যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস-২০২৩ উদযাপন করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ উপলক্ষ্যে শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) বিজিবি সদর দফতরসহ বাহিনীর সকল রিজিয়ন, প্রতিষ্ঠান, সেক্টর ও ইউনিটসমূহে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
এদিন সকালে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে বিজিবি সদর দফতরসহ অন্যান্য সকল ইউনিটে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। ভোরে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক পুষ্পস্তবক অর্পণ অনুষ্ঠানে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ কে এম নাজমুল হাসান উপস্থিত ছিলেন। সকাল পৌনে ৮টায় বিজিবি মহাপরিচালক পিলখানাস্থ ‘সীমান্ত গৌরব’-এ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদরে প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
এ সময় বিজিবির একটি চৌকষ দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। বাদ যোহর বিজিবির সকল মসজিদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শাহাদাত বরণকারী তার পরিবারবর্গ এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের আত্মার মাগফেরাত ও বিজিবির অগ্রগতি কামনায় মোনাজাত করা হয়।
অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে বিজিবি সদর দফতরসহ সারাদেশে বিজিবির বিভিন্ন স্থাপনায় বর্ণিল আলোকসজ্জা করা হয় এবং সকল ইউনিটের গেট ও গেট সংলগ্ন সড়কের আশেপাশের এলাকা এবং স্থাপনাসমূহে জাতীয় পতাকা, বিভিন্ন ব্যানার ও ফেস্টুন দ্বারা সজ্জিত করা হয়। পিলখানাসহ সকল ইউনিটে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়।
পিলখানায় প্রীতিভোজ অনুষ্ঠানে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, আজকের দিনটি বাঙালি জাতির জন্য একটি উল্লাসের দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম ও ত্রিশ লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছিল বাংলাদেশের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। আর এই স্বাধীনতা অর্জনে এ বাহিনীর অবদান ছিল অনবদ্য ও অবিস্মরণীয় ।
বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ কে এম নাজমুল হাসান বলেন, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বিজিবির দুজন বীরশ্রেষ্ঠসহ ৮১৭ জন অকুতোভয় বীরযোদ্ধা শাহাদত বরণ করেন, যা বাহিনীর জন্য অত্যন্ত সম্মান ও গৌরবের। ২২৮ বছরের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্যে লালিত ‘সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী’ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ। প্রতিষ্ঠা লাভের পর থেকেই বিজিবি দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা, অবৈধ চোরাচালান ও মাদক পাচার রোধসহ বিভিন্ন আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে অত্যন্ত দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করে আসছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ যেকোনো জরুরী পরিস্থিতি মোকাবিলা, দেশের অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদান, দেশগঠন ও বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজে বিজিবি'র অনবদ্য ভূমিকা আজ সর্বমহলে প্রশংসিত। আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশ ও জাতির বৃহত্তর কল্যাণে দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি'র ওপর অর্পিত যেকোনো দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের পালন করার আহ্বান জানান বিজিবি মহাপরিচালক। প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাশিত ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে বিজিবি’র প্রতিটি সদস্য অনবদ্য ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে পিলখানাসহ সারাদেশে বিজিবির সকল ইউনিটে বিজিবি সদস্য ও তাদের পরিবারবর্গসহ বিজিবির স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পিলখানাস্থ বিজিবি সদর দপ্তরের জাদুঘর ও চিড়িয়াখানা বিনা টিকেটে প্রদর্শনীর জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। বিকেলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকায় বিজিবি বাদকদল কর্তৃক বাদ্য পরিবেশন করা হয়।
এছাড়াও মহান বিজয় দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে বিজিবির উদ্যোগে পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর সংলগ্ন আইসিপিতে বিজিবি-বিএসএফ কর্তৃক জমকালো ‘জয়েন্ট রিট্রিট সিরিমনি’ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিজিবি ও বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ এবং ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত বিপুল সংখ্যক দর্শনাথী উপস্থিত ছিলেন।
সময়ের আলো/জিকে