
দেশের বিমানবন্দর তথা বিমানযাত্রীদের জন্য ‘ডিজিটাল এয়ারপোর্ট সার্ভিস অ্যাপ’ নামে নতুন একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন সার্ভিস উদ্বোধন করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।
এ অ্যাপের মাধ্যমে একজন যাত্রী বিমানবন্দরের ভেতরে কোন দিক দিয়ে কোথায় যেতে হবে সব বিবরণ পাবেন। এছাড়াও ভয়েস সুবিধা ব্যবহার করে বাংলা ও ইংরেজিতে মিলবে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও নির্দেশনা। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের যাতায়াত সহজ করতে ডিজিটাল এয়ারপোর্ট সার্ভিসের অংশ হিসেবে এ অ্যাপটি চালু করা হলো।
এ অ্যাপের মাধ্যমে যাত্রীরা সরকারের মন্ত্রণালয় ও সংস্থা যেমন: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), স্বাস্থ্য বিভাগ, বাংলাদেশ পুলিশের প্রয়োজনীয় সেবা নিতে পারবেন। এর মাধ্যমে প্রবাসীরাও বিমানবন্দরে করণীয় সম্পর্কে সম্যক ধারণা পাবেন।
বুধবার (১০ মে) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে ডমিস্টিক টার্মিনালে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ অ্যাপের উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এ অ্যাপের মাধ্যমে একজন যাত্রী ফ্লাইটের হালনাগাদ তথ্য, এয়ারলাইন্সের নাম ও যোগাযোগ, বিমানবন্দরে ব্যবহৃত সকল সাইন, বহনের জন্য নিষিদ্ধ জিনিসপত্রের তালিকা, শুল্ক করের তালিকা, লাগেজের নিয়ম, ইমিগ্রেশন বিধিমালা, গন্তব্য এয়ারপোর্টের বিধিমালা, স্বাস্থ্যবিধি, প্রবাসী কল্যাণ নির্দেশিকা ও সুবিধার তথ্য, এয়ারপোর্টে খাবার, নামাজঘর, কেনাকাটা, ওয়াশরুম, মুদ্রা বিনিময়, ট্যাক্সি, বিমানবন্দরের মানচিত্র পাবেন।
যারা বিদেশযাত্রায় নতুন তাদের জন্য করণীয় বিশেষ নির্দেশনাও থাকছে ওই অ্যাপে। অ্যাপটি যৌথভাবে প্রস্তুত করেছে প্রাইমটেক সলিউশন লিমিটেড, স্পিনঅফ স্টুডিও অ্যান্ড ইনোভেজিয়ন টেকনোলজিস।
অ্যাপটিতে অত্যাধুনিক দুটি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এর একটি অগমেন্টেড রিয়ালিটি (এআর) ইনডোর লোকেশন সার্ভিস। আরেকটির মাধ্যমে ভয়েস সুবিধা ব্যবহার করে বাংলা ও ইংরেজিতে মিলবে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও নির্দেশনা।
অনুষ্ঠানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন কামরুল ইসলাম বলেন, ফ্লাইট সম্পর্কিত তথ্য, গন্তব্য, বিমানবন্দরের ডেটাসহ নানা ধরনের সেবা মিলবে এতে।
পাশাপাশি ভবনের উচ্চতা নির্ধারণে ‘হাইট ক্লিয়ারেন্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ নামে আরেকটি অ্যাপ উদ্বোধন করেছেন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী। এই অ্যাপটি তৈরি করেছে বেবিচক। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের সব বিমানবন্দরের অবস্টেকল লিমিটেশন সারফেস (ওএলএস) অন্তর্ভুক্ত এলাকার ভবন নির্মাণে প্রযুক্তির সহযোগিতা নেবে বেবিচক। বিমানবন্দরের রানওয়ে থেকে ১৫ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে যে কোনো জায়গায় ভবন বা স্থাপনা নির্মাণে বেবিচক থেকে উচ্চতার ছাড়পত্র নিতে হয়। বেবিচকের এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট বিভাগ থেকে এটি দেওয়া হয়ে থাকে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন, বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমানসহ মন্ত্রণালয় ও বেবিচকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
এদিকে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নেক্সট জেনারেশন অব এভিয়েশন প্রফেশনালস’ শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে বিভিন্ন একাডেমিতে অধ্যয়নরত ৬ জন বৈমানিক শিক্ষার্থীকে। তাদের প্রত্যেককে ৩ লাখ টাকার চেক দেওয়া হয়েছে।
বৃত্তিপ্রাপ্তরা হলেন- গ্যালাক্সি ফ্লাইট একাডেমির সাফরিন আফরোজ মামিয়া, শেখ আনিকা তাবাসসুম, ফারাজাহা ইয়াসমিন, ফারিহা ফারহা কাশফিয়া। বাংলাদেশ একাডেমি অ্যান্ড জেনারেল এভিয়েশন লিমিটেডের সামিহা মালিহা এবং আরিরাং এভিয়েশন লিমিটেডের রাশিদা আফরিন মহিমা।
শিক্ষাবৃত্তির চেক হস্তান্তর করে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী বলেন, বেসামরিক বিমান চলাচক কর্তৃপক্ষের এ উদ্যোগ এভিয়েশন সেক্টরে মেয়েদের আসতে উৎসাহিত করবে। এর মাধ্যমে তাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহস যোগাবে বলে মনে করেন তিনি।