হাতপাখার বাতাস চায় সবাই

সাব্বির আহমেদ

রাজনীতি

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সম্প্রতি ভোট বেড়েছে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলনের। হাতপাখা প্রতীকে দলটির প্রার্থীরা রেকর্ড পরিমাণ ভোট পেয়ে রাজনৈতিক

2023-01-05T11:16:34+00:00
2023-01-05T11:16:34+00:00
 
  বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬,
৩ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
রাজনীতি
হাতপাখার বাতাস চায় সবাই
সাব্বির আহমেদ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৩, ১১:১৬ এএম   (ভিজিট : ২৩৮৫)
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সম্প্রতি ভোট বেড়েছে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলনের। হাতপাখা প্রতীকে দলটির প্রার্থীরা রেকর্ড পরিমাণ ভোট পেয়ে রাজনৈতিক মহলে হইচই ফেলে দিচ্ছেন। জাতীয় নির্বাচনের আগে দলটির এমন অবস্থান মনোযোগ কাড়ছে বড় দলগুলোর। ভোট ব্যাংকের সমীকরণে সরকারি দল আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দল বিএনপি- সবাই কাছে টানতে চায় ইসলামী আন্দোলনকে। তবে কোনো জোটে নয়, নিজস্ব শক্তিতে এগিয়ে যেতে চায় ইসলামী আন্দোলন।

বর্তমানে দেশে ৩৯টি রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম চললেও নির্বাচন কমিশন থেকে নিবন্ধন পেয়েছে ১০টি ইসলামি দল ও একটি ইসলামপন্থি দল। এদের মধ্যে সাংগঠনিকভাবে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে চরমোনাই পীর রেজাউল করিমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। গত সোমবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দলটির জাতীয় সম্মেলনে প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির নেতারা একমঞ্চে আসেন। তারা সবাই ইসলামী আন্দোলনের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। এরপর থেকে চরমোনাই পীরের দলকে নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।

সূত্র বলছে, সরকার ইসলামী আন্দোলনের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণে রাখছে। তারা চাইছে ইসলামি দলকে কৌশলে বশে রাখতে। নির্বাচনকালীন জোটে নেওয়া সম্ভব না হলেও যাতে বিএনপির কোনো জোটে না ভিড়ে, সেদিকে তীক্ষè নজর রাখছে ক্ষমতাসীনরা। এমনকি অন্য কোনো জোট যাতে না গঠন করতে পারে সেদিকেও লক্ষ্য রাখছে তারা। বিএনপিও নানাভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে তাদের যুগপৎ আন্দোলনে ইসলামী আন্দোলনকে শামিল করতে। সে চেষ্টার অংশ হিসেবে যুগপৎ আন্দোলনের লিয়াজোঁ কমিটিতে থাকা বরকতুল্লাহ বুলুকে ইসলামী আন্দোলনের অনুষ্ঠানে পাঠায় বিএনপি। তারা এখনও যোগাযোগ রাখছেন দলটির শীর্ষনেতার সঙ্গে।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সময়ের আলোকে বলেন, আমরা সবাইকেই কল দিয়েছি। ডান-বাম ইসলামি দল-বিরোধী সবাইকে যুগপৎ আন্দোলনে পাশে চাই। 

তবে এখনও তারা যোগাযোগ করেননি। আর আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ১৪ দলীয় জোটের মহানগরের সমন্বয়ক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া সময়ের আলোকে বলেন, আমরা ১৪ দলীয় জোটকে আরও শক্তিশালী করে আগামী নির্বাচনে অংশ নেব। ইসলামি দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচনী ইস্যুতে আলাপ- আলোচনা হতে পারে, তবে তারা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে ধারণ করে কি না সেটি দেখার বিষয়। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

ইসলামী আন্দোলনের একজন সিনিয়র নেতা সময়ের আলোকে বলেন, সন্তোষজনক আসন দিয়ে হলেও আওয়ামী লীগ ও বিএনপি তাদের জোটে নিতে চায়। নির্বাচন সামনে রেখে গতবারও অফার এসেছে; এবার অফার আরও বেশি। একাদশ জাতীয় নির্বাচনের সময় বরিশালের একটি আসন ছেড়ে দিতে চেয়েছিল আওয়ামী লীগ। কিন্তু আমাদের আমির রাজি হননি। এবার বিএনপিও কাছে টানছে। কিন্তু আমরা মনে করি বিএনপি ও আওয়ামী লীগ সবাই ক্ষমতায় যাওয়ার জোট করে। আমরা সেখানে নেই। 

তিনি বলেন, আমরা আলাদা ভাবে সূদূরপ্রসারি লক্ষ্য নিয়ে ইসলামিক জোট গঠন করতে চাই। যা শুধু নির্বাচনকালীন নয়, সবসময় অটুট থাকবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই জোট গঠনেও সরকার নানাভাবে বাধা দিচ্ছে। যারা আসতে চায়, তাদের ভয় দেখানো হচ্ছে।

ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান জানান, তারা বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে যাবেন না। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি একই ধরনের শাসন চালায়। 
তিনি বলেন, যারা ইসলামি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় আমাদের সঙ্গে ঐকমত্যে আসবে, শর্ত সাপেক্ষে আমরা তাদের সঙ্গে সমঝোতা করব। সুষ্ঠু ভোট হলে ইসলামী আন্দোলন এমনিতেই ভালো ভোট পাবে। 
তিনি বলেন, আমরা তত্ত্বাবধায়ক নয়, নির্বাচনের আগেই সবাইকে নিয়ে জাতীয় সরকার চাই। 

আর দলের আমির চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম সময়ের আলোকে বলেন, আমরা কোনো নির্বাচনি সমঝোতায় আওয়ামী লীগ-বিএনপির সঙ্গে যেতে চাই না। জোটগতভাবে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার কথাও ভাবছি।



Loading...
Loading...
রাজনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: