প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২০, ১০:১৮ পিএম (ভিজিট : ৪৩৬)
ষ নিজস্ব প্রতিবেদক
বৈশি^ক মহামারি করোনাভাইরাস বাংলাদেশে হানা দেয় গত মার্চ মাসে। ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে প্রথম মৃত্যুর খবর আসে ১৬ এপ্রিল। এই করোনাকালে মারা গেছেন দেশের বিশিষ্ট ৩৩ জন ব্যবসায়ী-শিল্পপতি। তাদের অনেকেই করোনায় আক্রান্ত ছিলেন। অন্যান্য শারীরিক জটিলতায় মারা গেছেন কয়েকজন।
যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাবুল করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান ১৩ জুলাই ৭৪ বছর বয়সে। চিকিৎসাধীন তিনি শেষ নিশ^াস ত্যাগ করেন। গত ১ জুলাই দেশের অন্যতম বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান লতিফুর রহমান মারা যান। ৭৫ বছর বয়সি লতিফুর রহমান করোনাভাইরাস মহামারি শুরুর পর থেকেই কুমিল্লার গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। তিনি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন না। তবে দীর্ঘদিন ধরেই ফুসফুসের সমস্যাসহ বার্ধক্যজনিত আরও কিছু জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি।
দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পারটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য এমএ হাসেম করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ২৩ ডিসেম্বর রাতে মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। এর আগে ১১ ডিসেম্বর কারোনা শনাক্ত হওয়ার পর এমএ হাসেমকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ১৬ ডিসেম্বর থেকে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল।
করোনায় প্রাণ হারিয়েছেন এস আলম গ্রুপ ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের পরিচালক মোরশেদুল আলম। তিনি এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেমন ইস্পাত লিমিটেডের চেয়ারম্যান ছিলেন। ৬৫ বছর বয়সে চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে ২২ মে তার মৃত্যু হয়।
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে অন্যতম বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান আকিজ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা সেখ আকিজ উদ্দিনের মেজো ছেলে ও আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের পরিচালক শেখ মোমিন উদ্দিন মারা যান গত ২৪ আগস্ট। তার বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর।
করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন চট্টগ্রামের আরেক শিল্পপতি হাসান মাহমুদ চৌধুরী। ৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। তিনি লাতিন আমেরিকা বাংলাদেশ চেম্বারের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও থাই চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
৩০ মে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস ও শান্ত-মারিয়াম বিশ^বিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান ইমামুল কবির শান্ত। গত ২১ মে করোনা শনাক্ত হওয়ার পর তাকে রাজধানীর হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে গত ২৭ মে তাকে সিএমএইচে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন ৩০ মে সকালে তার মৃত্যু হয়।
বেসকারি হাসপাতাল পপুলারের চেয়ারপারসন তাহেরা খানম ১০ জুন মারা যান। তার করোনা পজিটিভ থাকলেও হৃদরোগের কারণে তিনি ঢাকার অন্য একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। সেখানেই তার মৃত্যু হয়। দেশের সুপরিচিত শিল্পগোষ্ঠী আবদুল মোনেম লিমিটেডের (এএমএল) প্রতিষ্ঠাতা আবদুল মোনেম মারা যান ৩১ মে। ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে তিনি মারা যান। ১৭ মে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তিনি কিডনি রোগেও ভুগছিলেন। ২৫ জুন মারা যান শিল্পপতি হাসান জামিল সাত্তার। তিনি ছিলেন ময়নামতি টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর।
চা শিল্পের খ্যাতিমান ব্যবসায়ী আজমত মঈন ৬৮ বছর বয়সে রাজধানীর একটি হাসপাতালে মারা যান। তিনি ছিলেন মৌলভী চা কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও সুরমা চা কোম্পানির পরিচালক। এ ছাড়া পোশাক শিল্পপ্রতিষ্ঠান অ্যাপারেল ফেয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন মাহমুদ, বাংলাদেশ হোটেল অ্যান্ড গেস্টহাউস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সদস্য সাদিক আহসান, বাংলাদেশ প্লাস্টিক রাবার সু মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন ও সাবেক এফবিসিসিআই সদস্য হাজী মো. মনসুর আলী, বাংলাদেশ পেপার মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি আলহাজ সিরাজ উদ্দিন দেওয়ান, বাংলাদেশ পাথর ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি হাজী নুরুল ইসলাম, বাংলাদেশ ড্রেস মেকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হাজী মো. আব্দুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ রি-রোলিং মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি ও সাবেক এফবিসিসিআই পর্ষদ সদস্য আবু বকর সিদ্দিক, বাংলাদেশ চিনি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলহাজ শের মোহাম্মদ, ন্যাশনাল কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. কামরুল হুসেন চৌধুরী (গোর্কি), বাংলাদেশ মনিহারি বণিক সমিতির সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম খান, বাংলাদেশ মেটাল ওয়্যার অ্যান্ড ওয়্যারনেইলস মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশন সহসভাপতি মো. মোবারক হোসেন, রয়েল ট্রেডিং করপোরেশনের স্বত্বাধিকারী বদরুল হুদা মুকুল, এফবিসিসিআইয়ের সদস্য মো. হাবিবুল্লাহ ও বাংলাদেশ পোদ্দার সমিতির সভাপতি ও এফবিসিসিআইয়ের সদস্য মো. বাচ্চু মিঞাও এই করোনাকালে মারা গেছেন।
মারা যাওয়া ব্যবসায়ীর মধ্যে আরও আছেন ইস্ট ওয়েস্ট ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশিদ, রহমত গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ মোহাম্মদ আলী সরকার, এনএফকে টেক্সটাইলস লিমিটেডের চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান, পার্ল প্রিনস বিডি লিমিটেডের চেয়ারম্যান তসলিম আক্তার ও অ্যাপারেল ফেয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন মাহমুদ। এদিকে, এপেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী করোনা থেকে সুস্থ হলেও তার স্ত্রী নিলুফার মঞ্জুর মারা যান। তিনি সানবিম স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ও এসএমসির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।