দেশবরেণ্য সুরকার ও সংগীত পরিচালক শেখ সাদী খান। আজ ৭৫-এ পা দিলেন এই সংগীত পরিচালক। জন্মদিন ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন মাসুদুর রহমান।
জন্মদিন নিয়ে আজ কোনো পরিকল্পনা আছে কি?
জন্মদিনে ঢাকার বাইরে থাকব। সিরাজগঞ্জের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সেমিনারে থাকব। সঙ্গে আরও কিছু আয়োজন আছে। তবে বরাবরই আমার জন্মদিন ঘরোয়াভাবে পালন হয়। কোনো বড় আয়োজন থাকে না।
এই সময়ে এসে নিজের জীবন নিয়ে আপনার মন্তব্য কী?
৭৪ পেরিয়ে ৭৫-এ পড়বে বয়স। জীবনের শেষ প্রান্তে চলে এসেছি। এখন জন্মদিন মানে জীবন থেকে সময় ফুরিয়ে যাওয়া। একটি জন্মদিন আসার সঙ্গে সঙ্গে একটি বছর জীবন থেকে কমে যাওয়া।
যারা প্রবীণ মূলত তাদের বয়স বাড়ে না, কমে। একটি জীবন দিয়ে আল্লাহ পৃথিবীতে পাঠিয়েছিলেন আবার তার কাছেই ফিরে যেতে হবে। এই জীবনে অনেক কিছু পেয়েছি। আবার অনেক কিছু পাইনি। সবকিছু পাওয়াটা মনে হয় ঠিক না। তা হলে জীবনকে উপলব্ধি যায় না।
কর্ম জীবনের জন্য কতটা গুরুত্ব বহন করে?
কর্মই আসল। সঠিক কর্মই মানুষকে অমর করে রাখে। কর্মহীন জীবন ব্যর্থ। আর সেই কর্ম হতে হবে মানবিক, যা সমাজের জন্য কাজে লাগে। নিজের দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে। দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে সুর-সংগীতে সারা জীবন কাটিয়ে দিলাম। বাকিটা সময়ও এভাবে কাটিয়ে দিতে চাই।
এখন গান নিয়ে কী কাজ করছেন?
গানের পাশাপাশি বাংলাদেশ টেলিভিশনে ‘স্মৃতিময় গানগুলো’ অনুষ্ঠান করছি। বিটিভিতে যে কয়েকটি সংগীতানুষ্ঠান প্রচার হয়, তার মধ্যে এ অনুষ্ঠানটির আবেদন অনেক উঁচুতে।
সম্প্রতি ৪৫ বছর আগের একটি গান নিয়ে কাজ করেছেন। এর উদ্দেশ্য কী?
‘ক্যান ইউ টেল মি হোয়াটস গোয়িং অন’ শিরোনামের এই গানটি ইতিমধ্যে ইউটিউবে প্রকাশ হয়েছে। ‘বাংলায় একি খেলা চলছে হরদম’ শিরোনামে ৪৫ বছর আগে গানটি গেয়েছিলেন রফিকুল আলম। এখন ইংরেজিতে গেয়েছে আমার ভাতিজা তানিম হায়াত খান। সুর ঠিক রেখে গানটা ভাবানুবাদ করেছি আমরা। আমার সুরে প্রথম কোনো গান ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত হলো। বিশ্ববাসীকে শান্তির পথে আহ্বান জানিয়ে যে ভাবনা থেকে গানটি বানিয়েছিলাম, সেসব ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড এখনও সারা বিশে^ চলছে। বিশ্ব শক্তিধরদের কাছে তাই আবেদন জানাতে গানটি ইংরেজি ভাষায় নতুনভাবে তৈরি করা।
এই সময়ের গান কেমন হচ্ছে?
গানে চলছে চরম অস্থিরতা। ভালোবাসার জায়গা থেকে গানের প্রতি মনোযোগ কম। সবাই অল্পতেই ভাইরাল হতে চায়। আমাদের গান যে অনেক সমৃদ্ধিশালী, সেটা তাদের কে বোঝাবে। আমাদের গানের গর্বের ইতিহাস তরুণ প্রজন্ম ভুলতে বসেছে। গানকে সমৃদ্ধ করার চিন্তা নেই। কেমন যেন এক অনিশ্চয়তার মধ্যে চলছে সংগীতাঙ্গন। দশ-বিশ বছর পর সংগীতের অবস্থা কোথায় গিয়ে যে দাঁড়াবে তা ভাবতে অবাক লাগে, আফসোস হয়। তবে কিছু মেধাবী আছে, তারা ভালো কিছু করার চেষ্টা করছে।
এবার বইমেলায় আপনার জীবনীগ্রন্থ প্রকাশ হয়েছিল। আগামীতে কী আসছে?
‘শেখ সাদী খান জীবনের রাগ অনুরাগ’ বইটিতে আমার কথাগুলোই লিখেছেন মনিরুজ্জামান রোহান। বইটিতে রয়েছে আমার বিভিন্ন সময়ের সাক্ষাৎকার, অনেক স্মরণীয় মুহূর্তের ছবি, আমার বংশপরম্পরা এবং নানা ধরনের স্মৃতিকথন। আগামীতে আমার লেখা আত্মজীবনী প্রকাশ পাবে। এতে ছোটবেলা থেকে এ পর্যন্ত প্রায় সবকিছু উঠে আসবে।