আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের শরিক গণতন্ত্রী পার্টির নির্বাচনী বাধা কেটেছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের দুই অংশের ১০ প্রার্থীর অংশ নেওয়ার পথ খুলেছে। দলটির সভাপতি দাবি করা আরশ আলী মনোনীত সাত প্রার্থীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) করা আবেদনে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত ‘নো অর্ডার’ দিয়েছেন।
বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম এ আদেশ দেন।
হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের করা একই আবেদনে পক্ষ হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ চেয়ে আবেদন করেন তিনজন, যারা গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতি দাবি করা শাহাদাত হোসেন মনোনীত প্রার্থী। শুনানি নিয়ে চেম্বার আদালত পক্ষভুক্ত হওয়ার আবেদন মঞ্জুর করেন। তাদের (তিন প্রার্থী) প্রতীক বরাদ্দ দিতে নির্দেশ দেন।
এবিষয়ে পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দাবি করা অধ্যাপক ডা. শহীদুল্লাহ সিকদার সময়ের আলোকে বলেন, আমরাই আবেদন করেছি। আদালত বলেছে আমাদের আপত্তি আছে কি না। আমরা বলেছি গণতন্ত্রের স্বার্থে আমাদের নির্বাচন করতে হবে। আমাদের অংশের ৭জন ও তাদের ৩জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। প্রতীক আমাদের কাছে থাকবে। আমরা কাউন্সিল করে কমিটি গঠন করেছি। এক প্রশ্নে জবাবে তিনি জানান, আরেক অংশের সঙ্গে সমঝোতা হতেও পারে।
পরে শাহাদাত হোসেন সময়ের আলোকে বলেন, ডা. সিকদারের বক্তব্য সঠিক নয়। আদালত আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছেন। এখন আর কোনো বাধা নেই। আমরা নির্বাচনে ৩টি আসনে নির্বাচন করব কবুতর প্রতীক নিয়ে। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) থেকেই মাঠে নামব। নির্বাচনের পর দলের সব সমস্যার সমাধান করা হবে।
নির্বাচনে আরশ আলী মনোনীত সাত প্রার্থী হলেন ভূপেন্দ্র চন্দ্র ভৌমিক (কিশোরগঞ্জ-১), মো. আশরাফ আলী (কিশোরগঞ্জ-২), দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া (কিশোরগঞ্জ-৩), মো. মোজাম্মেল হোসেন ভূঁইয়া (নীলফামারী-৩), মিহির রঞ্জন দাশ (সুনামগঞ্জ-২), মো. খায়রুল আলম (পাবনা-৩) ও মো. মতিউর রহমান (খুলনা-২)।
দলটির অপর অংশ মনোনীত তিন প্রার্থী হলেন শাহাদাত হোসেন (ঢাকা-৮), মঞ্জুরুল ইসলাম (বগুড়া-৪) ও হাফিজুর রহমান মিন্টু (ঢাকা-৫)।
আদালতে ইসির পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আশফাকুর রহমান। ভূপেন্দ্র ভৌমিকসহ রিট আবেদনকারী সাতজনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী ফুয়াদ হোসেন। অপর তিনজনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবীর আকন।
পরে ইসির আইনজীবী আশফাকুর রহমান সময়ের আলোকে বলেন, গণতন্ত্রী পার্টির সাতজনের প্রার্থিতার বিষয়ে চেম্বার আদালত স্থগিতাদেশ না দিয়ে ‘নো অর্ডার’ দিয়েছেন। এর ফলে তাদের প্রার্থিতা বহাল থাকল। আর যে তিনজন পক্ষভুক্ত হয়ে নির্বাচনের অংশগ্রহণের সুযোগ চেয়ে আবেদন করেছেন, তারা দলটির সভাপতি দাবি করা শাহাদাত হোসেনের মনোনীত প্রার্থী। তাদের প্রতীক বরাদ্দ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ফলে দুই পক্ষের ১০ প্রার্থী ‘কবুতর’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে পারবেন।
এর আগে ১২ ডিসেম্বর অনুমোদিত কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বের মধ্যে গণতন্ত্রী পার্টির দুই পক্ষের সব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। ইসিতে নিবন্ধিত এ দলের সভাপতি ব্যারিস্টার মো. আরশ আলীর পক্ষের সাতজন এবং সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেনের পক্ষের পাঁচজন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন এবার। মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষমতাপ্রাপ্ত হিসেবে নিজেদের নামে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আলাদা চিঠি দিয়েছিলেন।
সময়ের আলো/আরআই