গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের মেসে স্থানীয় সন্ত্রাসী কর্তৃক হামলার ঘটনায় দোষীদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় ৮ জন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। পরে পুলিশ হামলার মূলহোতা ইফতিসহ দুজনকে গ্রেফতার করে।
শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) জুম্মার নামাজের পর লিপুজ ক্যান্টিন চত্বর থেকে মিছিলটি বের হয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়।
হামলায় আহতরা হলেন- কৃষি বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়াজদানী আলী, মাহাদী হাসান তাহমিদ, অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সেলিম রেজা, আব্দুল্লাহ আল খালেদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মুয়াজ বিল্লাহ, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ইমরানসহ ৮ জন শিক্ষার্থী। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদেরকে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সন্ত্রাসীরা ‘তোরা সমন্বয়ক, তোরা আন্দোলন করিস’ বলে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে শিক্ষার্থীদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। পরে শিক্ষার্থীরা বিচারের দাবিতে গোপালগঞ্জ সদর থানায় জড়ো হয়। এঘটনায় আহত শিক্ষার্থীরা বাদী হয়ে মামলা করেছেন বলে জানা গেছে। যদিও শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল প্রশাসন বাদী হয়ে মামলা করবে।
বিক্ষোভ মিছিলে ‘সন্ত্রাসীদের কাল হাত, ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও, সন্ত্রাসীদের আস্তানা গোপালগঞ্জে হবে না’ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
বিক্ষোভ মিছিল শেষে পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী আবু দারদা সোহান বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে শতভাগ আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের শতভাগ আবাসন সবথেকে প্রয়োজনীয়। প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত বাসা ভাড়া করে আবাসন সংকট দূর করা।
একই বিভাগের শিক্ষার্থী শোয়াইব বিল্লাহ বলেন, এই বিক্ষোভ মিছিলে আমরা কাঁদতে আসিনি। আমরা আমাদের ভাইদের উপর হামলার বিচারের দাবিতে এসেছি। আমরা অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে এই হামলার বিচার দাবি করছি এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানাচ্ছি।
এরআগে আহত শিক্ষার্থীরা জানান, হামলাকারীরা স্থানীয় সন্ত্রাসী। তারা ‘তোরা সমন্বয়ক, তোরা আন্দোলন করেছিস’ বলে নানা অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে অতর্কিত হামলা চালায়। স্থানীয় সন্ত্রাসী ইফতির নেতৃত্বে হামলা হয়েছে বলে জানান তারা।
এই ঘটনায় মধ্যরাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা সদর থানায় অবস্থান নেয় এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে মামলা করার দাবি জানায়। এসময় থানায় উপস্থিত হয়ে প্রশাসনের কার্যক্রম সম্পর্কে ও সদর হাসপাতালে গিয়ে শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. মো. সোহেল হাসান।
অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আহত শিক্ষার্থী সেলিম রেজা বাদী হয়ে মামলা করেছেন বলে জানা গেছে।
গোপালগঞ্জের এডিশনাল এসপি কাজী মাহবুবুল আলম বলেন, পুলিশ অপরাধীদের গ্রেফতারের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ইফতিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমাদের প্রতিটি সদস্য এখনও মাঠে তৎপর রয়েছে।