শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সূর্যসন্তানদের স্মরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

রাজধানীর মিরপুরে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে জাতির সূর্যসন্তানদের শ্রদ্ধা জানাতে বাবার কাঁধে চড়ে এসেছে ছয় বছরের শিশু আবরার। তার মাথায় বাঁধা ছিল

2023-12-15T00:25:53+00:00
2023-12-15T00:25:53+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬,
১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সূর্যসন্তানদের স্মরণ
শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৩, ১২:২৫ এএম 
শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সূর্যসন্তানদের স্মরণ
রাজধানীর মিরপুরে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে জাতির সূর্যসন্তানদের শ্রদ্ধা জানাতে বাবার কাঁধে চড়ে এসেছে ছয় বছরের শিশু আবরার। তার মাথায় বাঁধা ছিল বাংলাদেশের পতাকা, ছিল হাতেও। আবরারের মতো অগণিত শিশু মা-বাবার হাত ধরে বৃহস্পতিবার শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবসে স্মৃতিসৌধে এসে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যানারেও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে শিক্ষার্থীরা। এ সময় বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা দেখা যায় তাদের হাতে। কপালে ছিল বাঁধা বিজয় দিবস লেখা ব্যাজ। কারও হাতে ছিল পতাকা, কারও হাতে ফুল।

এভাবেই বৃহস্পতিবার শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবসে শোকের গাম্ভীর্য নিয়ে শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণ করে দেশবাসী। এদিন ভোরের আলো ফুটতেই মিরপুরের শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের পথে ছিল ফুল আর ব্যানার হাতে হাজারো মানুষের ঢল। সকাল থেকেই মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ এবং রায়েরবাজার স্মৃতিসৌধে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা জানাতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাদের বিনয়াবনত শ্রদ্ধার ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় শহিদ বেদি।

শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবসে শ্রদ্ধা জানাতে আসা মানুষের কণ্ঠে ছিল উন্নত-সমৃদ্ধ অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়। ছিল ইতিহাস বিকৃতকারীদের রুখে দেওয়ার শপথ। সাম্প্রদায়িক শক্তির ধারক-বাহকদের প্রত্যাখ্যান এবং নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা জাগিয়ে তুলতে সঠিক ইতিহাসের চর্চার দাবিও ছিল মানুষের মধ্যে।

দিবসটি উপলক্ষে সকালে কালো পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ, শহিদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা, শহিদদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ¦ালন, শোক র‌্যালি, শ্রদ্ধা নিবেদন, চিত্রাঙ্কন, সাধারণ জ্ঞান ও হাতের লেখা প্রতিযোগিতা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

১৯৭১ সালের এই দিনে চূড়ান্ত বিজয়ের মাত্র দুদিন আগে পাকিস্তানি সৈন্য ও তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর, আলশামসের সদস্যরা পরিকল্পিতভাবে দেশের কৃতি সন্তানদের হত্যা করে। মুক্তিযুদ্ধের শেষ লগ্নে আলবদর বাহিনী বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের ধরে নিয়ে মোহাম্মদপুর ফিজিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে স্থাপিত আলবদর ঘাঁটিতে নির্যাতনের পর রায়েরবাজার বধ্যভূমি ও মিরপুর কবরস্থানে হত্যা করে। তারপর থেকে দিনটি শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ বেদিতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে শহিদদের স্মরণে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার কিছু সময় পর প্রথমে রাষ্ট্রপতি এবং পরে প্রধানমন্ত্রী শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তারা কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয়। শহিদদের সম্মানে সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহিদ পরিবার ও আগতদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

এ সময় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক ও আফজাল হোসেন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, উপ-দফতর সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। পরে একে একে শহিদ বেদিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষে মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, শহিদ পরিবারের সন্তান ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা।

এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে রক্ষিত জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে স্বাধীনতার মহান স্থপতির প্রতি সম্মান জানান। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তিনি মহান নেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। দলীয় নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে শেখ হাসিনা জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে আরেকবার পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছে। ভবিষ্যতেও এ বিচারকাজ চলতে থাকবে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন, চলতি বছরেই ১৪ ডিসেম্বরকে জাতীয় দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

এ ছাড়াও বিএনপি, জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, জাসদ, আওয়ামী যুবলীগ, ছাত্রলীগ, আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগ, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, জাতীয় শ্রমিক লীগ, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটসহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন পুষ্পস্তবক অর্পণ করে।

প্রথমেই রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। পরে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

দিবসটি উপলক্ষে বেলা ৩টায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভার আয়োজন করে আওয়ামী লীগ। সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

এদিকে সরকার পদত্যাগের এক দফা আন্দোলনে যুক্ত নাগরিক ঐক্য, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, জেএসডি, গণসংহতি আন্দোলন, গণফোরাম-পিপলস পার্টি, গণ অধিকার পরিষদ, ১২ দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য, এলডিপি, এবি পার্টি প্রভৃতি জোট ও দলের নেতাকর্মীরা আলাদা আলাদাভাবে মিরপুরে শহিদ বুদ্দিজীবী স্মৃতি সৌধে পুস্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খানের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন করেন সকালে। এরপর বিএনপির অঙ্গসংগঠনগুলো মহানগর বিএনপি, কৃষক দল, তাঁতী দল, ছাত্রদল প্রভৃতি সংগঠন আলাদাভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের নেতৃবৃন্দ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে।
এরপর বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণ সংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সার, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, ১২ দলীয় জোটের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, গণতান্ত্রিক বাম ঐক্যের নেতা সমন্বয়কারী আবুল কালাম আজাদ, সামসুল আলম, হারুন আল রশিদ খান, গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, এবি পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল ওহাব মিনার ও সদস্য সচিব মজিবুর রহমান মঞ্জু প্রমুখ নেতাদের নেতৃত্বে শহিদ স্মৃতি স্তম্ভের বেদিতে শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন করেন।

সকালে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য মাকসুদ কামালের নেতৃত্বে বিশ^বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ ছাড়া জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়, জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, তিতুমীর কলেজ, লরেল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, জাতীয় জাদুঘর, বাংলা একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমি, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিসহ (ডিআরইউ) বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক, শিল্পী-বুদ্ধিজীবী, মুক্তিযোদ্ধা, পেশাজীবী, শ্রমিক, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষ শহিদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

সরেজমিন দেখা যায়, সকালের রোদ ওঠার আগেই রাজধানীর রায়েরবাজারে বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধের প্রাঙ্গণ দেশাত্মবোধক গান, আবৃত্তি আর শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আসা অগনিত মানুষের সমাগমে মুখর হয়ে উঠেছে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ। সকাল ৭টার দিকে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর্ব শুরু হলে মন্ত্রী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক-ছাত্র, রাজনীতিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ব্যানার আর পুষ্পস্তবক নিয়ে শোভাযাত্রা করে বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধে আসেন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান শহিদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য।

এদিন জাতীয় পতাকা, শহিদ বুদ্ধজীবীদের ছবি সংবলিত পোস্টার, মুক্তিযুদ্ধের সময়ের বিভিন্ন ঘটনার ছবি, পত্রিকার কাটিং, ব্যানার আর ফুলে ফুলে সাজানো হয়েছিল বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ চত্বর। রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধের দক্ষিণ প্রান্তের সবুজ চত্বরে কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর শহিদ বুদ্ধিজীবীদের ছবি, ফুল ও পতাকা দিয়ে একটি স্থাপনা তৈরি করে। তার পাশের ইটের স্তূপের ওপরে খেলাঘরের ছোট ছোট শিশুরা শহিদ বুদ্ধিজীবীদের মৃতদেহের অনুসরণে শুয়ে থেকে সেদিনের সেই দৃশ্যপট তৈরি করে। এ ছাড়া স্মৃতিসৌধের উত্তর প্রান্তে ছিল মহান মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ঘটনার ছবি নিয়ে একটি বড় স্থাপনাকর্ম। মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্ন সেক্টরের ছবির বড় বড় ডিজিটাল প্রিন্ট, ব্যানার, প্ল্যাকার্ড দিয়ে এ প্রান্ত সুসজ্জিত করেছিল মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠন ‘ব্রিগেড-৭১’।
এ ছাড়া শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে স্মৃতিসৌধের মূল চত্বরের সামনে উন্মুক্ত স্থানে ব্যানার টাঙিয়ে আবৃত্তি, সংগীত পরিবেশনার আয়োজন করা হয়। এতে কবিতা পাঠ করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা, সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী স্বরলিপিসহ অনেকে। ‘সব কটা জানালা খুলে দাও না’, ‘একবার যেতে দে না আমার ছোট্ট সোনার গাঁয়’, ‘সূর্যোদয়ে তুমি সূর্যাস্তেও তুমি’-এমন দেশাত্মবোধক গানে গানে একটা অন্যরকম আবহ সৃষ্টি হয়েছিল স্মৃতিসৌধ চত্বরে।

রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধে রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। এখানে তরুণ ও শিশু-কিশোরদের উপস্থিতিই ছিল বেশি। সংগঠন ছাড়া ব্যক্তিগতভাবেও এসেছেন বহু মানুষ। অনেকেই কালো ব্যাজ ও কালো পাঞ্জাবি বা সাদা-কালো প্রিন্টের শাড়ি পরেছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শিশু শিক্ষার্থীরা : রাজধানীর মিরপুরে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শিক্ষার্থী খালিদ হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন বাবা হালিম হোসেন। উদ্দেশ্য, খালিদ যেন মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে পারে। খালিদ ছাড়াও মা-বাবার হাত ধরে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যানারে আসে অনেক শিশু ও শিক্ষার্থী। মিরপুর লালকুঠির নজরুল একডেমির শিক্ষার্থী নিয়াজ ও মানহা জানায়, তাদের বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে এসে খুব ভালো লাগছে। আগের বছরও এখানে এসেছে তারা। স্কুলের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে আসেন। তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী মানহা বলেন, আজ বুদ্ধিজীবী দিবস। ১৯৭১ সালের এ দিনে দেশের সেরা ডাক্তার, লেখকদের, বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছে পাকিস্তানি সৈন্যরা। স্কুলের শিক্ষকরা আমাদের বলেছেন, বইয়েও পড়েছি।

স্মৃতিসৌধে আসা রাকিব আহমেদ নামে একজন সময়ের আলোকে বলেন, আমি বেসরকারি চাকরিজীবী। ছুটির দিন ছাড়া সন্তানকে সময় দেওয়া হয় না। জাতীয় দিবসগুলোতে ছেলেকে নিয়ে বের হই। তিনি বলেন, দিবসগুলোতে শিশুদের নিয়ে আসার কারণ পরবর্তী প্রজন্ম যেন মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে পারে। মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা শহিদ হয়েছেন তাদের জন্য করার কিছু নেই, থাকলেও শ্রদ্ধা তো জানাতে পারি।
শরীরের সঙ্গে লাঠি বেঁধে জাতীয় পতাকা উড়িয়ে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে এসেছিল রাজধানীর জাহানাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আশিকুল ইসলাম। সময়ের আলোকে সে বলে, ১৪ ডিসেম্বর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আমি এখানে আসি। এবার বাবার সঙ্গে এসেছি। এখানে এলে কিছুটা মন খারাপ হয়। শহিদরা আমাদের জন্য নিজের জীবন বিসর্জন করছেন। বুদ্ধিজীবীদের এ আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা এ দেশ পেয়েছি।

সময়ের আলো/আরএস/ 



Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: