মুসলিম আইনে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির অথবা পূর্বপুরুষের ও নিজে উপার্জিত সম্পত্তির মিরাসের/উত্তরাধিকারের মধ্যে পার্থক্য নেই। যৌথ মুসলিম পরিবার বলে কিছু নেই কিংবা মুসলিম পরিবারের ক্ষেত্রে কোনো সাধারণ রায়তি স্বত্বের অস্তিত্বও মুসলিম আইনে নেই। অন্যদিকে পূর্বপুরুষের মৃত্যুর পরই সর্বপ্রথম তার ওয়ারিশ বা উত্তরাধিকারীর অধিকার সৃষ্টি হয়। (মুসলিম আইনের ধারা-৫১ ও ৫২)|
পবিত্র কোরআনে এতিমদের সম্পত্তি দানের জন্য জোর তাগাদা দেওয়া হলেও মুসলিম শরিয়া আইন অনুযায়ী দাদা/নানা জীবিতকালে কোনো সন্তানের পিতা/মাতার মৃত্যু হলে, সে সন্তান/সন্তানরা পিতা বা মাতার উত্তরাধিকারী হিসেবে দাদা/নানার মৃত্যুর পর দাদা/নানার সম্পত্তির কোনো অংশ প্রাপ্ত হয় না। কারণ মুসলিম আইনে প্রতিনিধিত্বের নীতি স্বীকৃত নহে। (মুসলিম আইনের ধারা-৫৩)।
এতিমের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ১৯৬১ সালে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ৪ ধারায় উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে প্রতিনিধিত্বের নীতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ কার্যকর হওয়ার পর অর্থাৎ ১৫-০৭-১৯৬১ইং তারিখ হতে দাদা/নানার মৃত্যুর পর দাদা বা নানার সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে প্রতিনিধিত্বের নীতি অনুযায়ী মাতা বা পিতাহারা সন্তান বা সন্তানরা ওইটুকু সম্পত্তি পাবে যতটুকু তার/তাদের পিতা/মাতা বেঁচে থাকলে পেত।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায় ‘ক’ নামক ব্যক্তি জীবিত থাকাস্থায় তার ‘খ’ নামক ছেলে ও ‘গ’ নামক মেয়ে মারা যায়। ‘খ’ মৃত্যুকালে এক ছেলে ‘ঘ’ ও এক মেয়ে ‘ঙ’ কে এবং ‘গ’ মৃত্যুকালে এক ছেলে ‘চ’ ও এক মেয়ে ‘ছ’ কে জীবিত রেখে যায়। অতঃপর ‘ক’-এর মৃত্যুর পর পিতার ওয়ারিশ সূত্রে ‘খ’ ‘ক’-এর নিকট যে সম্পত্তি পেত ‘ঘ’ ও ‘ঙ’ ওই সম্পত্তি তাদের পিতা ‘খ’-এর ওয়ারিশ হিসেবে ‘ক’-এর নিকট হতে প্রাপ্ত হবে। অনুরূপভাবে ‘গ’ পিতার ওয়ারিশসূত্রে যে সম্পত্তি ‘ক’-এর নিকট থেকে পেত, ‘চ’ ও ‘ছ’ ওই সম্পত্তি তাদের মাতা
‘গ’-এর ওয়ারিশ হিসেবে ‘ক’-এর নিকট থেকে প্রাপ্ত হবে। এক্ষেত্রেও সম্পত্তির অংশ ছেলে ও মেয়ের ক্ষেত্রে ২ঃ১ অনুপাতে হবে। অর্থাৎ পুত্র কন্যার দ্বিগুণ পাবে।
১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ৪ ধারা অনুযায়ী শুধু পূর্বে মৃত পুত্র বা কন্যার সন্তান/সন্তানদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অর্থাৎ পুত্রের পুত্র বা কন্যা এবং কন্যার পুত্র বা কন্যার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অন্য কোনো ওয়ারিশের ক্ষেত্রে এ আইন প্রযোজ্য নয়।
ওই আইন প্রবর্তনের ফলে উত্তরাধিকার নীতির ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন সাধিত হয়েছে এবং প্রতিনিধিত্বের বিধান অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এ নীতি অনেক এতিম সন্তানকে চরম বিপর্যয়ের হাত হতে রক্ষা করে সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট
/এসকে