ছাত্রলীগ নিয়ে বিব্রত শীর্ষ নেতৃত্ব

সমীরণ রায়

রাজনীতি

ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের কারণে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। সংগঠনটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী নির্যাতন, বিবস্ত্র করে ভিডিও

2023-02-17T08:30:13+00:00
2023-02-17T14:01:25+00:00
 
  সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬,
২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
রাজনীতি
ছাত্রলীগ নিয়ে বিব্রত শীর্ষ নেতৃত্ব
সমীরণ রায়
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ৮:৩০ এএম  আপডেট: ১৭.০২.২০২৩ ২:০১ পিএম
ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের কারণে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। সংগঠনটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী নির্যাতন, বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ, পিটিয়ে রক্তাক্ত করে হাসপাতালে পাঠানো, সিট বাণিজ্য, সংঘর্ষ, চাঁদাবাজি, চুরি, ছিনতাই, শিক্ষকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া আধিপত্য বিস্তার নিয়ে নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষ ও নানা অপরাধমূলক কাজে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। ফলে সংগঠনটির এসব কর্মকাণ্ডে বিব্রতবোধ করছেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা।

দলটির একাধিক শীর্ষ নেতা বলেন, ছাত্রলীগের এসব কর্মকাণ্ডে বিব্রত আওয়ামী লীগ। এ ধরনের অভিযোগ তাদের জন্য অপ্রীতিকর, বিব্রতকর, লজ্জাজনক ও অপ্রত্যাশিত। ছাত্রলীগের একটি বর্ণাঢ্য ইতিহাস রয়েছে। ছাত্রলীগের নামে এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অপরাধীদের কোনো দল থাকতে পারে না। সে যেই হোক, তাকে শাস্তি পেতে হবে। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটাই বিশ্বাস করেন।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্ল্যাহ সময়ের আলোকে বলেন, ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে, এটি নিশ্চয় আওয়ামী লীগের জন্য বিব্রতকর ও অপ্রত্যাশিত। একই সঙ্গে দেশের রাজনীতির জন্যও ভালো না। তবে আমি এখনও সব ঘটনা জানি না। আরও খোঁজখবর নিচ্ছি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল সময়ের আলোকে বলেন, আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের বর্ণাঢ্য একটি ইতিহাস আছে। ফলে এই সংগঠনটি যদি কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হয়, এতে সংগঠনের সব অর্জন ম্লান হয়ে যায়। এটি আওয়ামী লীগের জন্য বিব্রত। যেহেতু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়, তাই সরকারেরও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। তবে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের আরও শক্ত ভূমিকা পালন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংগঠনের নেতাকর্মীদের এসব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে পরামর্শ দেওয়া উচিত। এরপরেও যারা নিবৃত হবে না, তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার ক্ষেত্রে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, অপরাধীরা শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দিষ্ট কারও অনুসারী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। এর ফলে অপরাধের মাত্রা বেড়েই চলেছে। এতে সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী এ সংগঠনটির।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ঘটনা নিয়ে আলোড়নের মধ্যেই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্বরতা নাড়া দিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। এর আগে হেনস্থা করা হয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী সাংবাদিককে। গত কয়েক মাস ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একের পর এক ঘটছে নির্যাতনের ঘটনা। চাঁদাবাজি, নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষ, যৌন নিপীড়ন, চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী। বিশেষ করে সাধারণ শিক্ষার্থীর ওপর নিপীড়ন চালাচ্ছেন এক শ্রেণির নেতাকর্মী। তবে পরিস্থিতির উন্নয়নে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ ও সরকার যেন নির্বিকার।

সূত্র জানায়, গত চার বছর পর সম্মেলনের মাধ্যমে ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠন হওয়ায় ছাত্র রাজনীতি নতুন দিকনির্দেশনা পাবে আশা করা হয়। নতুন নেতৃত্ব সারা দেশে সংগঠনে শৃঙ্খলা ফেরাতে অপকর্মে জড়িত ২১ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নিয়েছে। তবে কোনো পরিবর্তন নেই ক্ষমতাসীন দলের এই ছাত্র সংগঠনে। নিজ সংগঠনের কর্মী, প্রতিপক্ষ সংগঠনের নেতাকর্মী এমনকি সাধারণ শিক্ষার্থীর ওপর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে একের পর এক খবর আসছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও ছিনতাইকাণ্ডে ছাত্রলীগ কর্মীর নাম এসেছে। এ ঘটনায় সংগঠন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও বহিষ্কার হয়েছেন তারা।

ছাত্রলীগের একাধিক শীর্ষ নেতা বলেন, সংগঠন থেকে কোনো অপরাধীর দায় নেওয়া হবে না। ছাত্রলীগ কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না। যাদের নামে এ ধরনের অভিযোগ আসছে, তাদের বিরুদ্ধে সংগঠন ব্যবস্থা নেবে। এসব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে ইতিমধ্যে বিভিন্ন ইউনিটে নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। ছাত্রলীগের কেউ যদি কোনো অপরাধে জড়িয়ে পড়ে তাহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি একাডেমিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারাই বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থি কার্যক্রমে জড়িত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্তসাপেক্ষে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন সময়ের আলোকে বলেন, ছাত্রলীগের মৌলিক লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একাডেমিক পরিবেশ সমুন্নত রাখা এবং শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ও প্রয়োজন অনুযায়ী ছাত্র রাজনীতি যাতে পরিচালিত হয়, সেটি নিশ্চিত করা। কেউ যদি সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ড করে, সে ক্ষেত্রে আমরা শূন্য সহিষ্ণুতা প্রদর্শন করব। এ বিষয়ে আমাদের সাংগঠনিক নির্দেশনা রয়েছে। সেটি সব নেতাকর্মীকে অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে। ছাত্রলীগের যারা রাজনীতি করেন, তারা যদি সংগঠনবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হন, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে যারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হবেন, তাদের আগামীতে কমিটিতে রাখা হবে না।

এ প্রসঙ্গে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান সময়ের আলোকে বলেন, ছাত্রলীগ সুশৃঙ্খল সংগঠন। সংঠনটির শুরু থেকে এখন পর্যন্ত গঠনতান্ত্রিক ধারায় এবং সাংগঠনিক নিয়মে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে। তবে এত বড় সংগঠনে অনেক সময় বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে থাকে। কোনো ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটা মাত্রই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ছাত্রলীগ গঠনতন্ত্র ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী চলে। এখানে কোনো অন্যায়কারী বা অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। তদন্তসাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে আমরা সব নেতাকর্মীকে হুঁশিয়ারি দিয়েছি, তারা সংগঠনবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সম্প্রতিও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় সংগঠনের ২১ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছি। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, এ জন্য আমরা আমাদের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছি।

আর ঢাকা বিশ্ববিদল্যায় ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন সময়ের আলোকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও সংগঠনের সম্মান অক্ষুণ্ন রাখতে ইতিমধ্যে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে। ছাত্রলীগের নাম করে কেউ যদি কোনো ধরনের সংঘর্ষ বা খারাপ কিছুর সঙ্গে জড়িত থাকে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। আর যারা ভবিষ্যতে হল দখল, চাঁদাবাজি বা সংঘর্ষের মতো কোনো ঘটনার সঙ্গে জড়িত হবে তাদের কোনো কমিটিতে রাখা হবে না।



Loading...
Loading...
রাজনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: