পাহাড় আর বঙ্গোপসাগরের কুল ঘেঁষা পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের রাজধানী কক্সবাজারে উত্থান-পতনের ২০২৪-এর শেষ সূর্যাস্তকে বিদায় জানাল কয়েক লাখ পর্যটক। ৩১ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার) বিকেল পৌনে ৫টায় পশ্চিমা আকাশে লাল আভা ছড়িয়ে নিস্তেজ হওয়ার পথে সূর্য। ঠিক তখনি লাখ লাখ পর্যটকে ভরে যায় ১০ কিলোমিটার সমুদ্রসৈকত। সবার চোখ তখন ডুবন্ত সূর্যের দিকে। যেখানে পর্যটকরা তুলছেন ছবি, আবার অনেকে ফ্রেমে ধারণ করছেন ভিডিওচিত্র।
এভাবে ইংরেজি বছরকে বিদায় জানিয়েছেন কক্সবাজার লাবনী পয়েন্ট, সুগন্ধা পয়েন্ট ও কলাতলী পয়েন্টের লাখ লাখ পর্যটক। এছাড়া দরিয়ানগর, হিমছড়ি, প্যাঁচারদ্বীপ, ইনানী, পাটোয়ারটেক, টেকনাফ এবং সেন্টমার্টিন সৈকতেও পর্যটকরা ভিড় জমিয়েছেন।
পর্যটন ব্যবসায়ীদের মতে, বছরের শেষ সূর্যাস্ত দেখতে প্রতিবছর সৈকতে অন্তত পাঁচ লাখ পর্যটকের সমাগম ঘটে। এ বছরও ব্যতিক্রম হয়নি।
এ সময় কক্সবাজারে আসা লাখ লাখ পর্যটকের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে চার স্তরের নিরাপত্তা জোরদার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সকাল থেকে র্যাবের পক্ষ থেকে কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন মোড়ে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করা হয় বিভিন্ন গাড়ি।
এছাড়া সৈকতের উন্মুক্ত জায়গায় সব ধরনের অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ থাকলেও জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে কয়েকটি তারকা মানের হোটেলে নিজস্ব অতিথিদের জন্য বর্ষবরণের আয়োজন করা হয়েছে। তবে বন্ধ রাখা হয়েছে বারগুলো।
হোটেল গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন এবং বছরের শেষ সূর্যকে বিদায় জানাতে মঙ্গলবার সৈকতে সমবেত হয়েছেন কয়েক লাখ পর্যটক। এরসঙ্গে যোগ দিয়েছেন স্থানীয় হাজার হাজার নারী-পুরুষ। সবাই সূর্যাস্ত দেখে ২০২৪ সালকে বিদায় জানিয়েছেন।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের পুলিশ সুপার আল আসাদ মো. মাহফুজুল ইসলাম বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এবারও সৈকতের উন্মুক্ত জায়গাতে থার্টি ফার্স্ট নাইটের আয়োজন বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে তারকামানের হোটেলগুলোতে তাদের নিজস্ব অতিথিদের জন্য কনসার্টের আয়োজন করেছে। পুরো শহরে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বলেছেন, আতশবাজিসহ উন্মুক্ত সব অনুষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে আগত পর্যটকদের জন্য ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
সময়ের আলো/আরআই