আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে প্রার্থী হওয়ার জন্য রোববার চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বাঁশখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চৌধুরী মোহাম্মদ গালিব সাদলী। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব বরাবর পদত্যাগের আবেদন করেন তিনি। এ ছাড়া কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) সংসদীয় আসনে নির্বাচন করার লক্ষ্যে পদত্যাগ করেছেন দেবীদ্বার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ।
সোমবার দুপুরে পদত্যাগের বিষয়টি তিনি সাংবাদিকদের জানান। শুধু এই দুইজন নয়, তাদের মতো ১৩ জন উপজেলা চেয়ারম্যান ও একজন ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের মনোনয়নে এমপি হওয়ার আশায় চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী সরকারের কোনো লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থাকলে তিনি প্রার্থী হওয়ার যোগ্য হবেন না। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের জনপ্রতিনিধিদের পদ লাভজনক হওয়ায় এসব পদে থেকে সংসদ নির্বাচন করা যাবে না। তাই পদ ছেড়েই জাতীয় নির্বাচনে অংশ গ্রহণের প্রস্তুতি নিয়েছেন চেয়ারম্যানরা। স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্র জানায়, সোমবার পর্যন্ত ১৩ জন উপজেলা চেয়ারম্যান ও একজন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেছেন। এ ছাড়া আরও বেশ কয়েকজন পদত্যাগ করতে পারে বলে জানা গেছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনো পৌরসভার মেয়র বা সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলরের কোনো পদত্যাগ পত্র পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান।
স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্র জানায়, নেত্রকোনা-১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন জান্নাতুল ফেরদৌস আরা ঝুমা তালুকদার। ১৫ নভেম্বর তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এ ছাড়া চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গাজী মো. মাইনুদ্দিন ও চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম রোমান তাদের চেয়ারম্যান পদ ছেড়েছেন। রোমান চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসন থেকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী।
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করা ইউনুছ ইসলাম তালুকদার ঠান্ডু টাঙ্গাইল-২ (ভুঞাপুর-গোপালপুর) আসন থেকে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী। গত ১৭ সেপ্টেম্বর তিনি টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসকের কাছে চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মাসুরা বেগম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়, ৩ অক্টেবার তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে এবং চেয়ারম্যান পদটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।
ঢাকা-২০ আসনে প্রার্থী হতে ধামরাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ ছেড়েছেন মোহাদ্দেছ হোসেন। স্থানীয় সরকার সচিব বরাবর দেওয়া পদত্যাগপত্র গত ৩০ অক্টোবর দুপুরে তিনি ঢাকা জেলা প্রশাসকের দফতরে জমা দেন। মোহাদ্দেছ হোসেন বর্তমানে ধামরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হওয়ার আশায় শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। গত ২ নভেম্বর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব বরাবর এই পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। চট্টগ্রামের সীতাকু- উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম আল মামুন পদত্যাগ করেছেন ৩০ অক্টোবর। তিনি চট্টগ্রাম-৪ সংসদীয় আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী। এসএম আল মামুন টানা দুইবার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া তিনি সীতাকুণ্ড উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ মোতালেবও পদ ছেড়েছেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার আশায় সম্প্রতি পদত্যাগ করেন তিনি। সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া-সলঙ্গা) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী উল্লাপাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ ছেড়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শফিকুল ইসলাম শফি। সুনামগঞ্জ-২ আসনে (দিরাই ও শাল্লা) আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী শাল্লা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মাহমুদ ওরফে আল আমিন চৌধুরী ১৯ নভেম্বর বিকালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তিনি পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের ছোট ভাই। এ ছাড়া বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলাম, অন্যদিকে সাভার উপজেলার আশুলিয়ার ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম পদত্যাগ করেছেন। ৮ নভেম্বর তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলামের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। তিনি আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। জানা গেছে, তিনি ঢাকা-১৯ (সাভার ও আশুলিয়া) আসন থেকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী। এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান।
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে স্থানীয় সরকারগুলোর মেয়র ও চেয়ারম্যানরা পদে থেকে প্রার্থী হতে পারবেন না। এ জন্য তাদের পদত্যাগ করেই মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে এমন নির্দেশনা দিয়ে গত বৃহস্পতিবার রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি পাঠায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ কারণে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী চেয়ারম্যানরা পদত্যাগ পত্র জামা দিয়ে দলীয় মনোনয়ন ফরম ক্রয় করছেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের উপজেলা-১ অধিশাখার যুগ্ম সচিব মাসুম পাটোয়ারী জানান, পদত্যাগপত্রগুলো পাওয়ার পর সিদ্ধান্ত প্রদানের জন্য নোট দিয়ে সচিবের বরাবর পাঠানো হয়েছে। তবে অনেকেই ইউএনও এবং ডিসির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার কারণে সব পদত্যাগ পত্র তাদের কাছে এখনও এসে পৌঁছেনি। তিনি বলেন, চেয়ারম্যান পদ শূন্য ঘোষণা করে পরিপত্র জারি করার পর এ বিষয়ে আর কোনো আবেদনের সুযোগ থাকবে না। চেয়ারম্যান পদ শূন্য হওয়ার পর ভাইস চেয়ারম্যানদের মধ্য থেকে কাউকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করার নিয়ম রয়েছে। তবে নির্বাচন করতে বিলম্ব হলে চেয়ারম্যান পদে প্রশাসক নিয়োগের বিধানও রয়েছে। উপজেলা পরিষদ আইন-২০০৮ অনুসারে কোনো চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতি বা পদত্যাগ করলে প্যানেল চেয়ারম্যান-১ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন। ৯০ কর্মদিবসের মধ্যে নির্বাচন করে নতুন চেয়ারম্যানের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে হবে। ৯০ কর্মদিবসের মধ্যে নির্বাচন করা সম্ভব না হলে সরকার চাইলে ওই উপজেলায় প্রশাসক নিয়োগ করতে পারবে।
সময়ের আলো/জেডআই