জিততে পারবে না বলেই বিএনপি নির্বাচন চায় না

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজনীতি

বিএনপি-জামায়াত নির্বাচন বানচালের চক্রান্ত করছে অভিযোগ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি-জামায়াতের চক্রান্ত হলো নির্বাচন বানচাল

2023-11-03T18:28:14+00:00
2023-11-03T21:12:03+00:00
 
  শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬,
১৯ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
রাজনীতি
জিততে পারবে না বলেই বিএনপি নির্বাচন চায় না
জেলহত্যা দিবসে আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৩, ৬:২৮ পিএম  আপডেট: ০৩.১১.২০২৩ ৯:১২ পিএম
বিএনপি-জামায়াত নির্বাচন বানচালের চক্রান্ত করছে অভিযোগ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি-জামায়াতের চক্রান্ত হলো নির্বাচন বানচাল করা। আর এই নির্বাচন বানচাল করার পেছনে অনেকেরই হাত রয়েছে। 

তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে দেশের জনগণ নেই। কিন্তু আমাদের শক্তি জনগণ। বাংলাদেশের মানুষ। আমাদের আর কিছু নেই। আমাদের কোনো মুরুব্বি নেই। সেই জনগণ নিয়েই আমাদের চলতে হবে। আমরা ভোট ও ভাতের অধিকার নিশ্চিত করেছি। জাতির পিতা ও জাতীয় চার নেতার আদর্শ নিয়ে বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। ওই সব দুষ্কৃতকারী কয়েকজনের লাফালাফিতে এদেশের নির্বাচন কখনও বানচাল করতে পারবে না। দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না। নির্বাচনে নানাভাবে গোলমাল করার চেষ্টা হবে। আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। মানুষ যেন শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পারে সেই পরিবেশ রাখতে হবে।

শুক্রবার (৩ নভেম্বর) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জেল হত্যা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

কারা মজুত করে জনগণের পকেট কাটার চেষ্টা করছে তাদের খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবজি আমাদের দেশে উৎপাদন হয়। এটা বাজারে না এনে রেখে দেবে। দাম বাড়িয়ে দেবে। মজুদ করে রেখে দেবে, কিন্তু বাজারে আনবে না। না এনে দাম বাড়িয়ে সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলবে। এটাই তারা করে যাচ্ছে।  কারা মজুত করে জনগণের পকেট কাটার চেষ্টা করছে খুঁজে বের করতে হবে। দ্রব্যমূল্য নিয়ে নানাভাবে চক্রান্ত হচ্ছে। সব কিছুর উৎপাদন খরচ বেড়েছে। তাহলে কীসের অভাব হবে? এগুলোর পেছনে কারা আছে? এই ধরনের কারা মজুত করে? মালপত্র থাকা সত্ত্বেও বাজারে না এনে জনগণের পকেট কাটার চেষ্টা করে এদের খুঁজে বের করতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। উৎপাদন এতটুকু কমেনি। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অতিরিক্ত দাম দিয়ে আমরা কিনে নিয়ে আসছি। কিন্তু সেটা মানুষের কাছে পৌছাবে না কেন?

শেখ হাসিনা বলেন, দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিএনপি-জামায়াতের চলমান অবরোধ, অগ্নিসন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। ওই ভাওতাভাজি, সন্ত্রাস এগুলোর বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদ করতে হবে সর্বস্তরের মানুষকে নিয়ে। কারণ আমরা জনগণের শক্তিতে বিশ্বাস করি। কেউ আগুন দিলে তার হাত পুড়িয়ে দিতে হবে। তারা দেশের অর্জন ও মর্যাদাকে ধ্বংস করতে চায়। এজন্য যে যেখানে আছে সবাইকে যার যার এলাকা, সবাইকে এমনভাবে সংগঠিত হতে হবে যেন ওই অবরোধ আর অগ্নিসন্ত্রাস করে আর একটাও পার না পায়। যদি কোনোটা আগুন দেওয়ার সময় হাতেনাতে ধরা পড়ে, তাহলে তাকে ওই আগুনেই ফেলতে হবে। আর হাত পোড়াতে হবে। যে হাত দিয়ে আগুন দেবে ওই হাত পোড়াতে হবে। তাহলে তারা সিধে হবে। না হলে তারা সিধে হবে না। যে যেমন তার সঙ্গে তেমনটি করতে হয়। যেমন কুকুর তেমন মুগুর দিতে হয়। তাহলে ওদের শিক্ষা হবে। এই অগ্নিসন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রত্যেক এলাকায় প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। যেখানে যেখানে এই অগ্নি সন্ত্রাস করছে, সেই এলাকায় কত বিএনপি-জামায়াত আছে, খুঁজে বের করতে হবে। ওইগুলোকে ধরিয়ে দিতে হবে। জানমালের যেন ক্ষতি করতে পারে তার সুরক্ষা দিতে হবে। এটাই আওয়ামী লীগের দায়িত্ব। একজন পুলিশ সদস্যকে কিভাবে হত্যা করেছে। কীভাবে মেরেছে? মাথার হেলমেটটা পর্যন্ত খুলে নিয়ে কোপালো। এরা কী মানুষ? এদের মধ্যে কী মনুষত্ববোধ আছে? এরা কীসের রাজনীতি করে? যারা মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করে তারা কীসের রাজনীতি করে? কার জন্য রাজনীতি করে?

বিএনপির নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, বিএনপি, ওরা আসলে সিট পাবে না দেখে নির্বাচন করবে কি না সন্দেহ। আর নির্বাচনে এলেও আসবে ওই নমিনেশন বাণিজ্য করার জন্য। জিততে পারবে না বলেই তারা নির্বাচন চায় না। ওরা জানে যে নির্বাচন করলে কোনোদিন ক্ষমতায় আসতে পারবে না। কারণ ২০০৮ এর নির্বাচনে ৩০০ সিটের মধ্যে পেয়েছিল মাত্র ৩০টি সিটি। এখন তো ওদের অপকর্মের জন্য মানুষ ওদের প্রতি আরও বিমুখ। নির্বাচন কাকে নিয়ে করবে? নির্বাচন করলে ওদের নেতা কে? কাকে প্রধানমন্ত্রী করবে? কাকে দিয়ে মন্ত্রিসভা করবে? সে কারণে তারা ইলেকশন চায় না। ইলেকশন বন্ধ করে দিয়ে তারা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায়। আর কোনও কোনও মহল থেকে তারা যথেষ্ট উসকানিও পায়।

আগামী নির্বাচনে বিদ্রোহী হয়ে প্রার্থী ও মনোনীত প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার প্রসঙ্গে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে শেখ হাসিনা বলেন, নমিনেশন সেটা তো আমরা দেবো। আর আমি বসে থাকি না। প্রতি ছয় মাস পর পর আমার একটা হিসাব থাকে। কেউ যদি মনে করে এখন তো ওরা নেই, আমরা দাঁড়ালে আমরা জিতেই যাবো, আর একটা সিট না পেলে কী হবে, বাকি সিট তো পাবে, সরকার গঠন করবে। এই চিন্তা যেন কারও মাথায় না থাকে। কারণ এই চিন্তায় কিন্তু সর্বনাশ ডেকে আনবে। দলীয় যে সিদ্ধান্ত দেবো তা মানতে হবে। জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করে সুষ্ঠু নির্বাচন করে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। যাতে করে এই দেশের অগ্রযাত্রা আর কেউ ব্যাহত করতে না পারে।

গত ২৮ অক্টোবরের ঘটনার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির অগ্নিসন্ত্রাস। তাদের যে বিভৎস চেহারা। তারা যে পিটিয়ে পিটিয়ে পুলিশ হত্যা করে। একজন নিরীহ পুলিশ চাকরি করে, তার কী অপরাধ? এই একবারই নয়। তারা ২০১৩ সালেও একই ঘটনা ঘটিয়েছে। ২০১৪ ও ২০১৫ সালেও একই ঘটনা ঘটিয়েছে। হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা, আগুনে পোড়ানো, গাড়ি-ঘোড়া, স্কুল, অফিস আদালত, রেল, লঞ্চ কী বাদ দিয়েছে তারা? অগ্নিসংযোগ করে তারা সারা বাংলাদেশে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ যখন প্রতিরোধ করছে তখনই তারা থেমেছে। যারাই এভাবে আগুন দেবে, জনগনের ওপর অত্যাচার করবে, গাড়ি-বাস-ট্রাকে আগুন দেবে, সঙ্গে সঙ্গে তাদের প্রতিরোধ করতে হবে। এখানে কারও ওপর নির্ভর করলে হবে না, জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে। ২০১৩ সালে যেভাবে শুরু করেছি। তখন যখন প্রতিরোধ শুরু হলো, নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করা হয়েছিল। সেই ৫২৫টি স্কুল পুড়িয়ে দিয়েছিল, যেখানে ছিল নির্বাচন কেন্দ্র। তারপরও নির্বাচনটাকে তারা থামাতে পারেনি।

তিনি আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়া এতিমের অর্থ আত্মসাতের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত। আর এখন তো অসুস্থ। তার বোন, ভাই, বোনের জামাই আমাদের কাছে এসেছে। আমার সঙ্গে, রেহানার সঙ্গে দেখা করেছে। কান্নাকাটি করেছে। আমি তার সাজাটা স্থগিত করে তাকে বাসায় থাকার আর তার ইচ্ছেমতো চিকিৎসা নেওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। একবার ভেবে দেখেন তো, যে আমাকে বার বার হত্যা করার চেষ্টা করেছে, আমার বাবা, মা, ভাইদের হত্যা করেছে। ওই হত্যার পেছনে জিয়াউর রহমান ও ওই পরিবারটা দায়ী। ছেলে মারা গেছে, আমি গেলাম সহানুভূতি দেখাতে। আমার দরজা বন্ধ করে দিলো। তারপরও তার পরিবার কান্নাকাটি করে। একটা কুলাঙ্গার পয়দা করে গেছে জিয়াউর রহমান। বাংলাদেশে অস্ত্র চোরাকারবারীর একটা স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলেছিল। হাতেনাতে ধরা, যে পুলিশ ধরেছে তাকে আবার শাস্তি দিয়েছে। এরা খুন করা ছাড়া আর কিছু জানে না। বিএনপি ওই সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ার‌ম্যান করেছে। কেন, বিএনপিতে আর কোনো নেতা ছিল না? যারা অন্তত লেখাপড়া সব দিক থেকে ভালো, সেটা করতে পারেনি। মুচলেকা দিয়ে চলে যায়। শোনা যায় সেখানে গিয়ে জুয়া খেলে কোটি কোটি পাউন্ড কামাই করে। এটাই নাকি আর সোর্স অব ইনকাম। আর ওখানে বসে জ্বালাও পোড়াও আর মানুষ খুনের নির্দেশ দেয়।

ফিলিস্তিন ইস্যুতে বিএনপির অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, প্যালেস্টাইনে কী হচ্ছে? হাসপাতালে বোমা মেরেছে। আর এখানে কী দেখলাম এই বিএনপি-জামায়াত পুলিশ হাসপাতালে আগুন দেয়, অ্যাম্বুলেন্স পোড়ায়। ভাঙচুর করে। এরা কোথা থেকে কী শিক্ষা পাচ্ছে, সেটাই আমাদের প্রশ্ন। ফিলিস্তিনে জনগনের ওপর যখন অত্যাচার, আমরা তাদের পেছনে দাঁড়িয়েছি। কিন্তু এদের (বিএনপি) মুখে একটাও কথা নেই। তারা কি একটাও প্রতিবাদ করেছে? করেনি। তাহলে কাদের তাঁবেদারি করে? কাদের পদলেহন করে লাফালাফি করে তারা। স্বাধীনতার সময়ে অনেক দেশ বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ছিল। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণই অস্ত্র হাতে তুলে স্বাধীন করেছিল। বাংলাদেশের জনগণই সব ক্ষমতা রাখে। যারা স্বাধীনতাবিরোধী ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী, দেশ ভালো থাকলে ওদের মনে জ্বালা হয়। এদের যন্ত্রণা হয়। মানুষের স্বস্তিতে থাকাটা ওদের পছন্দ নয়। মানুষের জীবন নিয়ে ওরা ছিনিমিনি খেলে। যে কারণে এর এই জ্বালাও-পোড়াও, অগ্নিসংযোগ করে বেড়াচ্ছে।

এ আলোচনা আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সভাপতি মণ্ডলির সদস্য শাজাহান খান, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, জাতীয় চার নেতার অন্যতম তাজউদ্দিন আহমেদের কন্যা সিমিন হোসেন রিমি, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, কার্যনির্বাহী সদস্য ডা. মুশফিক হোসেন চৌধুরী, সৈয়দ নজরুল ইসলামের মেয়ে ডা. সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি এমপি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শুরুতে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ এবং উপ-প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ আব্দুল আউয়াল শামীম যৌথভাবে আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন।

সময়ের আলো/জেডআই


Loading...
Loading...
রাজনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: