সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ বলেছেন, ২০০১ সালের পর জেল হত্যার বিচারকার্য প্রহসনে পরিণত করা হয়েছিল। আমরাতো এখন পর্যন্ত সঠিক বিচার পাইনি। সেখানে আক্ষেপের বিষয় আছে।
শুক্রবার (৩ নভেম্বর) সকালে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতা হত্যার বিচার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
চার নেতার পলাতক খুনিদের ফিরিয়ে আনার অগ্রগতি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি সরকারে নেই, রাজনীতিতেও নেই, এ জন্য বিষয়টি অবগত না। এটা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জিজ্ঞেস করতে পারেন।
এখনো ফিরিয়ে না আনায় আক্ষেপ রয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমাদের আক্ষেপের অনেক বিষয়ই আছে। এর মধ্যে একটি হলো আমরা সঠিক বিচার পাইনি। ২০০১ সালের পর জেল হত্যার বিচারকার্য প্রহসনে পরিণত করা হয়েছিল। আমরাতো এখন পর্যন্ত সঠিক বিচার পাইনি। সেখানে আক্ষেপের বিষয় আছে।
সোহেল তাজ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমি গত দুই বছর ধরে স্মারকলিপি প্রদান করছি। বৃহস্পতিবার রাতে আমি তার সঙ্গে দেখা করেছি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার বিস্তারিত আলাপ হয়েছে। আমি আমার তিন দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরেছি। প্রধানমন্ত্রী আমার দাবির সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে একমত হয়েছেন। তিনি আমাকে আশ্বস্ত করেছেন, দাবিগুলো বাস্তবায়নের কথা দিয়েছেন।
তিন দফা দাবি নিয়ে তিনি বলেন, জেল হত্যা দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা, ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকারকে প্রজাতন্ত্র দিবস হিসেবে পালন করা এবং জাতীয় চার নেতাসহ মুক্তিযুদ্ধে যাদের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে তাদের অবদান ও জীবনী পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা। এ বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করতে পারলে আগামী প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানানো যাবে।
সোহেল তাজ বলেন, ১৯৭১ সালে একটি স্বপ্ন দেখে লাখ লাখ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে জীবন দিয়েছিলেন। সেই স্বপ্নটা হলো একটি সোনার বাংলাদেশের। সব মানুষ যেন নিরাপদ বসবাস করতে পারে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন আমরা কী সেই বাংলাদেশ পেয়েছি আজ অবদি? এ প্রশ্নের উত্তর যদি না হয়, তাহলে কীভাবে আমরা সেই বাংলাদেশ পাবো?
তিনি বলেন, এ বাংলাদেশ গড়বে নতুন প্রজন্ম। নতুন প্রজন্ম যদি সঠিক ইতিহাস জানে, আমাদের গৌরবের ইতিহাস জানে, আমাদের ইতিহাসে এমন ব্যক্তিত্ব ছিল যারা মহানকৃতি করেছে বীরত্বের সঙ্গে। তাহলে আমি বিশ্বাস করি, তাদের জীবন থেকে অনুপ্রেরণা তারা নিতে পারে। অনুপ্রাণিত হয়ে ভবিষ্যতে সেই বাংলাদেশ বিনির্মাণে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।
সময়ের আলো/জিকে