জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ইসলামি রাজনৈতিক দলের নেতারা। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গণভবনে ৯টি ইসলামি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ ১৪ জন নেতার একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। বৈঠকে নেতারা দল ও নিজের আসন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। জবাবে ভোটের বাইরে থাকা জামায়াতে ইসলামী অয্যুষিত আসনগুলোতে ছাড় দেওয়ার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলো হলো-বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি, বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোট, আশেকানে আউলিয়া ঐক্য পরিষদ এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। এদের মধ্যে কয়েকটি দল একসময় বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক ছিল। নেতাদের কেউ কেউ ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সংসদ নির্বাচনও করেছিলেন।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শুরু হয়ে দুই ঘন্টাব্যাপী চলে এই বৈঠক।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে ইসলামী ঐক্যজোট ১০টি আসন চেয়েছে। মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালীর একাংশ) আসন থেকে নির্বাচন করতে চান। কিন্তু সেটি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের আসন হওয়ায় তা নিয়ে কোনো কথা হয়নি। বৈঠকের আগেই আসনটি নিয়ে আলোচনা না করতে বলা হয়।
নির্বাচন কমিশনে সম্প্রতি নিবন্ধন পাওয়া বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারী চেয়েছেন ঢাকা-১৪ (মিরপুর, শাহ আলী ও দারুস সালাম) আসনটি। সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর এবং দক্ষিণ সুনামগঞ্জ) আসনে ছাড় চেয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সহ- সভাপতি মাওলানা শাহীনুর পাশা। জবাবে প্রধানমন্ত্রী কিছু জানাননি। তবে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ঢাকা-১৪ আসনটি আওয়ামী লীগ এবার নতুন জোট যুক্তফ্রন্টকে ছাড় দিতে পারে। যেখানে নির্বাচন করতে পারেন জোটের প্রধান সৈয়দ ইবরাহিম।
ইসলামী ঐক্যজোটের প্রয়াত চেয়ারম্যান মুফতি ফজলুল হক আমিনী ২০০১ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে জয়ী হন। তার ছেলে বর্তমান চেয়ারম্যান আবুল হাসানাত আমিনী আসনটি পুনরুদ্ধার করতে চান। বৈঠকে অংশ নেওয়া হাসানাত আমিনী বলেন, আমি ব্যক্তিগভাবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আসনটি চেয়েছি। তিনি তার লোকজনদের ডেকে বলেছেন যাতে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়। আমার মনে হচ্ছে তিনি আসনটি আমাকে ছাড় দেবেন।
ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ বাহাদুর শাহ মুজাদ্দেদী সময়ের আলোকে বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বৈঠক শুরু হয়ে দুই ঘণ্টার মতো চলে। সব নেতা আসন নিয়েই কথা বলেছেন। জাবাবে প্রধানমন্ত্রী জামায়াতে ইসলামী অধ্যুষিত আসনগুলোতে ছাড় দেওয়ার কথা বলেছেন। আমি চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ এবং শাহরাস্তি) আসন থেকে নির্বাচন করতে চাই। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তিনি দেখবেন।
বাহাদুর শাহ মুজাদ্দেদী আরও জানান, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শৈশব থেকে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের নানা ঘটনার কথা তুলে ধরেন। উন্নয়ন অগ্রযাত্রাসহ দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি দেশকে এগিয়ে নিতে চান। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত পিছিয়ে দিতে ষড়যন্ত্র করছে। প্রধানমন্ত্রী কথা দিয়েছেন এবার নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে।
নিবন্ধনহীন ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান সময়ের আলোকে বলেন, আমি ঢাকা-৫ আসন থেকে নির্বাচন করতে চাই। প্রধানমন্ত্রীকে আমি আমার আকাঙ্ক্ষার কথা জানিয়েছি। বিষয়টি তার ওপর ছেড়ে দিয়েছি। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী বলেন, আমাদের দল ও ইসলামি সংগঠনের প্রতিনিধিরা যাতে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করতে পারে বিষয়টি দেখবেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর দুই পাশে ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান মাওলানা এমএ মতিন ও মহাসচিব প্রিন্সিপাল সউ ম আবদুস সামাদ। তারাও তাদের আসন নিয়ে কথা বলেছেন। এ ছাড়া ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের প্রমুখ বৈঠকে অংশ নেন। পরে প্রতিনিধি দল শেখ হাসিনাকে একটি ক্যালিওগ্রাফি উপহার দেন। নির্বাচন নিয়ে। নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত ইসলামি দলগুলো শেষ মুহূর্তের সমীকরণ মেলাচ্ছে। তাদের মধ্যে কয়েক দল নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তারা প্রস্তুতি শুরু করেছে। ক্ষমতাসীন জোটে ঠাঁই পাওয়ার জোর চেষ্টা করছে। কেউ কেউ এখনও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। কেউ বা বিএনপির মতো নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে অনড়। আবার কারও দাবি জাতীয় সরকার।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্যমতে, নিবন্ধিত ৪৪টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল), খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, ইসলামী ঐক্যজোট, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন ও জাকের পার্টিসহ ১২টি দল ইসলামপন্থি হিসেবে পরিচিত।
সময়ের আলো/জেডআই