সমকামিতায় বাধ্য করা, ছাত্রী হেনস্তা ও শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপসহ ২৭টি অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাফিজুল ইসলামকে ১ বছরের বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠিয়েছে প্রশাসন। একই সঙ্গে তার ইনক্রিমেন্টও বাতিল করা হয়েছে। তবে প্রশাসনের নেওয়া এই সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করে তার স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে উপাচার্য বাসভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন বিভাগটির শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন তারা। পরে মিছিলটি নিয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপাচার্য বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা।
মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘তদন্ত না ভণ্ডামি, ভণ্ডামি ভণ্ডামি’, ‘প্রশাসনে প্রহসন, মানিনা মানবো না’, ‘বিচার না পুরস্কার, পুরস্কার পুরস্কার’, ও ‘হাফিজ হটাও, ক্যাম্পাস বাঁচাও’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে বিকেল ৪টার দিকে বিষয়টি পুনরায় পর্যালোচনার আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত করেন।
এসময় বিভাগের শিক্ষার্থীরা বলেন, হাফিজের বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ আছে। তার বিরুদ্ধে ওঠা ২৭টি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু প্রশাসন বিচারের নামে একটা প্রহসন করছে। তাকে মাত্র ১ বছরের ছুটিতে পাঠিয়েছে। এটা মনে হয় যেন তাকে প্রশাসন পুরস্কৃত করেছে। আমরা এ বিচার প্রত্যাখ্যান করেছি। আমরা হাফিজকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কার চাই। আমরা আজ প্রশাসনের আশ্বাসের কারণে আন্দোলন স্থগিত করেছি। পরবর্তী সিন্ডিকেটে রায় যদি শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে আসে তাহলে আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, উপাচার্যের সাথে কথা হয়েছে। তিনি বলেছেন এ বিষয়ে পুনরায় পর্যালোচনার সুযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীরা আবেদন দিলে পরবর্তী সিন্ডিকেটে পুনরায় পর্যালোচনা করা হবে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ৭ অক্টোবর ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী হেনস্তা, আপত্তিকর মন্তব্য, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, দাড়ি থাকলে শিবির ট্যাগ দিয়ে হেনস্তা, ইচ্ছাকৃতভাবে ফলাফল খারাপ করে দেওয়া, সমকামিতাসহ ২৭ দফা অভিযোগ তুলে অপসারণের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটক আটকে ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ করেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও তার কুশপুত্তলিকায় জুতা নিক্ষেপ ও কুশপুত্তলিকা দাহ করে শিক্ষার্থীরা। এর প্রেক্ষিতে প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি ঘটনার সত্যতা পায়। পরে উপাচার্য অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি এর প্রমাণ পায়। পরে গত ২২ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬৬তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাকে বাৎসরিক ইনক্রিমেন্ট বাতিলসহ এক বছরের জন্য বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।