দেশে সম্পদের বৈষম্য বেড়ে দ্বিগুণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

দেশে আয় বৈষম্যের চেয়ে সম্পদের বৈষম্য বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। আয় বৈষম্য ১ দশমিক ৪ শতাংশ হলে সম্পদ বৈষম্য বেড়েছে ৩

2023-05-25T05:34:54+00:00
2023-05-25T05:34:54+00:00
 
  বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬,
২০ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
জাতীয়
দেশে সম্পদের বৈষম্য বেড়ে দ্বিগুণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৫ মে, ২০২৩, ৫:৩৪ এএম 
দেশে আয় বৈষম্যের চেয়ে সম্পদের বৈষম্য বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। আয় বৈষম্য ১ দশমিক ৪ শতাংশ হলে সম্পদ বৈষম্য বেড়েছে ৩ শতাংশেরও বেশি। অর্থাৎ সম্পদের বৈষম্য ক্রমান্বয়ে ঘনীভূত হচ্ছে। এ বৈষম্য কয়েকগুণ হারে বাড়ছে। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এমন তথ্য জানিয়েছেন। 

বুধবার রাজধানীর গুলশানের একটি অভিজাত রেস্তোরাঁয় ‘স্টেট অ্যান্ড স্কোপ অব প্রপার্টি ট্যাক্সেসন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে সিপিডি। এ সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। এ সেমিনার সঞ্চালনা করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।

তিন ধরনের সম্পদের কর নিয়ে সিপিডি কাজ করেছে। সেগুলো হলোÑপ্রত্যক্ষ সম্পদ কর, হোল্ডিং কর ও উত্তরাধিকার কর। এ তথ্য জানিয়ে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘বর্তমানে সম্পদের সার চার্জ ৩৫ শতাংশ। এটাকেও আমরা উচ্চ কর বলে মনে করছি।’

তিনি বলেন, ট্যাক্স সিস্টেমের ক্ষেত্রে শহর ও গ্রামের মধ্যেও বৈষম্য রয়েছে। দেশের ভেতরে সম্পদ যেভাবে কেন্দ্রীভূত হয়েছে, যেভাবে আয় বৈষম্য বেড়েছে। ন্যায্যতা ও বৈষম্য কমাতে সম্পদের করের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।

অন্যদিকে বাংলাদেশের আদায়কৃত করের দুই-তৃতীয়াংশ পরোক্ষ কর বলে উল্লেখ করেছেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, বাকি এক-তৃতীয়াংশ কর আসে প্রত্যক্ষ কর হিসেবে। কিন্তু আমাদের ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ও ৬ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হারে বছরে ৬ হাজার কোটি টাকার বাড়তি সম্পদ কর আসার কথা ছিল। যেখানে অস্ট্রেলিয়ায় শুধু সম্পদ কর মোট জিডিপির ১০ শতাংশ। যা আমাদের এখানে শূন্য দশমিক ৩ শতাংশের মতো। যা আফ্রিকার সম্পদ করের সমপরিমাণ। দেশের উন্নয়ন ও আইএমএফের শর্ত সবকিছু বিবেচনা করে প্রতি বছর আড়াই শতাংশ বর্ধিত কর আরোপ করতে হবে। সেটি বাড়ানোর একটি পদক্ষেপ হলো উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পদ পরিবর্তনেও কর আদায়।

উন্নয়ন প্রকল্পে সরকার ট্যাক্স পরিশোধ করে না জানিয়ে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সরকার যখন নিজে কোনো প্রকল্প হাতে নেয়, সেটা স্পেশাল ইকোনমিক জোন (বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল) হোক বা অন্য কিছু, তখন দেখা যায় তারা (সরকার) নিজেরা ট্যাক্স দেন না। এটা (ট্যাক্স পরিশোধ) অনেক পুরোনো। সরকার যখন বিদেশ থেকে কিছু পেত, একটা সময় ছিল এগুলোর আমদানি শুল্ক দিত না। এখন সরকার এগুলোর আমদানি শুল্ক দেয়। এটা হিসাবের ভেতরে ঢোকে। এখন যেসব ছাড় দেওয়া হচ্ছে, এগুলো কাউকে না কাউকে দেওয়া উচিত। তা হলে হিসাবটাও বাড়ত। সরকারের হিসাবের ভেতর এটা বিনিয়োগযোগ্য সম্পদ হিসেবে আসত। সরকার তার নিজের প্রকল্পে ছাড় দিলে ব্যক্তি খাতে যারা থাকেন, তাদের সঙ্গেও প্রতিযোগিতায় অসাম্য সৃষ্টি হয়। মূল প্রবন্ধে তিনি আরও বলেন, পাঁচ ধরনের ট্যাক্স চলমান রয়েছে। সেগুলো হলো-ভূমি উন্নয়ন কর, ওয়েলথ সারচার্জ (সম্পদ কর), হোল্ডিং ট্যাক্স, ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স ও গিফট ট্যাক্স। এর মধ্যে স্থাবর সম্পত্তি যখন নিজেদের মধ্যে দান বা হেবা হয়, সেখানে কোনো ট্যাক্স নেই। আমরা এ বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে বলেছি। শুধু উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এ ট্যাক্স অব্যাহতি দেওয়া যেতে পারে।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, নতুন এলাকা হিসেবে ভূমি কর আধুনিক করতে হবে। হোল্ডিং ট্যাক্সকে যুগোপযোগী করতে হবে। সম্পদ আয় করে একটি প্রজন্ম। এটা ভোগ করে পরবর্তী প্রজন্ম। সেখানে ন্যায্যতা নিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশের উত্তরাধিকার কর প্রচলন করা অত্যন্ত প্রয়োজন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে ভূমিকর আদায়ে বিপ্লব হয়ে গেছে। ২০১৯-২০ সালে সনাতন পদ্ধতিতে বার্ষিক ভূমিকর পেয়েছি ৬২১ কোটি টাকা। ২০২০-২১ সালে সনাতন ও অনলাইন উভয় মাধ্যম মিলিয়ে আদায় হয়েছে ৭৯১ কোটি টাকা। কিন্তু সনাতন পদ্ধতি বাতিল করে এ বছরের ১৪ এপ্রিল থেকে শতভাগ অনলাইনে কর নিচ্ছি। এতে দেখা গেছে গত এক মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩২৬ কোটি টাকা। আমি আশা করছি এই অর্থবছরে সেটি দাঁড়াবে ২ হাজার কোটি টাকায়।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, সম্পদ করের ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে আছি। জমি ও বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্টের ক্ষেত্রে যথাযথভাবে কর আরোপ হচ্ছে না। এখানে বৈষম্য রয়েছে। জমির ওপর বিনিয়োগ বাড়ছে। কারণ জমির দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। এর বড় কারণ এ বিনিয়োগে বড় ধরনের কর দিতে হয় না।



  বিষয়:   সম্পদের বৈষম্য 


Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: