দেশে ফায়ার সেফটি সরঞ্জাম ব্যবসার প্রসার ঘটছে বলে জানিয়েছেন ইলেকট্রনিকস সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইসাব) সাধারণ সম্পাদক মো. মাহমুদুর রশিদ। সময়ের আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ খাতের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন। তাছাড়া আসন্ন ফায়ার সেফটি মেলা নিয়েও তিনি কথা বলেছেন। তার সাক্ষাৎকারের বিশেষ অংশ নিচে দেওয়া হলো। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এসএম আলমগীর।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ফায়ার সেফটি সরঞ্জামের প্রয়োজনীয়তা কতটা- এ প্রশ্নের জবাবে ইসাব সাধারণ সম্পাদক মো. মাহমুদুর রশিদ বলেন, ‘আমাদের দেশের পেক্ষাপটে ফায়ার সরঞ্জামের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি মূলত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। একটা ভাগ হচ্ছে- বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী এবং ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড অনুযায়ী ভবনে ফায়ার সেফটি সরঞ্জামের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে কিছু রুলস-রেগুলেশন দেওয়া আছে- কী ধরনের ভবনে কী ধরনের সরঞ্জাম লাগবে। তাছাড়া কোন ভবনে কী ফায়ার সেফটি সরঞ্জাম কীভাবে সেট করত হবে, ক্যাপাসিটি কেমন হবে- এ বিষয়গুলো বিএনবিসি কোডে বলা আছে। সুতরাং আইন অনুযায়ী এসব সরঞ্জাম ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা আছে।
দ্বিতীয় বিষয় হলো সেফটি সচেতনতা। আমাদের দেশের গার্মেন্টস কারখানাগুলোর ক্ষেত্রে কিন্তু ক্রেতাদের অনেক রকম বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বিদেশি যেসব ক্রেতা আমাদের গার্মেন্টস কারখানায় কাজ করান তাদের বিভিন্ন কমপ্লায়েন্স রয়েছে। কমপ্লায়েন্সগুলো মেনে চলা হচ্ছে প্রয়োজনীয়তা। ক্রেতাদের এই কমপ্লায়েন্স কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে আমাদের বিএনবিসি কোডের চেয়েও কঠোরভাবে মেনে চলতে হয়। আরেকটি বিষয় হচ্ছে প্রতিটা প্রতিষ্ঠানের মালিক তার ভবনের নিজস্ব নানারকম প্রয়োজনীয়তা থাকে।
যেমন কেউ যদি তার নিজের বাসা বা নিজের অফিস ঠিকমতো অগ্নি নিরাপত্তাব্যবস্থা নিরূপণ করতে চান, সে ক্ষেত্রে কিন্তু খুব বেশি অগ্নিসরঞ্জাম দরকার পড়ে না। তবে সচেতনতার জন্য এ ধরনের ভবনে করা যেতে পারে। সুতরাং বলা যায়, শিল্প কারখানা ভবন হোক বা ব্যক্তিগত ভবন হোক- সব ধরনের ভবনেই অগ্নিসরঞ্জামের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। প্রতিটি জেলায়, প্রতিটি উপজেলায়, এমনকি মেগা সিটিগুলো এবং দেশের প্রায় ১০০টি ইকোনমিক জোন হচ্ছে- এগুলোতে অনেক ভবন হবে, শিল্প কারখানা হবে। এসব ভবনের সবগুলোতেই ফায়ার সরঞ্জামের চাহিদা রয়েছে। শুধু তাই নয়, বাইলজ অনুযায়ী প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সুতরাং যত বিল্ডিংয়ের সংখ্যা তা ফায়ার সেফটি সরঞ্জামের প্রয়োজনীয়তা।
তিনি বলেন, ‘প্রতিটি ভবন নির্মাণে গড়ে যে খরচ হয়, তার মধ্যে ২ থেকে আড়াই শতাংশ ফায়ার সেফটি বা নিরাপত্তার জন্য বাজেট বরাদ্দ রাখতেই হয়। সুতরাং এটা হচ্ছে ফায়ার সরঞ্জাম ব্যবহারের বড় জায়গা। ফায়ার সেফটি সরঞ্জামগুলোকে আমরা তিন ভাগে ভাগ করতে পারি। একটি হচ্ছে ফায়ার ডিটেকশন সিসটেম- এটি মূলত ইলেকট্রিক্যাল সিস্টেম। এরপর রয়েছে ফায়ার প্রটেকশন সিস্টেম। এটি মূলত মেকানিক্যাল সিস্টেম। তৃতীয়টি হচ্ছে ফায়ার ডোর।
ইসাব সাধারণ সম্পাদক জানান, এ শিল্পের বিকাশে বেশ কিছু বাধা রয়েছে। সবচেয়ে বড় বাধা হলে এটি সমপূর্ণ আমদানিনির্ভর একটি খাত। সব ধরনের সরঞ্জামই বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। এই যে এখন যেমন ডলারের রেটের কাছে টাকার মান কমে গেছে, এতে আমাদের আমদানি ব্যয় অনেক বেড়ে যাচ্ছে। ডলারের মানে যদি ১০ শতাংশ এদিক-সেদিক হয়, তাহলে আমাদের ব্যয়ও বেড়ে যায় ১০ শতাংশ। আর সেটি যদি হয় ২০ শতাংশ, তাহলে ব্যয়ও বেড়ে যাবে ২০ শতাংশ। আবার এসব সরঞ্জাম আমদানির ক্ষেত্রেও অনেক সময় লাগে এবং অন্য যেকোনো পণ্য আমদানির চেয়ে ঝামেলা অনেক বেশি। প্রায় তিন থেকে চার মাস সময় লেগে যায় ক্লায়েন্টের কাছে পণ্য পৌঁছাতে। কখনো আরও বেশি। এর বাইরেও অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে এ ব্যবসায়। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই আমরা ব্যবসা করে আসছি। তবে এ শিল্পের ভবিষ্যৎ অনেক ভালো।
তিন দিনব্যাপী অষ্টম আন্তর্জাতিক ফায়ার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি এক্সপো ২০২২ অনুষ্ঠিত হবে ঢাকায়। এবার আসন্ন মেলা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আগামী ২৪ থেকে ২৬ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এই প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। এক্সপোতে তিনটি ক্যাটাগরিতে পণ্য প্রদর্শিত করা হবে, যার মধ্যে থাকছে ফায়ার সেফটি সলিউশন, সিকিউরিটি সলিউশন ও অটোমেশন। এই মেলায় ২৬টি দেশের শতাধিক বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করবে।
এ ছাড়াও চারটি সমসাময়িক বিষয়ে টেকনিক্যাল সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। সেমিনারে অংশগ্রহণকারীরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অংশগ্রহণ করতে পারবেন এবং তাদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করা হবে।’
প্রতি বছরের মতো এ বছরও এই এক্সপো সফল হবে এবং সমগ্র দেশের শিল্প, বাণিজ্য এবং সেবা খাতের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। তিনি বলেন, ‘এখন সময় এসেছে বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে নতুনভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার। এই এক্সপোর মাধ্যমে ফায়ার সেফটি এবং সিকিউরিটি পণ্য মানুষের কাছে আরও সহজলভ্য হবে এবং বিনিয়োগকারীদের আরও উৎসাহী করবে।’
এই বছরের এক্সপোর সঙ্গে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে ‘ইসাব সেফটি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’। তিনটি ক্যাটাগরিতে- বাণিজ্যিক ভবন, আবাসিক ভবন ও শিল্প কারখানায় যারা যথাযথ নিয়মনীতি মেনে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছেন তাদেরকে অ্যাওয়ার্ড প্রদানের মাধ্যমে সম্মানিত করা হবে।
/এসকে