মো. তামিম সিফাতুল্লাহ
প্রকাশ: সোমবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২১, ১০:৫৬ পিএম (ভিজিট : ৯৪৯২)
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মানুষকে তার প্রয়োজনীয় রিজিক দিয়ে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। কাউকে কম, কাউকে বেশি। তবে সবাইকে তিনি রিজিক অন্বেষণ করে নিতে বলেছেন। আর এ অন্বেষণের উপায়-উপকরণ হতে হবে হালাল উপায়ে। হারাম রিজিক মানুষের ঈমান-আমল-আখেরাত ধ্বংস করে দেয়। সব ইবাদত-বন্দেগিও বৃথা হয়ে যায়। পক্ষান্তরে হালাল রিজিক অন্বেষণ করলে ইবাদতেরও সওয়াব পাওয়া যায়। রিজিক অন্বেষণের গুরুত্ব দিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘অতঃপর নামাজ সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ তালাশ কর ও আল্লাহকে অধিক স্মরণ কর, তোমরা সফলকাম হবে।’ (সুরা জুমা : ১০)
হালাল উপায়ে রিজিক অন্বেষণ করতে গিয়ে কোনোভাবেই হতাশ হওয়া যাবে না। প্রতিনিয়ত আল্লাহ তায়ালার ওপর ভরসা রাখতে হবে। মহান আল্লাহর সাহায্য কামনা করতে হবে। এ ব্যাপারে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, ‘পৃথিবীতে বিচরণশীল যত প্রাণী রয়েছে, সবার জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহ নিয়েছেন, তিনি জানেন তারা কোথায় থাকে এবং কোথায় সমাপিত হয়। সব কিছুই এক সুবিন্যস্ত কিতাবে রয়েছে।’ (সুরা হুদ : ৬)। আসলে বান্দার জন্য মহান আল্লাহর সবচেয়ে বড় অনুগ্রহ হালাল রিজিক। বিভিন্ন উপায়ে তিনি বান্দাকে রিজিক দিয়ে থাকেন। হালাল রিজিক লাভে কোরআন হাদিসে সুন্দর নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এখানে ছয়টি পন্থা বিবৃত হচ্ছে। যথাযথভাবে এসব মেনে চললে আল্লাহ তায়ালা হালাল রিজিকের পথ খুলে দেবেন ইনশাল্লাহ।
আল্লাহর ভয়
আল্লাহকে যে যত বেশি ভয় করবে আল্লাহ তায়ালা ওই ব্যক্তির তত সহায় হবেন এবং কল্পনাতীতভাবে দান করবেন রিজিক। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য নিষ্কৃতির পথ করে দেবেন। আর তাকে তার ধারণাতীত জায়গা থেকে রিজিক দেবেন।’ (সুরা তালাক : ২-৩)
আল্লাহর ওপর ভরসা
আল্লাহর প্রতি একান্তভাবে ভরসা করলে শুধু রিজিকই নয় বরং মহান আল্লাহ ওই বান্দার সব কিছুর ব্যাপারে যথেষ্ট হয়ে যান। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে তার জন্য তিনিই যথেষ্ট। আল্লাহ তার কাজ পূর্ণ করবেন। আল্লাহ সব কিছুর জন্য একটি পরিমাণ স্থির করে রেখেছেন।’ (সুরা তালাক : আয়াত ৩)
করজে হাসানা ও সদকা
কোনো ব্যক্তি যখন আল্লাহর রাস্তায় সম্পদ খরচ করবে, দান-সাদকা করবে কিংবা অন্যকে উত্তম ঋণ দান করবে, তখন আল্লাহ তায়ালা ওই বান্দার রিজিক অনেকগুণ বাড়িয়ে দেবেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘এমন কে আছে যে, আল্লাহকে করজ দেবে, উত্তম করজ; অতঃপর আল্লাহ তাকে দ্বিগুণ-বহু গুণ বৃদ্ধি করে দেবেন? আল্লাহই সঙ্কোচিত করেন এবং তিনিই প্রশস্ততা দান করেন এবং তাঁরই কাছে তোমরা সবাই ফিরে যাবে।’ (সুরা বাকারা : ২৪৫)
শুকরিয়া জ্ঞাপন
সুখে-দুঃখে সব সময় আল্লাহর শুকরিয়া বা কৃতজ্ঞতা আদায় করলে বান্দার প্রাপ্তি ও চাহিদাকে আল্লাহ পূরণ করে দেবেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যখন তোমাদের রব ঘোষণা দিলেন, যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় কর, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের আরও বাড়িয়ে দেব। আর যদি তোমরা অকৃতজ্ঞ হও, নিশ্চয় আমার আজাব বড়ই কঠিন।’ (সুরা ইবরাহিম : ৭)
ইস্তেগফার পড়া
আল্লাহ ক্ষমাশীল, তিনি ক্ষমা প্রার্থনাকারীকে ভালোবাসেন। ক্ষমা প্রার্থনায় যেসব নেয়ামত লাভ হয়, এর মধ্যে রিজিকের প্রাধান্যই বেশি। আল্লাহ তায়ালা হজরত নুহকে (আ.) দেওয়া নসিহতে তাই বলেছেন, ‘অতঃপর আমি নুহকে বলেছি, তোমরা তোমাদের পালন কর্তার ক্ষমা প্রার্থনা কর। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর অজস্র (রিজিক উৎপাদনে) বৃষ্টিধারা ছেড়ে দেবেন, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দেবেন, তোমাদের জন্য উদ্যান স্থাপন করবেন এবং তোমাদের জন্য নদী-নালা প্রবাহিত করবেন।’ (সুরা নুহ : ১০-১২)
আত্মীয় সম্পর্ক অটুট
আত্মীয়তার সম্পর্ক ঠিক রাখা মহান আল্লাহর অন্যতম নির্দেশ। এ ইবাদতে শুধু রিজিক বাড়ে এমন নয়, বরং হায়াতও বাড়ে বলে উল্লেখ করেছেন বিশ^নবী (সা.)। হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিতÑ আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কামনা করে যে তার রিজিক বেড়ে যাক এবং হায়াত (জীবন) দীর্ঘায়িত হোক; সে যেন আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করে।’ (বুখারি : ৫৯৮৬)। প্রত্যেক মুসলমানের কোরআন সুন্নাহয় ঘোষিত উল্লেখিত নসিহতগুলো মোতাবেক জীবন পরিচালনা করা কর্তব্য। হালাল ও উত্তম রিজিক লাভে আল্লাহর কাছে তার সেখানো পদ্ধতিতে চেষ্টা করা। আল্লাহ তায়ালা সবাইকে উত্তম রিজিক লাভের তওফিক দান করুন। কোরআন সুন্নাহর নসিহত মেনে চলার তওফিক দান করুন। আমিন।
লেখক : শিক্ষার্থী, মদীনাতুল উলুম কামিল
মাদ্রাসা, রাজশাহী সদর