যেকোনো রান্নায় তেজপাতার ব্যবহার অন্য রকম স্বাদ এনে দেয়। তেজপাতা শুধু সুগন্ধের জন্য পরিচিত নয়, এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন এ ও সি, ফলিক অ্যাসিড এবং অন্যান্য খনিজের উৎস। তেজপাতায় ঔষধি গুণও অনেক। বিভিন্ন ঘরোয়া কাজেও তেজপাতা ব্যবহার করা হয়।
চলুন জেনে নিয়ে তেজপাতার কিছু গুণ
হজম ক্ষমতাকে উন্নত করে বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক বেশি ঘি-মাখন এবং মসলা আছে এমন খাবারে তেজপাতা ব্যবহার করলে, সহজে খাবার হজম হয়। তা ছাড়া তেজপাতা গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সিস্টেমের ওপরে শক্তিশালী প্রভাব ফেলতে সক্ষম।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে
বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত যে, তেজপাতার রস নিয়মিত সেবন করলে টাইপ ২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তা ছাড়া এই পাতা বিপাকের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই খাবারে তেজপাতার ব্যবহার, ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে অত্যন্ত উপকারী।
ফাঙ্গাল ইনফেকশন নিয়ন্ত্রণ
তেজপাতায় অ্যান্টি-ফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্য আছে। যা ত্বককে, যেকোনো ধরনের সংক্রমণ বা অস্বস্তির হাত থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে।
শ্বাসযন্ত্রের চিকিৎসায় সহায়ক
তেজপাতা নিজেই অ্যাসেন্সিয়াল অয়েলের উৎকৃষ্ট উৎস। এই পাতা থেকে নিষ্কাশিত অ্যাসেন্সিয়াল অয়েল শ্বাসযন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যার উপশম করতে অত্যন্ত কার্যকর।
উদ্বেগ এবং মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক
তেজপাতায় ‘লিনালুল’ নামক এক ধরনের যৌগ আছে। এটি শরীরের স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখে, শরীর এবং মনকে শান্ত করতে সহায়তা করে। এর ফলে উদ্বেগ কিংবা বিষণ্নতার সম্ভাবনা, অনেকাংশেই কমে যায়।
ক্যানসার প্রতিরোধী বৈশিষ্ট্য
তেজপাতা ক্যানসার প্রতিরোধী হিসেবেও কাজ করে। নিউট্রিশন রিসার্চ জার্নালের মতানুসারে, তেজপাতায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং জৈব যৌগগুলো ক্যানসার সৃষ্টিকারী ফ্রি রেডিকেলের খারাপ প্রভাব থেকে শরীরকে রক্ষা করতে সহায়তা করে।
হার্ট ভালো রাখে
তেজপাতায় উপস্থিত যৌগগুলো হৃৎপি- শক্তিশালী করে তুলতে সহায়তা করে। তা ছাড়া তেজপাতা ক্যাফেইক অ্যাসিডের একটি উৎকৃষ্ট উৎস। এটি শরীর থেকে খারাপ কোলেস্টেরল দূর করতে সহায়তা করে। যার ফলে শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে থাকে।