এক দফা দাবিতে বিএনপি জামায়াতের ২য় দফার অবরোধ আজ। ৪৮ ঘণ্টার এই অবরোধ চলবে মঙ্গলবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত। এবারের অবরোধে বিএনপি চাইছে মাঠে আরও জোরালো হতে। তারা অবরোধের বাইরে আর কোন বিকল্প দেখছে না। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল মাঠ পর্যায়ের সব নেতাকর্মীকে হাইকমান্ড কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন। দায়িত্ব ভাগ করে কর্মসূচি সফল করতে একগুচ্ছ নির্দেশনা দিয়েছেন।
নেতারা বলছেন, সরকার এক দফা নির্বাচনের পথেই হাঁটছে ধরে নিয়ে বিএনপি আরও হার্ডলাইনে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। গ্রেফতার আতঙ্ক মাঠ নিয়েই বিএনপি কৌশলে মাঠে থাকার চেষ্টা করছে। নেতাকর্মীরা সবাই মাঠে নেমে আসছে ধীরে ধীরে। ঘরেও নিস্তার দিচ্ছে না পুলিশ। বেছে বেছে সবাইকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। পরিকল্পনা থেকে শুরু করে মাঠের নামা- সবকিছুই কৌশলে করছেন তারা।
মাঠ পর্যায়ের নেতা যুবদল উত্তরের আহ্বায়ক শরিফ উদ্দিন জুয়েল সময়ের আলোকে বলেন, আমরা বিভিন্ন ইউনিটে ভাগ হয়ে কাজ করছি। লন্ডন থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান একযোগে মাঠ পর্যায়ের কয়েক হাজার নেতাকে যুক্ত করে আন্দোলন ও নেতৃত্বের বার্তা দিচ্ছেন। সেইভাবেই কাজ চলছে। হয়তো আমরা একসঙ্গে বসতে পারছি না। অসুস্থ ও গুরুতর মামলা ছাড়া এখন সবাইকে মাঠে নামার নির্দেশনা আছে।
গাজীপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ রিয়াজুল হান্নান সময়ের আলোকে বলেন, বার্তা একটাই- যেকোনো মূল্যে মাঠে পড়ে থাকতে হবে। ছেড়ে দিলে আওয়ামী লীগ মাঠ দখলে নিয়ে নিবে। আমাদের এখন ডু অর ডাই সিচুয়েশন। ফ্যাসিবাদি রাষ্ট্রযন্ত্রের সঙ্গে সব সময় পারাটা কঠিন। তবে সরকারের ওপর ক্রমেই দেশি বিদেশি চাপ বাড়ছে।
তৃণমূলের নেতা সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা মোস্তফা জামান সময়ের আলোকে জানান, মহাসকড়ের বিভিন্ন পয়েন্টে পিকেটিং করতে আমাদের দায়িত্ব ভাগ করে দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন তিনি। সেইসঙ্গে গ্রেফতার এড়িয়ে কৌশলে মাঠে থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন। এ পর্যন্ত জেলায় ৬০-৬৫ জন নেতাকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ সাড়াশি অভিযান চালাচ্ছে।
এদিকে বিএনপি শূণ্য করতে সারাদেশে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত বিরোধী নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শনিবার বিকালে এক ভার্চুয়াল সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই কথা বলেন তিনি।
রিজভী বলেন, গ্রেফতার থামছে না। দেশের কেন্দ্র থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্য্ন্ত, ইউনিয়ন পর্যন্ত গ্রেফতারের যে হিড়িক চলছে, যে ধারা চলছে সেটা ভাষায় বলা যাবে না এবং তার সাথে চলছে আক্রমনে আক্রান্ত হয়ে নিহত হওয়ার ঘটনাও কিন্তু থামছে না।
রিজভী জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৭৬ জনের অধিক নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে, বিভিন্ন মামলায় ৫৭৫ জনের অধিক নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়েছে। ২৮ অক্টোবর মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে এই পর্যন্ত ৭ হাজার ৭১৩ জন, মোট মামলা হয়েছে ৫০৬টির অধিক, মোট আসামি ৩৮ হাজার ৫৬০ জন, মৃতু ১০ জন এবং আহত ৫ হাজার ৭৮০ জন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী থাকার যে কি স্বাদ সেই তো তিনি পেয়েছেন। সেই স্বাদের কারণে তিনি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে চান না। দরকার হলে আরো যদি রক্ত ঝরাতে হয়, রক্ত ঝরিয়ে হলেও এক তরফা নির্বাচন করবেন তিনি।
বিএনপি'র দ্বিতীয় দফা ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ শুরুর প্রক্কালে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান বলেছেন, বিএনপির ভিত্তি হচ্ছে তৃণমূলের জনগণের শিকড়ে। তার ওপরে রয়েছে মধ্য সারির ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। সবার শীর্ষে এই দুয়ের ওপরে শক্ত মাটির ওপরে দাঁড়িয়ে আছে বিএনপিকে যারা সমন্বয় করে দিক নির্দেশনা দেয় সেই কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। গত কয়েকদিনে সবাই প্রত্যক্ষ করেছেন যে, যাকেই যেখানে গ্রেফতার করে নিয়ে যাচ্ছে সেখানে তাৎক্ষণিকভাবে নতুন নেতৃত্ব গড়ে উঠছে জনগণের মধ্য থেকে। বিএনপিকে নেতৃত্বশূন্য ও নিশ্চিহ্ন করার চিন্তা বুমেরাং হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, মিথ্যা মামলা-হামলা আর গ্রেফতার-আটক এর মাধ্যমে এই জনগণের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে স্তব্ধ করা যাবে না। আমরা চাই জাতিকে এই সাংঘর্ষিক রাজনীতি থেকে মুক্ত করে একটি নিয়মতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক পথে ফিরিয়ে আনব।
সময়ের আলো/এম