প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন, ২০২১, ১১:৫৮ পিএম (ভিজিট : ৫২৭)
সচেতনতা ও সদিচ্ছা থাকলে খুব সহজ কিছু আমলের মাধ্যমে জীবনকে সুন্দর করা যায়। এজন্য রাসুল (সা.)-এর দিন-রাতের কিছু স্বভাব বা গুণ নিজের মধ্যে আনার চেষ্টা করতে পারি। ছোট ছোট এসব আমল খুব কঠিন কিছু না। তবে এসব আমলের কোনটি মহান আল্লাহর নিকট বেশি পছন্দনীয় হয়ে যায়Ñ তা আমরা জানি না। সুতরাং আমাদের উচিত আমল ছোট হোক কিংবা বড়, বেশি হোক কিংবা অল্পÑ নিয়মিত তা করার সর্বাত্মক চেষ্টা করা।
যেকোনো ভালো কাজে ডান দিককে প্রাধান্য দেওয়া নবীজির (সা.) অন্যতম আদর্শ ছিল। আমরাও এই আমলটি সহজে করতে পারি। আবু দাউদের ৪১৪১নং হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) জামা-পায়জামাসহ সব প্রকার পোশাক পরিধানের সময় ডান হাত ও ডান পা আগে ব্যবহার করতেন। অনুরূপ জুতা পরিধান ও খোলার ক্ষেত্রেও ডান দিককে প্রাধান্য দেওয়া। অর্থাৎ পরিধানের সময় প্রথমে ডান পা দিয়ে শুরু করা এবং খোলার সময় বাম পা দিয়ে শুরু করা। বাড়িতে এবং মসজিদেও আমাদের দৈনিক প্রবেশ করতে হয় এবং বের হতে হয়, ডান পা দিয়ে প্রবেশ এবং বাম পা দিয়ে বের হলে তো তেমন কঠিন হয় না। হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) মসজিদে প্রবেশের সময় ডান পা ও বের হওয়ার সময় বাম পা ব্যবহার করতেন। (বাইহাকি : ২/৪৪২)
বিভিন্ন সময় কফ-থুথু ফেলা প্রয়োজন হয়। পথ চলতে গিয়ে কিংবা কারও সঙ্গে কথা বলার সময় অজান্তেই কফ-থুথু ফেলে থাকি। এ ক্ষেত্রেও একটু সচেতন হলেই অর্জন করতে পারি সুন্নতের সওয়াব এবং বেঁচে যেতে পারি কঠিন হুঁশিয়ারি থেকে। বুখারির ৪১৫নং হাদিসে ও সহিহ মুসলিমের ১২৫৫নং হাদিসে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কেবলার দিকে যে কফ ফেলে তার চেহারায় ওই কফ থাকা অবস্থায় সে ব্যক্তিকে কেয়ামতের দিন পুনরুত্থিত করা হবে।’
আর আমরা যেহেতু নিয়মিত পথ দিয়ে চলাচল করে
থাকি, পথের কষ্টদায়ক বস্তু দেখলে তা সরিয়ে দিতে পারি। একটু কষ্টের ফলে সবার জন্য কল্যাণই বয়ে আনে। সহিহ বুখারির ৬২২৯নং হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন এবং তা ঈমানের সর্বনিম্ন শাখা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
পোশাকের ক্ষেত্রে ঢিলেঢালা এবং সুন্নাহসম্মত পোশাক পরিধান করা চাই। তবে সময়ের পরিবর্তনে এবং অবস্থার প্রেক্ষিতে অনেক সময় সুন্নাহসম্মত পাঞ্জাবি-পাজামা পরতে না পারলে এবং শার্ট-প্যান্ট ব্যবহার করতে হলে চেষ্টা করতে পারি প্যান্ট যেন টাখনুর নিচে নেমে না যায়। সহিহ বুখারির ৫৭৮৪নং হাদিসে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে কোনো পোশাক পরিধান করবে, আল্লাহ তায়ালা কেয়ামতের দিন তার প্রতি রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না।’ অন্য বর্ণনায়, রাসুল (সা.) বলেছেন, কাপড়ের যে অংশ টাখনুর নিচে যাবে, সে অংশ জাহান্নামে যাবে।
অফিসে যাওয়া-আসার পথে বা ঘরেও অনেক সময় নষ্ট করি। স্মার্ট ফোনে ফেসবুক, মেসেঞ্জার, টুইটার, ইউটিউব ইত্যাদি অ্যাপস দীর্ঘক্ষণ ব্যবহারে সময় ব্যয় করে থাকি। যখন বিশেষ কোনো কাজ করা যায় না বা এসব ডিভাইস ব্যবহারে লিপ্ত থাকি, একটু সচেতন হয়ে সে সময়গুলো কাজে লাগাতে পারি। অতি প্রয়োজনীয় কাজটুকু করে কোরআন অ্যাপসে একটু সময় দিতে পারি। কোরআন তেলাওয়াত করা, কিংবা কোরআনের অর্থ-তাফসির পড়া বা শোনায় সময় কাটাতে পারি।
জীবনে চলার পথে, যাপিত জীবনে এ রকম অনেক ছোট ছোট পদক্ষেপে একটু সচেতন হলেই সুন্দর করতে পারি আমাদের দুনিয়া এবং আখেরাত। এসব ছোট ছোট আমলে অনেক কল্যাণ নিহিত থাকে। যদি এরূপ আমলগুলোর মাধ্যমে নিজেদের চরিত্র সুন্দর করতে চেষ্টা করি তা হলে বড় আমল বা ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অনুসরণ করা অভ্যাসে পরিণত হয়ে উঠবে ইনশাল্লাহ।