টেকনাফে প্রশাসনের সাঁড়াশি অভিযানের মুখে বন বিভাগের কাজ করতে গিয়ে অপহরণের শিকার হওয়া ৩ বনকর্মীসহ ১৮ জন শ্রমিককে মুক্তিপণ ছাড়াই অপহরণ চক্রের সদস্যরা ছেড়ে দিলেও উদ্ধার হয়নি নতুন করে অপহরণ হওয়া ৮ জন ভিকটিম। ফলে অপহরণ চক্রের আস্তানা থেকে ১৮ জন ভিকটিম নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে এসেছে বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় টেকনাফের জাদিমুড়া পশ্চিমের পাহাড় থেকে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তারা ফেরত এসে নিজ নিজ স্বজন ও বাড়িঘরে চলে গিয়েছে বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে ৪ জন বাংলাদেশি ও ১৪ জন রোহিঙ্গা।
এদিকে, আজ (মঙ্গলবার) হোয়াইক্যং বাহার ছড়া শামলাপুর যাওয়ার পথে পাহাড়ি ঢালা থেকে অপহরণ হওয়া নতুন অপর ৮ জন এখনো উদ্ধার হয়নি। তাদের উদ্ধারে র্যাব, পুলিশের যৌথ অভিযান চলমান রয়েছে। তাদের মধ্যে ১ জন সিএনজি ও ১ জন অটোরিকশা চালক রয়েছে। বাকিরা যাত্রী বলে জানা গেছে। তবে এখনো তাদের নাম ঠিকানা পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা জানান, গত সোমবার ১৮ জন বনের শ্রমিক অপহরণের ঘটনাকে নিয়ে ভিকটিমদের উদ্ধারে বাহার ছড়া, হ্নীলার রংগীখালী, পানখালী, জাদিমুড়া, দমদমিয়াসহ বিভিন্ন এলাকা দিয়ে র্যাব-১৫ এর টেকনাফ সিপিসি-১ ও সিপিসি-২ হোয়াইক্যং টিম, টেকনাফ মডেল থানা পুলিশ একাধিক টিম এবং বন বিভাগের শতাধিক কর্মী নিয়ে পাহাড়ের চার দিক থেকে ঘেরাও করে যৌথ অভিযান পরিচালনা করেন। পাশাপাশি র্যাব-১৫ কর্তৃক অপহরণ চক্রের আস্তানা শনাক্ত করতে ড্রোন উড়ানো হলে চক্রের সদস্যরা আটকের ভয়ে অপহৃত ভিকটিমদের ছেড়ে দেয়। যার কারণে তারা বাড়ি ফিরতে সক্ষম হয়। তবে ভিকটিমদের সকলে অনাহারে থাকায় অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্প ২৭’র হেড মাঝি মোহাম্মদ নুর জানান, মুক্তিপণ ছাড়া অপহরণ হওয়া সকলে বাড়ি ফিরেছেন। তাদের সাথে কথা বললে বিস্তারিত জানতে পারব।
হ্নীলা ৯নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোহাম্মদ আলী জানান, আমাদের এলাকার মানুষ অপহরণ আতঙ্কে অনেক কষ্টে আছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন আস্তানা শনাক্ত করে অপরাধীদের শিকড় উপড়ে ফেলেন সে কামনা করছি। প্রয়োজনে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে জনগণ নিয়ে আমরাও পাহাড়ে যাব।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন জানান, আমাদের অভিযানের মুখে ভিকটিমদের ছাড়তে বাধ্য হয় অপহরণ চক্রের সদস্যরা। তবে অপর অপহত ৮ ভিকটিমকে উদ্ধারে অভিযান চলমান রয়েছে।
সময়ের আলো/আরআই