আজ ২৮ আষাঢ়। বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আষাঢ়ের শেষ সময়। মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সারাদেশে কমবেশি বৃষ্টি হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সাপ্তাহিক ছুটির দিন আজ সকালেই ঢাকায় নেমেছে মুষলধারে বৃষ্টি। ভোর থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি কমবেশি রাজধানীর প্রায় সব এলাকায় ঝরেছে। সড়কে যানবাহন চলাচল খুবই কম ছিল। এর মধ্যেও যারা বের হয়েছেন, তারা ছাতা মাথায় না-হয় ভিজে ভিজে গন্তব্যে গেছেন।
এদিকে, বেশি বিপাকে পড়েছেন ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়া চাকরিপ্রার্থীরা। সকাল ৯টা থেকে পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বৃষ্টির কারণে অনেকে বাসা থেকে বের হতে পারেননি। কেউ কেউ বের হলেও সড়কে পর্যাপ্ত যানবাহন না থাকায় বিপাকে পড়ছেন। এই সুযোগে সিএনজি-রিকশাচালকরা ভাড়া দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন। বাধ্য হয়ে বেশি ভাড়ায় গন্তেব্যে যেতে হচ্ছে যাত্রীদের।
বৃষ্টিতে নগরীর অনেক প্রধান সড়কসহ অলিগলিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হতে দেখা গেছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় রয়েছে। যার ফলে দেশের সব বিভাগেই শুক্রবার রয়েছে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস। কোথাও কোথাও হতে পারে ভারি বর্ষণও।
সতর্কবাণীতে বলা হয়, বাংলাদেশের ওপর মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ৪৮ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।
এতে আরও বলা হয়, ভারী বর্ষণজনিত কারণে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধসের সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, গতকাল বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) দেশের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে কক্সবাজারে। সিলেট, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার ভারী বৃষ্টি পাহাড়ধসের বিপদ বাড়িয়ে দিয়েছে। সিলেটে ও এর উজানের ভারী বৃষ্টি নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি করেছে। ব্রহ্মপুত্রসহ দেশের বেশির ভাগ নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে।
কক্সবাজারে ভারী বৃষ্টির ফলে অন্তত পাঁচটি এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী ও শিশু মিলিয়ে মোট দুজন মারা গেছেন। দেশের অন্য পাহাড়ি এলাকাগুলোতেও ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসের আশঙ্কায় বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
সময়ের আলো/আরআই