করোনা পরবর্তী বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধজনিত কারণে ডলার সংকট, কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি, এলসি খোলা ইত্যাদি সংক্রান্ত জটিলতার মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য চালু রাখতে হচ্ছে। অথচ প্রস্তাবিত ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে ব্যবসায় গতিশীলতা আনতে সুনির্দিষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা নেই। তাই এ বিষয়ে আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করছি।
শতভাগ রফতানিমুখী গার্মেন্টস এক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং শিল্প প্রতিষ্ঠানের শিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্টস এক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএপিএমইএ) নেতারা এসব কথা বলেন। প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর মতামত তুলে ধরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এসব কথা বলা হয়।
সংগঠনটির নেতারা বলেন, ঘোষিত ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার বাজেটে ব্যক্তি পর্যায়ে করমুক্ত আয়ের সীমা ৩.৫ লাখে উন্নীতকরণ এবং সøাবভিত্তিক কর হার পরিবর্তন না করে, সব সেক্টরের জন্য করপোরেট কর হার অপরিবর্তিত রেখে, কাস্টমস ডিউটি রেগুলেটরি ডিউটি সাপ্লিমেন্টারি ডিউটি ধার্যকরণের সøাব অপরিবর্তিত রেখে, দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষার জন্য ট্যারিফ শিডিউল যৌক্তিককরণের প্রস্তাব করে বিনিয়োগ ও ব্যবসাবান্ধব বাজেট প্রস্তাবনা অব্যাহত রাখা দরকার ছিল।
বিজিএপিএমইএ নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ ও ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের কারণে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্তভাবে আমাদের পণ্য রফতানিতে যে প্রতিকূলতার সম্মুখীন হবে তা মোকাবিলা করার জন্য বাজেটে বাস্তবসম্মত দিকনির্দেশনা নেই। সব রফতানির ক্ষেত্রে উৎসে কর আগামী ৫ বছরের জন্য ০.৫০ শতাংশে ধার্যকরণ, কোম্পানির ব্যাংক হিসাবের সুদের ওপর উৎসে কর ১০ শতাংশে পুনর্নির্ধারণ করা হয়নি, যা রফতানিকারক ও ব্যবসায়ীদের জন্য অনুকূল হয়নি।
তারা বলেন, দেশের সব সরাসরি রফতানি খাত বিশেষত পোশাক খাতের অগ্রযাত্রার পেছনের চালিকা হলো গার্মেন্টস এক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং খাত। ২০২৭ সালে পোশাক খাত যখন আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে প্রবেশ করতে চাইবে, তখন সহজলভ্য মূল্যে ও সর্বনিম্ন লিডিং টাইমে যে খাত তাদেরকে সাপোর্ট দিতে পারবে তা হলো এক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং খাত। জাতীয় রফতানিতে শতকরা ৮৩ ভাগ অবদান রেখে যে পোশাক খাত আজ রফতানি খাতের বিরাট মহিরুহে রূপান্তর হয়েছে তার পেছনে শুরু থেকে এক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং শিল্পের ভূমিকা থাকলেও এবং জাতীয় শিল্প নীতি, রফতানি নীতি, বস্ত্র নীতিতে এ সেক্টরের জন্য সম-সুযোগের উল্লেখ থাকলেও এ যাবৎকাল তা প্রদান করা হয়নি।
ফলে এ সেক্টরের আশানুরূপ অগ্রগতি বিশেষ করে ২০২৭ সালে দেশের উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে রফতানি খাতের সম্ভাব্য প্রতিকূলতা মেকাবিলার উপযোগীভাবে গড়ে উঠেনি।
যদিও চলতি বাজেটে পশ্চাৎ সংযোগ শিল্পের অনুকূলে ইনসেনটিভ প্রদানের ঘোষণা করা হয়েছে, তারপরও বিজিএপিএমইএ মনে করে রফতানিতে বিশেষ করে পোশাক খাতের আগামীর চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলার জন্য বস্ত্র খাতের সহযোগী হিসেবে গার্মেন্টস এক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং খাতে উৎসে কর আগামী ৫ বছরের জন্য ধার্যকরণ, পোশাক শিল্পের বন্ডেড প্রতিষ্ঠানের ন্যায় এ সেক্টরের বন্ডেড ওয়্যারহাউস প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে সমরূপ সুবিধা প্রদান, গার্মেন্টস এক্সেসরিজ ও প্যাকেজিংয়ের যেসব পণ্য দেশে উৎপাদন হয় দেশীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানকে সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ওইসব পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধকরণ, পিআরসি পাওয়া রফতানিকারকের ওপর নির্ভর করে না বিধায় প্রস্তাবিত বাজেটে বিকল্প উপায়ে রফতানি প্রণোদনা প্রদানের আবেদন বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে।
একই যুক্তিতে পিআরসি পাওয়ার বিলম্বের কারণে দি কাস্টমস অ্যাক্টের ১৫৬ (১) ৬৬এএ ধারায় জরিমানা আরোপ করার বিধান বাতিল করার এবং দি কাস্টমস অ্যাক্ট ১৯৫৯-এর ১৫১(১) এবং ১৯৬(এ) উপানুচ্ছেদের জরিমানা-অর্থ জমাদান ন্যায় নির্ণায়কের বিবেচনার ওপর না রেখে সুনির্দিষ্টভাবে যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য আর্থিক পরিমাণ উল্লেখ করে অথবা কোনোরূপ অর্থ জমাদান না করে আপিলের ব্যবস্থাকরণ সংক্রান্ত সংশোধনের ব্যবস্থা করা দরকার।