ফেব্রুয়ারি মাস এলেই যেন বাড়তি হাওয়া লাগে প্রেমের পালে। এ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের শেষ দিন ১৪ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ বুধবার বিশ্ব মাতবে প্রেমে। ইতিমধ্যে ভালোবাসা দিবস উদযাপনে সারা বিশে^ শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট, শপিংমলও ভালোবাসা দিবস পালনে দিচ্ছে বিশেষ অফার। তবে ভালোবাসা দিবস উদযাপনে সবচেয়ে বেশি প্রস্তুতি শুরু হয়েছে প্রেমিক-প্রেমিকা ও দম্পতিদের মধ্যে। কীভাবে সঙ্গীকে চমকে দেবেন তা নিয়ে অনেকের আবার চিন্তারও শেষ নেই। উপহার কেনা, রেস্তোরাঁয় যাওয়া, ঘুরতে যাওয়াসহ ভালোবাসা দিবসের পরিকল্পনা সাজাতে হাতে রয়েছে আর মাত্র দুটো দিন। এদিকে আবার মাসের মাঝামাঝি সময়, তাই খুব বেশি খরচের ইচ্ছে থাকলেও বাস্তবতা অনেকটা ভিন্ন। সবকিছু মিলিয়ে একসঙ্গে সবদিক সামলে বেশ ভালোভাবে ভালোবাসা দিবস উদযাপনে কিছুটা কৌশল অবলম্বন করা যেতেই পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, সে বিষয়ে-
কার্ড বানিয়ে দিন
এসএমএস, হোয়াটসঅ্যাপ তো সারা বছর চলতেই থাকে। এ বছরের ভালোবাসা দিবসকে স্মরণীয় করে তুলতে সঙ্গীকে নিজের হাতে একটি কার্ড বানিয়ে দিতে পারেন। তাতে নিজের ক্রিয়েটিভিটি দেখাতে পারবেন, মনের কথাটাও একদম নিজের মতো করে লিখে দিতে পারবেন। উপহারে নিজস্বতার ছোঁয়া থাকার চেয়ে ভালো আর কী হতে পারে?
নিজের হাতের রান্না
রেস্তোরাঁয় তো সুযোগ পেলে মোটামুটি সারা বছরই যান। আর বিশেষ দিনগুলোতে রেস্তোরাঁয় একটু বেশি ভিড় লেগেই থাকে। তাতে নিজেদের মতো করে কথা বলা কিংবা কোয়ালিটি সময় কাটানোরও সুযোগ কমে যায়। তার চেয়ে বরং এ বছর রেস্তোরাঁয় যাওয়ার পরিকল্পনা বাদ দিয়ে নিজেই তৈরি করুন কোনো রেসিপি। রেস্তোরাঁয় লাইন দেওয়ার সময়টা বাঁচবে, ওই সময়টুকুও নিজেদের মতো করে কাটাতে পারবেন। আপনার রান্না করতে ভালো না লাগলে জটিল কোনো রেসিপি করার দরকার নেই, সাধারণ রান্নাই আপনার ছোঁয়ায় সঙ্গীর কাছে অতুলনীয় হয়ে উঠবে। রেসিপির জন্য নিতে পারেন ইউটিউবের সহযোগিতাও।
ভিড় এড়িয়ে চলুন
ভালোবাসা দিবসে দর্শনীয় সব জায়গাতেই অসম্ভব ভিড় হবে। ওই ভিড়ে ঢুকে নিজেদের সময় নষ্ট করার কোনো মানে হয় না, তাই এড়িয়ে চলুন সিনেমা হল, নামি রেস্তোরাঁ, শহরের পরিচিত বেড়ানোর জায়গাগুলো। ছুটি না পেলেও অফিস শেষে ভিড় এড়িয়ে নিরিবিলি কোথাও সময় কাটাতে পারেন দুজনে।
যেতে পারেন ভ্রমণে
যদিও ভালোবাসা দিবস ও পহেলা ফাল্গুনে রাস্তায় প্রচণ্ড ভিড় হয়। তারপরও ঘুরতে পারলে মন ভালো থাকে। ভ্রমণ হলো মন ভালো রাখার মহৌষধ। সময় থাকলে বন্ধুবান্ধব নিয়ে চলে যান শহরের যান্ত্রিকতা থেকে দূরে, নতুন কোনো জায়গায়। বসন্তের স্নিগ্ধ পরশে সিঙ্গেল থাকার দুঃখ ঘুচে যাবে নিমেষেই।
উপহার দিন বুদ্ধি করে
ঘড়ি, পারফিউম, কাফলিংক আর কত দেবেন? এ বছর উপহারে থাকুক আপনার চিন্তাভাবনার ছোঁয়া। টবে করে ছোট্ট একটি গাছ উপহার দিতে পারেন। অথবা তার প্রিয় গানগুলো পেনড্রাইভে ভরে তাকে দিতে পারেন। আপনাদের ঘনিষ্ঠতম মুহূর্তগুলোর ছবি দিয়ে ডিজিটাল অ্যালবাম বা মিউজিক ভিডিও বানিয়েও দিতে পারেন। এ ছাড়া চলছে বইমেলা। তার পছন্দের বই উপহার দিতে পারেন। মোট কথা এমন কিছু করুন যাতে উপহারটা তার কাছে সারাজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকে।
সময়ের আলো/আরএস/