কুবির তিন দপ্তরে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ‘মুখে কুলুপ’ দপ্তর প্রধানদের

কুবি প্রতিনিধি

শিক্ষা

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) সম্প্রতি ঘটা বিশৃঙ্খলাকে কেন্দ্র করে তিন দপ্তরে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১৩ জানুয়ারি)

2025-01-13T20:20:47+00:00
2025-01-13T20:20:47+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬,
১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
শিক্ষা
কুবির তিন দপ্তরে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ‘মুখে কুলুপ’ দপ্তর প্রধানদের
কুবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৫, ৮:২০ পিএম 
কুবির তিন দপ্তরে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ‘মুখে কুলুপ’ দপ্তর প্রধানদের
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) সম্প্রতি ঘটা বিশৃঙ্খলাকে কেন্দ্র করে তিন দপ্তরে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১৩ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দপ্তর, প্রক্টর দপ্তর এবং ছাত্র ও পরামর্শক দপ্তরে এই অভিযোগপত্র জমা দেন তারা। তবে অভিযোগপত্রের বিষয় মন্তব্য করতে রাজি হননি তিন দপ্তর প্রধানের কেউই। তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা ‘এ বিষয় কোনো মন্তব্য করতে পারবো না’ বলে জানান।

অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, গত ১২ জানুয়ারি ক্যাম্পাসে লোকপ্রশাসন বিভাগের ১৪তম আবর্তনের মাহফুজ অন্তর, মার্কেটিং বিভাগের ১৫তম আবর্তনের শাহাদাত তানভীর রাফি, ফার্মেসি বিভাগের ১৫তম আবর্তনের সাদী, ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের ১৬তম আবর্তনের মোহাম্মদ রাফি দ্বারা ‘গণিত বিভাগের টিচার্স রুম ভাঙচুরের হুমকি, সাংবাদিকদের পা চাটা গোলাম বলে আখ্যায়িত এবং তাদের প্রাণনাশের হুমকির’ মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনায় শিক্ষার্থীরা উদ্বিগ্ন।

এছাড়া আরও জানা যায়, অভিযোগপত্রে উল্লেখিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পূর্বেও হলের সামনে জ্বালাও-পোড়াও, প্রশাসনিকভাবে দেখে নেয়ার হুমকি, সিনিয়র পেটানোর মনোভাব, গণিত বিভাগ ও ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের খেলায় মারামারির মূল হোতাসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। এই অবস্থায়, ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ করে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবি জানায় তারা।

অভিযোগপত্রের বিষয় গণিত বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী ইয়াসমিন আক্তার বলেন, ‘শিক্ষকের অনুমতি ব্যতীত ওনার অনুপস্থিতিতে রুমে প্রবেশ করা একজন শিক্ষার্থীর আচরণ হতে পারে না। গতকাল (রোববার) আমার শিক্ষকের সাথে যেভাবে আচরণ করেছে তথাকথিত কিছু শিক্ষার্থী, তা কোনো শিক্ষার্থীর আচরণ হতে পারে না। স্যারের সামনে তারা ভাঙচুর করার হুমকি দেয়। স্যারদের সাথে তাদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ, অশ্রাব্য আচরণ আমাদের ব্যথিত করে। দলীয় ট্যাগ কোনো ছাত্রের অন্যায়ের প্রতি সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ করে না। অন্যায়কারীর আইন অনুযায়ী বিচারের আওতায় আনা হউক। ক্যাম্পাসে মব জাস্টিস হতে পারে না। আইন নিজের হাতে নিবে অথচ প্রশ্ন করলেই দালালি ট্যাগ লাগিয়ে দেয়া এটা আগের স্বৈরাচারের অসুস্থ কালচার। এটা হতে পারে না। আমি একটা সুস্থ ক্যাম্পাস চাই। আমি একটা নিরাপদ ক্যাম্পাস চাই। যেখানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মচারী সবাই নিরাপদ। ক্যাম্পাসে কোনো নব্য স্বৈরাচার দেখতে চাই না যারা নিজের হাতে আইন তুলে নেয়।’

অভিযোগপত্রের বিষয় গণিত বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী হুজাইফা হামিম বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের উদ্দেশ্য ছিল বৈষম্য দূর করা। আইনের সুসংহত প্রয়োগ করা। কিন্তু এই ঘটনার পর মনে হচ্ছে নতুন করে একটি দল সাধারণ ছাত্র নাম ধরে সেই পুরোনো ক্ষমতা প্রয়োগের খেলায় মেতে উঠেছে। ক্যাম্পাসে রাজনীতি নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও তাদের মধ্যে যেরকম ঔদ্ধত্য দেখা গেল, এর বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে সামনে আরও খারাপ কিছু হয়ত অপেক্ষা করছে। বিচার নিশ্চিত করার নামে একটা মব জাস্টিস বলি বা এটাক বলি, আমরা যেন তারই প্রতিচ্ছবি দেখলাম। যা হতাশাজনক।’

অভিযোগপত্রের বিষয় গণিত বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী ফরহাদুল ইসলাম নাঈম বলেন, ‘গতকাল যে ধরনের ঘটনা ঘটেছে তা অনাকাঙ্ক্ষিত নয়। এর সুষ্ঠু বিচার না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ কখনো শিক্ষার্থীদের অনুকূলে থাকবে না। আমরা এখানে মারামারি দেখতে আসি নাই। কেউ যদি অপরাধী হয়ে থাকে তাহলে তার বিচারের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রয়েছে। নিজের হাতে আইন তুলে ক্ষমতার অপব্যবহার পূর্বেও কেউ মেনে নেয় নি, বর্তমানেও কেউ মেনে নিবে না। অদূর ভবিষ্যতে হলে প্রশাসন দমন করবে তা আমাদের জানিয়েছে।’

অভিযোগপত্রের বিষয় গণিত বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী উম্মে হাবিবা শান্তা বলেন, ‘গতকাল বাইরের বিভাগ থেকে কয়েকজন গণিত বিভাগের অভ্যন্তরে টিচার্স রুমে বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করে বিভাগের শিক্ষকদের সাথে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছে। এমনকি নানান পোস্টে শিক্ষকদের নাম ধরে উনাদের নিয়ে বাজে মন্তব্য করা হয়েছে। একজন গণিত বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থী হয়ে আমি এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং যারা এই স্পর্ধা দেখিয়েছে তাদের বিচার এর আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের নিকট অনুরোধ করছি।’

অভিযোগপত্রের বিষয় গণিত বিভাগের ২০২১-২১ সেশনের শিক্ষার্থী মো. মিশকাত হোসেন বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীর ব্যানারে কোনো ডিপার্টমেন্টের অফিসে বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা করা, স্যারদের গালমন্দ করার অধিকার তারা কীভাবে পায়? অপরাধীকে শাস্তির আওতায় আনতে গিয়ে সৃষ্ট ন্যাক্কারজনক ঘটনা নতুন অপরাধের জন্ম দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কর্তৃক আমার বিভাগের শিক্ষকদের অপমানিত হতে দেখে আমি লজ্জিত। উক্ত ঘটনার সঠিক বিচার দাবি করছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শক ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আবদুল্লাহ আল মাহবুব বলেন, ‘আমার কাছে একটি অভিযোগপত্র দিয়েছে। এটা যদি শৃঙ্খলা বিরোধী কিছু হয় তাহলে প্রক্টর স্যারের কনসার্ন লাগবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে ঐরকম মন্তব্য করতে পারব না।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হাকিম বলেন, ‘আমার কোনো মন্তব্য নেই। আমি অভিযোগপত্র পেয়েছি। এ বিষয়ে আমরা একটা মিটিং করব তারপর আমরা সিদ্ধান্ত নিব।’

এ ব্যাপারে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী বলেন, ‘আমি এখন ঢাকায় আছি। এই মুহূর্তে অভিযোগপত্র না পাওয়ায় আমি কোনো মন্তব্য করতে পারছি না। আগামীকাল অফিসে গিয়ে অভিযোগপত্র দেখে মন্তব্য করতে পারব।’

সময়ের আলো/আরআই


Loading...
Loading...
শিক্ষা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: