আজ ১৪ ডিসেম্বর শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস। বিজয়ের ঠিক আগে দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হারানোর দিন। ১৯৭১ সালের এ দিনে খুনি পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার, আলবদর, আল-শামসরা বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে। খুনি পাকিস্তানি বাহিনী তাদের পরাজয় আসন্ন জেনে বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার লক্ষ্যে বুদ্ধিজীবী নিধনের এই পরিকল্পনা করে। দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে এই দিনটি কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে।
একাত্তরে ৩০ লাখ লোক শহিদ হন। পরাজয়ের আগ মুহূর্তে চরম প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ওঠে পাকিস্তানি সৈন্যরা বেছে বেছে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ বিভিন্ন স্থান থেকে শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, আইনজীবী, প্রকৌশলী এবং সাংস্কৃতিক কর্মীসহ বিভিন্ন পেশার প্রথিতযশা ব্যক্তিদের অপহরণ করে নিয়ে যায়। বিজয়ের স্বাদ গ্রহণের আগে নিদারুণ যন্ত্রণা দিয়ে রায়েরবাজার ও মিরপুরের বধ্যভূমিতে নিয়ে তাদের গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়।
যথাযোগ্য মর্যাদায় আজ শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন করা হবে। আজ সকাল ৭টা ৫ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং ৭টা ৬ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিরপুর শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের নেতৃত্বে সকাল ৭টা ২২ মিনিটে মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে এবং সকাল সাড়ে ৮টায় রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন শহিদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন। সংবাদপত্রে বিশেষ নিবন্ধ ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ এবং সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ বেতার এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ অন্যান্য বেসরকারি টিভি চ্যানেলে দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করবে। দিবসটি উপলক্ষে সব মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা করা হবে।
শহিদ বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী, ডা. আলিম চৌধুরী, অধ্যাপক মুনিরুজ্জামান, ড. ফজলে রাব্বী, সিরাজ উদ্দিন হোসেন, শহীদুল্লা কায়সার, অধ্যাপক জিসি দেব, জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা, অধ্যাপক সন্তোষ ভট্টাচার্য, মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন, অধ্যাপক আনোয়ার পাশা, অধ্যাপক রশীদুল হাসান, ড. আবুল খায়ের, ড. মুর্তজা, সাংবাদিক খন্দকার আবু তাহের, নিজামউদ্দিন আহমেদ, এসএ মান্নান (লাডু ভাই), এএনএম গোলাম মোস্তফা, সৈয়দ নাজমুল হক এবং সেলিনা পারভীনসহ আরও অনেকে।
মুক্তিযুদ্ধে সাহসী ভূমিকা রাখা সাংবাদিকদের ইতিহাস সংরক্ষণের দাবি : ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের মুক্তি আন্দোলনে পথিকৃৎ ছিলেন সাংবাদিকরা। অবরুদ্ধ দেশে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বুটের নিচে শহিদ সাবের, শহীদুল্লা কায়সারদের মতো সাংবাদিকরা স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য কোনো আপস করেননি। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে তুলতে এ মহান সাংবাদিকদের প্রকৃত ইতিহাসের সন্ধান করতে হবে। সঠিক ইতিহাস লিখতে হবে।
গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘মুক্তিযুদ্ধ : ইতিহাস, চেতনা ও অদম্য বাংলাদেশের গল্প’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিনের সভাপত্বিতে প্রধান বক্তা ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক। এতে আরও বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, বিএফইউজের সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও যুগান্তর সম্পাদক সাইফুল আলম, বিএফইউজের সভাপতি ওমর ফারুক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক আইয়ুব হোসেন ভূঁইয়া।
সময়ের আলো/আরএস/