
ভৈরবে কয়লা শ্রমিক এহসানুল হক হত্যার প্রধান আসামী মোঃ ইমন (২৩) পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে। গতকাল বুধবার রাতে পৌর শহরের চন্ডিবের এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। শহরের ভৈরবপুর উত্তর পাড়া এলাকার আড়াই বেপারীর বাড়ীর বাসিন্দা মোঃ মাসুদ মিয়ার ছেলে ইমন। হত্যার ঘটনার সাথে আরও দুজন জড়িত আছে বলে পুলিশ জানায়। তবে ওই দুজন ঘটনার পর পালিয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্রেফতারকৃত ইমন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করে। কিশোরগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্যাট মোঃ রফিকুল বারী আজ বিকেল ৫টায় তার খাস কামরায় ইমনের জবানবন্দি গ্রহণ করেন।
জবানবন্দিতে সে জানায় , শ্রমিক এহসানুলকে তার মারার ইচ্ছা ছিল না। এহসানুলের সঙ্গীয় বন্ধুকে ধরে পরিচয় জিজ্ঞাসা করলে সে আমাকে মারতে আসে। এসময় আমি উত্তেজিত হয়ে তাকে আহত করতে ছুরিকাঘাত করি। এসময় ছুরিকাঘাতে শ্রমিক এহসানুল মারা যায়। আসামী ইমনের সাথে আরও দুজন বন্ধু ছিল বলে সে আদালতে জবানবন্দিতে জানায়।
গত সোমবার ভৈরব ফেরিঘাটের শ্রমিক এহসানুল হক তার সুনামগঞ্জের বাড়ি যেতে রাত ১০ টার দিকে স্থানীয় বাসস্ট্যান্ডে বাসে উঠতে আসে। এসময় ভৈরবের র্দুর্ধষ ছিনতাইকারী ইমনসহ তিনজন তাকে ছুরিকাঘাত করলে সে গুরুতর আহত হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে।
ঘটনার পর অপরাধীরা পালিয়ে যায়। তখন পুলিশ অপরাধীদের চিহ্নিত করতে পারেনি। হত্যার খবর পেয়ে ঘটনার দিন প্রায় কয়েকশ শ্রমিক থানায় অবস্থান করে অপরাধীদের গ্রেফতারের দাবি জানায়। পরে পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে ইমন তার বন্ধুদের নিয়ে এই ঘটনা ঘটায়। তারপর বুধবার পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তাকে শহরের চন্ডিবের এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। তাকে গ্রেফতারের সময় সে পুলিশকে লাঞ্ছিত করে বলে পুলিশ জানায়।
ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শাহিন জানান, ইমন ভৈরব এলাকার দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। বুধবার গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। বৃহস্পতিবার বিকেলে সে আদালতে জবানবন্দি দিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করে। ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান ।