আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভালোবাসা

মাহবুবুর রহমান নোমানি

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করবেনÑ যারা আমার সন্তুষ্টির জন্য একে অন্যকে ভালোবেসেছিল, তারা কোথায়? আজ আমি

2021-02-12T22:35:00+00:00
2021-02-12T22:35:00+00:00
 
  সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬,
১ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভালোবাসা
মাহবুবুর রহমান নোমানি
প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ১০:৩৫ পিএম   (ভিজিট : ১৪৭৮)
 রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করবেনÑ যারা আমার সন্তুষ্টির জন্য একে অন্যকে ভালোবেসেছিল, তারা কোথায়? আজ আমি তাদের আমার আরশের ছায়াতলে আশ্রয় দান করব।’ (মুসলিম : ২৫৬৬)। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, ‘আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যারা পরস্পরে ভালোবাসার সম্পর্ক রাখে, কেয়ামতের দিন তাদের জন্য নুরের মিম্বর স্থাপন করা হবে। যা দেখে নবী এবং শহীদগণ ঈর্ষা করবেন।’ (তিরমিজি : ২৩৯০)। তাই, ভালোবাসা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হওয়া চাই। ১৪ ফেব্রæয়ারির তথাকথিত অবৈধ ও অনৈতিক প্রেম-ভালোবাসার সুযোগ নেই ইসলামে।
পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতে হবে নবী মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সা.)কে। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘তোমরা জান্নাতে যেতে পারবে না যতক্ষণ না ঈমানদার হবে। আর তোমরা ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না পরস্পরকে ভালোবাসবে। আমি কি তোমাদের এমন আমলের কথা বলে দেব না, যা করলে তোমাদের পরস্পরের মাঝে ভালোবাসা সৃষ্টি হবে? তা হলো সালামের প্রসার ঘটানো।’ (মুসলিম : ৫৪)। অন্য একটি হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা একে অন্যকে উপহার দাও। তাহলে তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও হৃদ্যতা তৈরি হবে।’ (আদাবুল মুফরাদ : ৫৯৪)
সমাজ জীবনে আমরা অন্যের জন্য কিছু না কিছু খরচ করে থাকি। উপহার, উপঢৌকন দিয়ে থাকি। আমাদের এই খরচ ও উপহার যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য হয়, তবে তা আমাদের জন্য বয়ে আনবে প্রভ‚ত কল্যাণ। হজরত মুয়াজ (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহকে (সা.) বলতে শুনেছি, আল্লাহ তায়ালা বলেন, আমার সন্তুষ্টি লাভের জন্য যারা একে অন্যকে ভালোবাসে, পরস্পর ওঠাবসা ও দেখা-সাক্ষাৎ করে কিংবা একে অন্যের জন্য খরচ করে, তাদের জন্য আমার ভালোবাসা ওয়াজিব হয়ে যায়।’ (মুসনাদে আহমদ : ২১৫২৫)
মা-বাবা, ভাই-বোন, স্ত্রী-সন্তান, আত্মীয়-স্বজনের ভালোবাসা মানুষের স্বভাবজাত বিষয়। এ ক্ষেত্রেও যদি দৃষ্টিভঙ্গির সামান্য পরিবর্তন আনা যায়; অর্থাৎ আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং নবীজির সুন্নত পালন উদ্দেশ্য হয়, তবে এই ভালোবাসাতেও আল্লাহর পক্ষ থেকে লাভ হবে অফুরন্ত পুরস্কার। কেউ স্ত্রীকে ভালোবাসে রিপুর তাড়নায়। কেউবা ভালোবাসে আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনায়। দৃশ্যত উভয়ের ভালোবাসা এক হলেও প্রতিদানের বিচারে দুজনের ভালোবাসার মধ্যে রয়েছে আকাশ-পাতাল ব্যবধান। রাসুলুল্লাহ (সা.) স্ত্রীদের সঙ্গে গল্প করতেন। হজরত আয়েশার (রা.) সঙ্গে রাসুলের (সা.) দৌড় প্রতিযোগিতার কথাও হাদিসে উল্লেখ আছে। তিনি শিশুদের অত্যন্ত ভালোবাসতেন। তাদের গালে স্নেহের চুমু এঁকে দিতেন। মাথায় হাত বুলাতেন। উপহার দিতেন। কখনও বা তাদের সঙ্গে লেখাধুলায় শরিক হতেন। সুুতরাং রাসুলুল্লাহর (সা.) সুন্নত পালনার্থে স্ত্রী ও শিশুদের ভালোবাসা আল্লাহর জন্য ভালোবাসা বিবেচিত হবে। আল্লাহর জন্য ভালোবাসা ঈমানের পূর্ণতার লক্ষণ। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কাউকে আল্লাহর জন্য দান করল কিংবা আল্লাহর জন্য দান করা থেকে বিরত রইল এবং আল্লাহর জন্য কারও সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্ক স্থাপন করল কিংবা আল্লাহর জন্য কারও সঙ্গে বিদ্বেষ পোষণ করল এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বিয়ে করল, তবে তার ঈমান পূর্ণতা লাভ করল।’ (তিরমিজি : ২৫২১)
মুমিন ব্যক্তি মূলত আল্লাহকেই ভালোবাসে। মানুষের ভালোবাসাও যদি হয় আল্লাহর জন্য তখন স্বয়ং আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন। হাদিসে বর্ণিত রয়েছে, ‘এক ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের সাক্ষাতের জন্য ঘর থেকে রওনা হলো। পথিমধ্যে আল্লাহ এক ফেরেশতাকে মানুষের বেশে পাঠালেন। ফেরেশতা জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কোথায় যাচ্ছ? সে উত্তর দিল, এই গ্রামে আমার এক ভাই থাকেন। তাকে দেখতে যাচ্ছি। ফেরেশতা জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমার প্রতি কি তার কোনো অনুগ্রহ রয়েছে, যার বিনিময় দেওয়ার জন্য যাচ্ছ? সে বলল, না। আমি যাচ্ছি এই জন্য যে, আমি তাকে আল্লাহর জন্য ভালোবাসি। ফেরেশতা বললেন, তাহলে শোন, আমি তোমার নিকট আল্লাহর দূত হিসেবে এসেছি এ কথা জানানোর জন্য যে, আল্লাহ তোমাকে ভালোবাসেন; যেমন তুমি তাকে আল্লাহর জন্য ভালোবাস!’ (মুসলিম : ২৫৬৭)
আল্লাহর জন্য কাউকে ভালোবাসলে তাকে সে কথা জানিয়ে দেওয়া উচিত। তাহলে উভয় পক্ষ থেকে ভালোবাসা সৃষ্টি হবে এবং সে ভালোবাসা আরও প্রগাঢ় হবে। হজরত মিকদাদ বিন মাদিকারিব (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘কেউ অন্যকে ভালোবাসলে যেন তাকে ভালোবাসার কথা জানিয়ে দেয়।’ (আবু দাউদ : ৫১২৪) ইসলামের এই পবিত্র ভালোবাসা যেন অপাত্রে না হয়। সব জিনিসের বৈধ-অবৈধ ক্ষেত্র রয়েছে। ভালোবাসার বিষয়টি এর ব্যতিক্রম নয়।
বিবাহপূর্ব ছেলেমেয়ের ভালোবাসা ইসলামের দৃষ্টিতে অবৈধ ও অন্যায়। এতে চারিত্রিক পবিত্রতা বিনষ্ট হয়। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে অশান্তি ও বহুমুখী সঙ্কট তৈরি হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘কোনো পুরুষ যখন পরনারীর সঙ্গে নির্জনে সাক্ষাৎ করে, তখন সেখানে তৃতীয়জন হিসেবে শয়তান উপস্থিত থাকে।’ (তিরমিজি : ১১৭১)। অন্য একটি হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘চোখের ব্যভিচার দেখা। মুখের ব্যভিচার কথা বলা। হাতের ব্যভিচার স্পর্শ করা। পায়ের ব্যভিচার তার দিকে চলা।’ (বুখারি : ৬২৪৩)

Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: