অনাড়ম্বর জীবনযাপনের উপকার

আকরাম হোসাইন

সম্পদের প্রতি অতিরিক্ত লোভ ভালো নয়। এমন লোভকে ইসলামে নিন্দা করা হয়েছে। হজরত কাব ইবনে মালিক আল-আনসারী (রা.) থেকে বর্ণিতÑ

2021-06-24T23:58:00+00:00
2021-06-24T23:58:00+00:00
 
  সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অনাড়ম্বর জীবনযাপনের উপকার
আকরাম হোসাইন
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন, ২০২১, ১১:৫৮ পিএম 
সম্পদের প্রতি অতিরিক্ত লোভ ভালো নয়। এমন লোভকে ইসলামে নিন্দা করা হয়েছে। হজরত কাব ইবনে মালিক আল-আনসারী (রা.) থেকে বর্ণিতÑ তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘দুটি ক্ষুধার্ত নেকড়ে বাঘকে ছাগলের পালে ছেড়ে দেওয়া হলে পরে তা যতটুকু না ক্ষতিসাধন করে, কারও সম্পদ ও প্রতিপত্তির লোভ এর চেয়ে বেশি ক্ষতিসাধন করে তার ধর্মের।’ (তিরমিজি : হাদিস ২৩৭৬)অন্যদিকে যারা সম্পদের প্রতি লোভ রাখে না, যতটুকু আছে তাতেই সন্তুষ্ট থাকে, তাদের প্রশংসা করা হয়েছে। হজরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিতÑ রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমার বন্ধুদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঈর্ষণীয় হলো সেই মুমিন ব্যক্তি যার অবস্থা খুবই হালকা (স্বল্প সম্পদ এবং পরিবারের সদস্য সংখ্যাও কম) এবং যে নামাজে মনোযোগী, সুচারুরূপে তার প্রভুর ইবাদত করে, একান্ত নিভৃতেও তাঁর অনুগত থাকে, মানুষের মাঝে অখ্যাত, তাঁর দিকে আঙুল দিয়ে ইশারা করা হয় না, আর ন্যূনতম প্রয়োজন মাফিক তাঁর রিজিক এবং তাতেই ধৈর্য ধারণকারী। তারপর রাসুল (সা.) তাঁর দুই হাতের ইঙ্গিতে বলেনÑ শিগগিরই তার মৃত্যু হয়, তার জন্য ক্রন্দনকারীর সংখ্যাও কম, তার রেখে যাওয়া সম্পদও খুব সামান্য।’ (তিরমিজি : হাদিস : ২৩৪৭)
প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দারিদ্র্য পছন্দ করতেন, দরিদ্রদের ভালোবাসতেন এবং তাদের সঙ্গে থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিতÑ রাসুল (সা.) দোয়া করে বলেন, হে আল্লাহ! তুমি আমাকে দরিদ্র অবস্থায় বাঁচিয়ে রাখ, দরিদ্র থাকাবস্থায় মৃত্যু দিও এবং কিয়ামত দিবসে দরিদ্রদের দলভুক্ত করে হাশর করো। এ কথা শুনে হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি এমন বলছেন কেন? তিনি বললেন, হে আয়েশা! তারা তো তাদের সম্পদশালীদের চেয়ে চল্লিশ বছর পূর্বে জান্নাতে প্রবেশ করবে। হে আয়েশা! তুমি প্রার্থনাকারী দরিদ্রকে ফিরিয়ে দিও না। যদি দেওয়ার মতো কিছু তোমার নিকট না থাকে, তা হলে একটি খেজুরের টুকরা হলেও তাকে দিও। হে আয়েশা! তুমি দরিদ্রদের ভালোবাসবে এবং তাদেরকে তোমার সান্নিধ্যে রাখবে। তা হলে কেয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা তোমাকে তাঁর সান্নিধ্যে রাখবেন। (তিরমিজি : হাদিস ২৩৫২)
Advertisement
আমাদের প্রিয় নবীজি (সা.) দরিদ্র ছিলেন। তবে এ দরিদ্রতায় ছিল না কোনো মুখাপেক্ষিতা। ছিল শুধু সম্পদের প্রতি অমুখাপেক্ষিতা। আর এই অমুখাপেক্ষিতাই ছিল তাঁর এক অনন্য বৈশিষ্ট্য, যা বড় বড় রাজা-বাদশাহরও ছিল না। উল্লেখ্য, প্রিয় নবীজি (সা.)-এর ওফাতের সময় তাঁর বাড়িতে মাত্র সাতটি স্বর্ণমুদ্রা ছিল। অথচ তিনি তাও গরিবদের মাঝে বিলিয়ে দেওয়ার অসিয়ত করে গেছেন এবং বলেছেনÑ ‘আমার লজ্জা হচ্ছে, ঘরে পার্থিব সম্পদ রেখে আল্লাহর রাসুল আল্লাহর সান্নিধ্যে যাবে!’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২৪২২২)। হে আল্লাহ! আমাদের সবাইকে প্রিয় নবীজির (সা.) জীবন ও আদর্শ অনুধাবন ও অনুসরণের তওফিক দান করুন।


Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: