বাজেটে পুঁজিবাজার স্থান না পাওয়া হতাশাজনক

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাজেট

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত যে বাজেট পেশ করেছেন তাতে দেশের পুঁজিবাজার

2023-06-05T00:58:44+00:00
2023-06-05T00:58:44+00:00
 
  বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬,
৩ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
বাজেট
বাজেটে পুঁজিবাজার স্থান না পাওয়া হতাশাজনক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ৫ জুন, ২০২৩, ১২:৫৮ এএম   (ভিজিট : ৪২৯৬)
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত যে বাজেট পেশ করেছেন তাতে দেশের পুঁজিবাজার নিয়ে কোনো কথা বলেননি। এতে বাজেট পেশের দিন থেকেই চরম হতাশা ব্যক্ত করেছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। গতকাল পুঁজিবাজারের স্টেকহোল্ডাররা পরিকল্পনামন্ত্রীকে কাছে পেয়ে নিজেদের কষ্টের কথা জানান। বাজেটে পুঁজিবাজার নিয়ে কোনো বিষয় উল্লেখ না করায় তারা মন্ত্রীর সামনে আবারও হতাশা ব্যক্ত করেন। এ সময় তারা বাজার সংশ্লিষ্ট ৫টি প্রস্তাব রেখে সেগুলো পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।
 
গতকাল রোববার রাজধানীর পল্টনে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরামের (সিএমজেএফ) অডিটোরিয়ামে ‘বাজেট ২০২৩-২৪ : প্রেক্ষিত পুঁজিবাজার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন স্টেকহোল্ডাররা।

স্টেকহোল্ডাররা বলেন, বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য নতুন কোনো কিছু আরোপ করা না হলেও প্রণোদনাও দেওয়া হয়নি। বিশেষ করে বাজেটে পুঁজিবাজার সম্পর্কে কোনো আলোচনা না থাকায় আমাদের মনে হচ্ছে এ খাতটি সরকারের কাছে একেবারেই অবহেলিত।

এতে বিনিয়োগকারীসহ খাত সংশ্লিষ্ট সবাই হতাশ হয়েছে। স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে পুঁজিবাজারকে গুরুত্ব দিতে হবে। দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করতে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে ৫ প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

দাবিগুলো হলো-তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর ব্যবধান ১৫ শতাংশ করা, লভ্যাংশের ওপর দ্বৈত কর প্রত্যাহার, বহুজাতিক কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করা, ব্রোকার হাউসের লেনদেনের ওপর উৎসে কর কমানো এবং বন্ডে সুদের ওপরও আরোপিত লভ্যাংশের ওপর কর প্রত্যাহার করা। 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, আমাদের মতো বিকাশমান অর্থনীতিতে মূলধনের জোগান দিতে পারে শক্তিশালী পুঁজিবাজার। তাই বাজেটে ক্যাপিটাল মার্কেট অবহেলিত হওয়া ঠিক নয়। আপনারা আমাকে প্রস্তাবগুলো লিখিত আকারে দেন, আমি সরকারের কাছে তুলে ধরব বাজেটে বিবেচনায় রাখার জন্য।

সিএমজেএফ ও বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) যৌথ উদ্যোগে সিএমজেএফ অডিটোরিয়ামে বাজেট পরবর্তী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সিএমজেএফ সাধারণ সম্পাদক আবু আলীর সঞ্চালনায় সভায় সূচনা বক্তব্য দেন বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি ছায়েদুর রহমান।

স্বাগত বক্তব্যে ছায়েদুর রহমান বলেন, পুঁজিবাজারের জন্য বাজেটের ভালো দিক হলো নতুন করে কোনো কিছু আরোপ করা হয়নি। তবে হতাশার ও খারাপ দিক হলো পুঁজিবাজারের জন্য কোনো প্রণোদনাই নেই, এমনকি পুঁজিবাজার সম্পর্কে কোনো আলোচনাও নেই।

তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রণোদনার দাবিগুলো বাস্তবায়ন হলে সরকারের মোট কর আদায় হ্রাস পাবে না বরং বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে বহু প্রতিষ্ঠান আছে অনেক ভালো ব্যবসা করছে। অনেক শিল্প কারখানা আছে তালিকাভুক্ত না হয়ে অনেক সুবিধা ভোগ করছে কর/ভ্যাট কম দিচ্ছে। সুবিধা পেলে তারা তালিকাভুক্তিতে উৎসাহ পাবে। 

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহীম বলেন, আমরা আশা করেছিলাম বাজেটে পুঁজিবাজার বিষয়ে কিছু থাকবে। কিন্তু এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য কিছুই রাখা হয়নি। অথচ ব্যাংক দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগের জন্য নয়, দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগের জন্য পুঁজিবাজারের বিকল্প নেই।

ডিবিএ প্রেসিডেন্ট রিচার্ড ডি. রোজারিও বলেন, আমাদের অর্থনীতি এতদিন গরিব দেশ হিসেবে কিছু সুযোগ সুবিধা পেয়েছে, যখন আমরা উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হব তখন আমরা অনেক সুযোগ হারাব। এ জন্য দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করতে হলে আমাদের ছোট ছোট কোম্পানিগুলোর দিকে নজর দিতে হবে এবং তাদের পুঁজি সংগ্রহের সুযোগ দিতে হবে।

বাইরের দেশগুলোতে তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির কর হারে অনেক বেশি ব্যবধান থাকে। যা আমাদের দেশে অনেক কম। তাই এই ব্যবধান আরও বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।

বাজেট শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়। এটি একটি রাজনৈতিক দর্শনের আলোকে হয়ে থাকে জানিয়ে সিএমজিএফের প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বলেন, বাজেটে যখন পুঁজিবাজারের উপস্থিতি থাকে না, তখন বিনিয়োগকারীদের কাছে একটি বার্তা যায়, সরকার পুঁজিবাজার নিয়ে ভাবছে না। আমরা আশা করব, প্রস্তাবিত বাজেট আলোচনায় এটি স্থান পাবে। আমরা যেখানে বলছি, স্মার্ট বাংলাদেশ অভিযাত্রার দিকে যাত্রা শুরু করেছি। সেখানে প্রথাগত আর্থিক খাতকে অর্থায়নের উৎস হিসেবে ধরে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়া সম্ভব না।

মন্ত্রী পুঁজিবাজার বিষয়ক দাবিগুলোর সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, আমি মনে করি, এখন আমরা যে পর্যায়ে পৌঁছেছি আমাদের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আগের তুলনায় অনেক দক্ষ, আমাদের বেটার টেকনোলজি, বেটার বিজনেস কমিউনিটি রয়েছে। তাই এখন আর অগ্রিম আয় কর (এআইটি) দরকার নেই। এটি তুলে দেওয়া যায়। সংশ্লিষ্ট অথরিটির সবার সঙ্গে আলোচনা করে এটি তুলে দিতে পারে। দ্বৈত কর থাকা উচিত নয় বলেও তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, এটি কেন হবে, একজন মানুষ ট্যাক্স তো একবারই দেবে। এটির কারণ ব্যাখ্যা হওয়া করা উচিত, এর গভীরে গিয়ে দেখা উচিত।

এ ছাড়া মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে লিস্টেড হওয়া উচিত বলেও তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, এই আলোচনা ৭-৮ বছর আগেও শুনেছি। এখনও শুনছি, কিন্তু বছরের পর বছর তারা লিস্টেড না হয়েই ব্যবসা করছে আমাদের দেশে। এ বিষয়ে আমাদের আরও চাপ প্রয়োগ করতে হবে। 

বর্তমানে তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির কর হারের পার্থক্য ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ। তবে ব্যাংক, বিমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, টেলিকম, টোব্যাকো ইত্যাদি খাত এর আওতার বাইরে।

মাত্র ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ কর রেয়াত উদ্যোক্তাদের তালিকাভুক্তি হতে উদ্বুদ্ধ করছে না। তাই প্রস্তাবিত বাজেটে তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির কর হারের পার্থক্য বাড়ানোর দাবি করেন বিএমবিএ সভাপতি ছায়েদুর রহমান।

এ ছাড়া তিনি, লভ্যাংশের ওপর দ্বৈত কর প্রত্যাহার, বন্ডের ওপর অগ্রিম চূড়ান্ত কর হিসেবে বিবেচনা করা, লেনদেন কর নামিয়ে শূন্য দশমিক ০১৫ শতাংশ করা যা বর্তমানে ০.০৫ শতাংশ (শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ) রয়েছে করার দাবিও জানান। বন্ড ও মিউচুয়াল ফান্ডকে পুঁজিবাজার এক্সপোজার এর বাইরে রাখলে পুঁজিবাজার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি দাবি জানান।



Loading...
Loading...
বাজেট- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: