আলু-পেঁয়াজে নির্লজ্জ ডাকাতি

আরমান হেকিম

জাতীয়

ব্যবসায়ীদের অতি লাভের লালসার শিকার হচ্ছেন ক্রেতারা। ১১ টাকা ৫১ পয়সায় উৎপাদন করা প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে

2023-11-03T07:19:08+00:00
2023-11-03T07:19:08+00:00
 
  শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬,
২০ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
আলু-পেঁয়াজে নির্লজ্জ ডাকাতি
আরমান হেকিম
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৩, ৭:১৯ এএম 
আলু-পেঁয়াজে নির্লজ্জ ডাকাতি
ব্যবসায়ীদের অতি লাভের লালসার শিকার হচ্ছেন ক্রেতারা। ১১ টাকা ৫১ পয়সায় উৎপাদন করা প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়। অন্যদিকে ৩৩ টাকা ৪ পয়সায় উৎপাদন করা প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায়। অর্থাৎ উৎপাদন খরচ থেকে প্রায় পাঁচগুণ বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে আলু ও পেঁয়াজ। সরকারের কৃষি বিপণন অধিদফতরের উৎপাদন খরচের তথ্য বিশ্লেষণে এ চিত্র পাওয়া যায়।  

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যবসায়ীদের অতি লোভের বলি হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। যেখানে খরচ বাঁচাতে নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা খাবারের পাত থেকে অনেক খাবার কাটছাঁট করছেন, সেখানে ব্যবসায়ীদের এই অতি মুনাফা ডাকাতির শামিল। তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা ।

কৃষি বিপণন অধিদফতর বলছে, প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ উৎপাদনে খরচ হয় ৩৩ টাকা ৪ পয়সা। পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ মেটানোর পরে এটি ৬৫ টাকা কেজিতে বিক্রি করলেও লাভ থাকে। সাদা আলুর উৎপাদন খরচ ১১ টাকা ৫১ পয়সা। যৌক্তিক মূল্য হতে পারে ৩৬ টাকা।

বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, এক কেজি আলু সংরক্ষণে জেলা ভেদে ৫ টাকা ২০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৫ টাকা ৫০ পয়সার মতো পড়ে। পরিবহন সংশ্লিষ্ট একটি তথ্য বলছে, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ঢাকার বাজারে পণ্য আনতে কেজিতে খরচ পড়ে পাঁচ টাকার মতো। এছাড়া অন্যান্য খরচ হয় ৫ থেকে ৬ টাকার মতো। অর্থাৎ সব মিলিয়ে প্রতি কেজি আলুর খরচ হয় ২৬ থেকে ২৮ টাকা।

এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক এএইচএম সফিকুজ্জামান বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয় ও অন্যরা মাঠপর্যায়ের যে তথ্য আমাদের কাছে দিয়েছে তাতে দেখা গেছে, প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে খরচ পড়েছে ১০-১২ টাকা। হিমাগারে সংরক্ষণসহ আলু ব্যবসায়ীদের খরচ পড়ছে ১৮-২০ টাকা। এছাড়া পরিবহন ও অন্যান্য খরচ দিয়ে আলুর দাম সর্বোচ্চ ২৭ থেকে ২৮ টাকা হলেও ব্যবসায়ীদের মুনাফা থাকে। সেই আলু রাজধানীর পাইকারি বাজারে এসে অন্যান্য খরচসহ ৩১ থেকে ৩২ টাকা এবং ভোক্তাপর্যায়ে সর্বোচ্চ ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা হতে পারে।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন সময়ের আলোকে বলেন, উৎপাদনব্যয়ের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি দামে বিক্রি হলেও কৃষকরা মুনাফা করতে পারছেন না। মধ্যস্বত্বভোগীরা নানা অজুহাত দেখিয়ে অতিরিক্ত মুনাফা করছে। কৃষকরা যদি সরাসরি বাজারে গিয়ে বিক্রি করতে পারত তাহলে এসব সমস্যার সমাধান হতো।
নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির মধ্যে ক্রেতাদের সামান্য স্বস্তি দিতে গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে সরকার আলু ও পেঁয়াজসহ পাঁচ পণ্যের দাম বেঁধে দেয়। সে হিসাবে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হওয়ার কথা ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা এবং পেঁয়াজের কেজি হওয়ার কথা ৬৪ থেকে ৬৫ টাকা।

সরকার দাম বেঁধে দেওয়ার পরে প্রায় দুই মাস পার হতে চললেও এখনও বাজারে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। বরাবরের মতো সরকারের এই ঘোষণাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজেদের চাহিদামতো দামে পণ্য বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি কেজি সাদা আলু বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়। আর পেঁয়াজ ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা,  যা উৎপাদনব্যয় ও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি।

এখনও সরকারের বেঁধে দেওয়া দাম কার্যকর না হওয়ার পেছনে বাজারে সরবরাহ ঘাটতিকে দায়ি মনে করছেন ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান। তিনি সময়ের আলোকে বলেন, নিত্যপণ্যের দাম কার্যকর না হওয়ার পেছনে ভোক্তা অধিকার বা প্রতিযোগিতা কমিশনের কোনো যোগসূত্র নেই। বাজারে সরবরাহ সন্তোষজনক পর্যায়ে থাকলে এমনিতেই দাম কমে যেত।

সময়ের আলো/আরএস/ 



Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: