লকডাউনে দীর্ঘ পাঁচ মাসের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর গত ১৯ আগস্ট শিল্পকলা একাডেমি খুলে দেওয়া হয়। পুরনো নাটকের পাশাপাশি নতুন নাটক মঞ্চায়নের প্রস্তুতি, মহড়া আর উৎসব মিলিয়ে বছর শেষে মঞ্চাঙ্গন জমে উঠেছিল। মোমেনা চৌধুরীর ‘লাল জমিন’ দিয়ে মঞ্চায়ন শুরু হয়।
অন্যদিকে এ বছর বেশ কিছু নতুন নাটক মঞ্চে এসেছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- সৈয়দ জামিল আহমেদের নির্দেশনায় ও মোহসিনা আক্তারের একক অভিনয়ে ‘বিস্ময়কর সবকিছু’, মঞ্চায়নের অপেক্ষায় আজ মুক্তনীলের নির্দেশনায় বাতিঘর নাট্যদলের ‘মাংকি ট্রায়াল’, বটতলা ও যাত্রিকের নায়লা আজাদ নূপুরের নির্দেশনায় ‘সোহোতে মার্ক্স’, শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে দেশব্যাপী ৬৪ জেলায় মঞ্চায়িত হয় গণহত্যা পরিবেশ থিয়েটার, ম্যাড থেটারের ‘আনা ফ্রাঙ্ক’, আপস্টেজের ‘স্বপ্নভুক’, মাসুম রেজার রচনা ও নির্দেশনায় ‘জনকের অনন্তযাত্রা’, আশীষ খন্দকারের ‘দুই আগন্তুক বনাম করবী ফুল’, আরণ্যকের ‘কহে ফেসবুক’, নাট্যম রেপার্টরির ‘কোথায় জলে মরাল চলে’, প্রাঙ্গণেমোর-এর ‘মেজর’, মো. আকতারুজ্জামান রচিত ও নির্দেশিত ‘পিঁপড়া’ প্রভৃতি।
এদিকে এ বছর ত্রপা মজুমদারের নির্দেশনায় ১৭ বছর পর আবারও থিয়েটার মঞ্চায়ন করে ‘মুক্তি’। আর মাসুম রেজার রচনায় ও নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চুর নির্দেশনায় ‘পেন্ডুলাম’ এ বছর মঞ্চায়নের কথা থাকলেও হয়নি। প্রস্তুত রয়েছে প্রাঙ্গণেমোর-এর ‘কবির দেশের অষ্ট মাদল’, ‘এক্সিট আমার ড্রামাটিক হোক চাই না’, বাতিঘরের ‘ভগবান পালিয়ে গেছে’সহ একাধিক নাটক।
তবে বড় আয়োজন হয়েছে গঙ্গা-যমুনা সাংস্কৃতিক উৎসব, মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়ের আয়োজনে বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা নাট্যোৎসব, ব্যতিক্রম নাট্যগোষ্ঠী আয়োজনে সৈয়দ মহিদুল ইসলাম স্মরণ উৎসব, পদাতিক নাট্য সংসদ আয়োজনে সৈয়দ বদরুদ্দীন হোসাইন স্মৃতি নাট্যোৎসব, মণিপুরি থিয়েটারের রজতজয়ন্তী উপলক্ষে বছরব্যাপী আয়োজন, দৃষ্টিপাত নাট্যদলের তিন যুগ পূর্তিতে তিন দিনের নাট্য উৎসব। নাটকের দল প্রাচ্যনাট, আরণ্যক, দেশনাটক, প্রাঙ্গণেমোর, বাতিঘর, নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়, নাগরিক নাট্যাঙ্গন, বটতলা, ঢাকা থিয়েটার, ঢাকা পদাতিক, পদাতিক নাট্য সংসদ, মণিপুরি থিয়েটারসহ অনেক দলই নিয়মিত থিয়েটার কার্যক্রম চালু রেখেছে।