নিত্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মুনাফার নামে লুটপাট করা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে অসাধু ব্যবসায়ীদের। সরকারের তদারকি প্রতিষ্ঠানের অভিযানে কিছুটা কমলেও দাম থেকে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরেই।
শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দাম কমে দেশি পুরোনো পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায়, নতুন বা মুড়িকাটা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায় এবং ভারতীয় পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়।
চারদিন আগে দেশি পেঁয়াজের কেজি ছিল প্রায় ৩০০ টাকা। ভারতের পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের ঘোষণায় ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পেঁয়াজের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি করে। ভোক্তা অধিকারের অভিযান ও ক্রেতাদের বর্জনের ঘোষণার পরে ধীরে ধীরে পেঁয়াজের দাম কমে আসছে।
কারওয়ান বাজারের ক্রেতা আফসার উদ্দিন বলেন, পেঁয়াজের দাম কমে দেড়শতে নেমেছে। কয়েক দিন আগেও ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা ছিল। দাম কমলেও এটাকে কম বলা চলে না। স্বাভাবিক দামের চেয়ে এটা কয়েকগুণ বেশি। এ সময়ে পেঁয়াজের কেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকা হওয়া উচিত ছিল।
সোহেল শুভ নামে আরেক ক্রেতা বলেন, অধিক মুনাফা করা ব্যবসায়ীদের স্বভাবে পরিণত হয়েছে। ভারতীয় পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পরে বাজারে গিয়ে কোনো দোকানে পেঁয়াজ পেলাম না। সব দোকান থেকে উধাও। খালি হাতে বাড়িতে এসেছি। পরের দিন ঠিকই বেশি দামে ওইসব দোকানে পেঁয়াজ পেয়েছি।
পেঁয়াজ বিক্রেতা মঈন জানান, পেঁয়াজের দাম অর্ধেক কমে এসেছে। অনেকে দাম বাড়বে মনে করে ২০০ টাকা কেজিতেও পেঁয়াজ বিক্রি করেনি। যারা মজুদ করেছিলেন তারা সবাই লসে আছেন। ক্রেতারা পেঁয়াজ কেনা বন্ধ করে দেওয়ায় এবং বিকল্প দেশ থেকে পেঁয়াজ আসায় বাজারে দাম কমে গেছে।
এদিকে পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমলেও দেশি রসুনের দাম চড়া। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা, যা সপ্তাহখানেক আগে ছিল ২০০ থেকে ২২০ টাকা। চায়না রসুনের কেজি পাওয়া যাচ্ছে ২৩০ থেকে ২৪০ টাকায়।
নাগালে আসেনি আলুর দামও। বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা। আর পুরোনো আলু এখনও বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি। বিক্রেতারা বলছেন, নতুন আলু আসার পরও এখনও আলুর বাজার চড়া। এ ধরনের পরিস্থিতি গত কয়েক বছরে দেখা যায়নি।
ডজনে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে ডিমের দাম। ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১২৫ থেকে ১৩০ টাকায়। গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ১১৫ থেকে ১২০ টাকায়।
শীতের সবজি বাজারে এলেও এখনও চরা দাম। বাজারে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, শালগম ৪০ টাকা, কাঁচা টমেটো ৫০ টাকা, টমেটো ১০০-১২০ টাকা, মূলা ৪০ টাকা, দেশি গাজর ৮০ টাকা, লম্বা বেগুন ৬০ টাকা, শসা ৭০ টাকা, উচ্ছে ৮০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৪০ টাকা, পটল ৭০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা। কাঁচামরিচ ১২০ টাকা, ধনেপাতা ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি ৪০ থেকে ৬০ টাকা, বাঁধাকপি ৩০ থেকে ৫০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।
আমন মৌসুমের নতুন চাল বাজারে আসায় চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৪ টাকা পর্যন্ত কমেছে। বাজারে মোটা পাইজাম বিআর-২৮ চাল কেজিপ্রতি ২ থেকে ৪ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৫০ টাকায়। প্রতি বস্তা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৪২০ টাকায়। যা বস্তাপ্রতি আগের তুলনায় প্রায় ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কম।
মোটা চালের পাশাপাশি প্রতি বস্তা মিনিকেট ৩ হাজার ৫০ টাকায় নেমেছে, যা আগের তুলনায় বস্তাপ্রতি ১০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। আগে খুচরায় প্রতি কেজি মিনিকেট ৭০ টাকা দরে বিক্রি হতো, যা এখন ৬৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে এখনও কমেনি নাজিরশাইল চালের দাম।
ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা, কক মুরগি ২৯৫ থেকে ৩০৫ টাকা, লেয়ার মুরগি ২৭০ টাকা, দেশি মুরগি ৫৫০ টাকা, গরুর মাংস ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সময়ের আলো/আরএস/