসমতি সিদ্ধ চাল ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যার মূল্য ধরা হয়েছে ১৬৮ কোটি ৬২ লাখ ৯০ হাজার ৪০০ টাকা। সুপারিশকৃত দরদাতা হচ্ছে ভারতের বীরভূমের এমএসপিকে এগ্রি লিংক প্রাইভেট লিমিটেড। প্রতিটন চালের দাম ৩৯৭ দশমিক ৭১ মার্কিন ডলার। আর প্রতিকেজি চালের মূল্য বাংলাদেশি টাকায় ভ্যাট ছাড়া ৩৩ দশমিক ৭২ টাকা।
এর আগে গত ৩ ও ৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক কোটেশনের মাধ্যমে ২০২০-২১ অর্থবছরে জন্য ৫০ হাজার করে ১ লাখ টন নন-বাসমতি সিদ্ধ চাল ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার। তখন প্রতিকেজি চালের দাম ধরা হয়েছিল ৩৪ টাকা ২৮ পয়সা এবং ৩৫ টাকা ২৭ পয়সা। আর প্রতিটনে ক্রয়মূল্য যথাক্রমে ৪০৪ দশমিক ৩৫ ও ৪১৬ মার্কিন ডলার। এ ছাড়া সুপারিশকৃত দরদাতা হচ্ছে ভারতের মুম্বাইয়ে এমএস রিকা গ্লোবাল ইমপ্যাক্টস লিমিটেড ও পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমের এমএসপিকে এগ্রি লিংক প্রাইভেট লিমিটেড।