গ্রামীণফোনের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে দৃষ্টি কাড়েন সুস্মি রহমান। অভিনয় করেছেন টিভি নাটক ও চলচ্চিত্রেও। আগামী শুক্রবার দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে তার দ্বিতীয় সিনেমা ‘দায়মুক্তি’। সিনেমা ও সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন মাসুদুর রহমান।
ফের রুপালি পর্দায়। কেমন অনুভূতি কাজ করছে?
‘দায়মুক্তি’ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো সিনেপর্দায় আসছি। সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন বদিউল আলম খোকন। আমার বিপরীতে অভিনয় করেছেন সাইমন সাদিক। প্রথমবারের মতো এই সিনেমাটি নিয়েও আমি এক্সাইটেড।
ভিন্ন গল্পের ছবিটি নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কেমন?
ছবিটি নিয়ে আমি অনেক আশাবাদী। রোমান্টিক-অ্যাকশন সিনেমার ভিড়ে ‘দায়মুক্তি’ অবশ্যই দর্শক টানবে বলে মনে করছি। কারণ এর গল্প ভালো। দর্শক ভালো গল্প চান। এটি পুরোপুরি পারিবারিক সিনেমা। এমন গল্পকেন্দ্রিক সিনেমা দর্শক পাচ্ছেন না। একশ্রেণির দর্শক এই ধরনের গল্প খুব পছন্দ করেন।
আপনার প্রথম ও দ্বিতীয় সিনেমার গল্প ও চরিত্রে কতটা ভিন্নতা রয়েছে?
অনেক ভিন্নতা রয়েছে। আমার প্রথম চলচ্চিত্র ‘আসমানী’। সেখানে দর্শক আমাকে পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের লেখা ‘আসমানী’ কবিতা অবলম্বনে দেখতে পেয়েছেন। ষাট দশকের একটি চরিত্র। ক্যারিয়ারের শুরুতে এমন চরিত্র আমার জন্য অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিল। অন্যদিকে ‘দায়মুক্তি’ সমাজের দায়বদ্ধতায় জড়ানো পারিবারিক এবং সামাজিক গল্পে নির্মিত। বর্তমান সময়ের এক নারী চরিত্রে অভিনয় করেছি।
নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে কি চ্যালেঞ্জিং মনে হচ্ছে?
নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চ্যালেঞ্জের বিকল্প নেই। জীবনে কোনো সফলতাই সহজে আসে না। তার জন্য কাঠখড় পোড়াতে হয়। প্রতিষ্ঠিতরা সাধনা আর অধিক পরিশ্রমের ফলেই নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছেন। তরুণ প্রজন্মের অনেক শিল্পীই ভালো করছেন। আমিও চেষ্টা করছি।
চলচ্চিত্রের বর্তমান পরিস্থিতিকে কীভাবে দেখছেন?
চলচ্চিত্র সংকটের বেশ কিছু কারণ রয়েছে। এর মধ্যে মানহীন গল্প, দুর্বল নির্মাণ, বাজেট স্বল্পতা অন্যতম। বিনিয়োগ করে লাভবান না হওয়ায় অর্থলগ্নিকারীর অভাব দেখা দিয়েছে। দর্শক হলে না আসায় সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। নানান সমস্যায় জর্জরিত চলচ্চিত্রের বর্তমান পরিস্থিতিতেও কিন্তু কোনো কোনো সিনেমা সফলতা পাচ্ছে। চলচ্চিত্র রক্ষায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি দর্শকদেরও এগিয়ে আসতে হবে। দর্শকই পারেন চলচ্চিত্রের সুদিন ফিরিয়ে আনতে।
‘দায়মুক্তি’র পর কোন সিনেমায় দেখা যাবে আপনাকে?
ডিসেম্বরে ‘ময়নার চর’ সিনেমার শুটিং শেষ করেছি। মোস্তাফিজুর রহমান বাবু পরিচালিত এই ছবিতে আমার নায়ক ইমন। শিগগিরই মুক্তির প্রস্তুতি চলছে। হাতে রয়েছে আরেকটি সিনেমা। চলতি বছরেই এর শুটিং শুরু হবে। বাণিজ্যিক ঘরানার এই ছবিতে আমাকে দর্শক পাবেন ভিন্ন রূপে।
একসময় ছোট পর্দায় দেখা গেলেও এখন নেই কেন?
মডেলিং দিয়েই আমার ক্যারিয়ার শুরু। গ্রামীণফোনের বেশ কিছু বিজ্ঞাপনে কাজ করেছি আমি। অনেক টিভি নাটকেও অভিনয় করা হয়েছে। সর্বশেষ দেড় বছর আগে ‘মেঘ বালিকারা’ নাটকে অভিনয় করেছি। এখন সিনেমার ব্যস্ততার কারণে ছোটপর্দায় দেখা যাচ্ছে না।