আটকে পড়া লোকজন ধাক্কাধাক্কি করায় লিফটের দরজা খোলেনি, ’ডোর সেফটি’ কাজ করেনি বলে দাবি করেছে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রোববার সকালে এ হাসপাতালের একটি লিফটে আটকা পড়ে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনায় বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে দেওয়া ব্যাখ্যায় এমন দাবি করেছে কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
সকালে ওই হাসপাতালের লিফটে আটকে থাকার মধ্যে মমতাজ বেগম নামে এক নারীর মৃত্যু হয়। ৫০ বছর বয়সী মমতাজ বেগম গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের বাড়িগাঁও গ্রামের শারফুদ্দিনের স্ত্রী। হাসপাতালের তিন নম্বর লিফটে এ ঘটনার পর জয়দেবপুর ফায়ার স্টেশনের কর্মীরা আটকে পড়া ওই নারীর মরদেহসহ বাকিদের উদ্ধার করেন।
এ ঘটনায় মৃত রোগীর স্বজনরা সাংবাদিকদের কাছে লিফট অপারেটরদের দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ করেছেন।
পরে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম ওই ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে একটি চিঠি দেন। স্বয়ংক্রিয়ভাবে না খোলায় পরে অপারেটর গিয়ে ম্যানুয়ালি লিফটের দরজা খোলেন বলে কর্তৃপক্ষের চিঠিতে বলা হয়।
চিঠিতে মারা যাওয়া ওই নারী লিফটে ৪৫ মিনিট আটকে ছিলেন বলে যে তথ্য সংবাদমাধ্যমে এসেছে তা ঠিক নয় বলে দাবি করে বলা হয়, লিফটের দরজা খুলতে ১০-১৫ মিনিট সময় লেগেছ।
ব্যাখ্যায় বলা হয়, রোববার বেলা সোয়া ১১টায় নবম ও দশম তলার মাঝামাঝি লিফট বন্ধ হয়ে যায়। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জন্য আটকে যাওয়া লিফটের অটোমেটিক রেককিউ ডিভাইস (এআরডি) কাজ করতে এক মিনিট সময় লাগে। তবে লিফটে আটকে থাকা লোকজন দরজা ধাক্কাধাক্কি করায় লিফটের ‘ডোর সেইফটি’ কাজ করেনি।
পরে লিফট অপারেটর লিফটটি ম্যানুয়ালি একটি ফ্লোরে আনার আগেই রোগীসহ লোকজন লিফট থেকে বের হয়ে আসে। এসব কাজ সম্পন্ন করতে ১০-১৫ মিনিট অতিবাহিত হয়েছে, বলে চিঠিতে দাবি করা হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ওই রোগীর ‘হার্টের সমস্যা’ ছিল। তাকে সঙ্গে সঙ্গে জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
ভারপ্রাপ্ত পরিচালক চিঠিতে বলেছেন, ওই লিফট নিয়মিত সার্ভিসিং ও মেনটেইনেন্স করা করা। সেটি বর্তমানে চালু আছে।
এর আগে গত ৪ মে এ হাসপাতালের ১২ তলার ভেতরের দেয়াল ও মেঝের মধ্যে থাকা ফাঁকা স্থান দিয়ে এক রোগী ১০ তলায় পড়ে গিয়ে মারা যান। ওই ঘটনার সপ্তাহ না ঘুরতেই আবার এ দুর্ঘটনায় মমতাজ বেগম মারা গেলেন।
শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমরা ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করেছি। পাশাপাশি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মহোদয়কে বিষয়টি অবহিত করেছি। আমাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ আমরা জানিয়েছি। তদন্ত করলে কেন এ ঘটনা হয়েছে সেটি বিস্তারিত জানা যাবে।