দেশের আলোচিত অভিনেতা এফএস নাঈম। একসময় টেলিভিশন নাটকে নিয়মিত অভিনয় করলেও এখন সিনেমা ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে কাজ করছেন। বরাবরই ভিন্ন চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। সম্প্রতি দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত সিনেমা ‘জলে জ্বলে তারা’। অরুণ চৌধুরী পরিচালিত এই সিনেমার মধ্য দিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন এই অভিনেতা। নতুন সিনেমা ও সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে দৈনিক সময়ের আলোর কথা বলেছেন তিনি।
‘জলে জ্বলে তারা’ নিয়ে প্রতিক্রিয়া কেমন পাচ্ছেন?
যথেষ্ট ভালো প্রতিক্রিয়া পাচ্ছি। যারা দেখছেন ছবিটির প্রশংসা করেছেন। দীর্ঘদিন পর মনের মতো একটি সিনেমা উপভোগ করেছেন বলেও মন্তব্য অনেকের। একে অন্যকে ‘জলে জ্বলে তারা’ দেখার জন্য উৎসাহিত করছেন। একটি সিনেমা নিয়ে দর্শকদের মাঝে এমন প্রচারণা বড় এক প্রাপ্তি। দীর্ঘদিন পর সিনেমায় ফিরে দর্শকদের এই ভালোলাগা-ভালোবাসায় আমি অভিভূত। দর্শকদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।
দীর্ঘ ১৫ বছর পর সিনেমায় কেন?অনেক গণমাধ্যমে প্রচার করছেন আমি দীর্ঘ ১৫ বছর পর ফিরেছি। বিষয়টি আমি ইতিবাচক হিসেবে দেখছি না। এই সময়টাতে কি আমি অভিনয় করিনি? আমি তো নিয়মিত অভিনয় করে আসছি। হয়তো বড়পর্দায় আসা হয়নি। ‘কারাগার’, ‘মিশন হান্টডাউন’, ‘কালপুরুষ’-এর মতো ওটিটিতে বেশ কয়েকটি ভালো ভালো কাজ করেছি। আমি অনেকের মতো বেশি কাজে অভ্যস্ত নই। সংখ্যাটা আমার কাছে মুখ্য নয়। মানসম্মত কম কাজেই আমি তৃপ্তি অনুভব করি। এই সিনেমা ছাড়াও আমার কাছে অনেক প্রস্তাব এসেছে কিন্তু মনের মতো না হওয়ায় অভিনয় করিনি। ‘জলে জ¦লে তারা’ সিনেমার গল্পটি আমাকে টেনেছে বলেই ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে যাই। সিনেমার গল্প, লোকেশন ও গান দর্শকদের মুগ্ধ করার মতোই।
আপনার চরিত্রটি নিয়ে কতটা পরিতৃপ্ত?এই সিনেমায় আমি অভিনয় করেছি হোসেন মাঝি চরিত্রে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এক ব্যতিক্রম চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরেছি। নাটক, সিনেমা ও ওটিটিতে এর আগে কখনো এমন চরিত্রে অভিনয় করা হয়নি। হোসেন মাঝি ছাড়া দর্শকরা কখনো আমাকে মাঝি চরিত্রে পাননি। একেবারে ভিন্ন এই চরিত্রে অভিনয় অনেক ভালো লেগেছে। অন্যরকম অনুভূতি অনুভব করেছি। চরিত্রটি প্রাণবন্ত করে তুলতে সর্বোচ্চ চেষ্টা ছিল আমার।
হোসেন মাঝির প্রস্তুতির গল্পটা জানতে চাই- চরিত্রটির জন্য সপ্তাহখানেক আগে স্পটে চলে গিয়েছিলাম। নদীর মানুষ মাঝি, নদীর সঙ্গে গভীর সখ্য তার। তাই নদী পাড়ের কাদামাটির মানুষদের সঙ্গে মিশেছি। তাদের জীবনযাত্রা সম্পর্কে কাছে থেকে পর্যবেক্ষণ ও অনুধাবন করেছি। রাতে ট্রলারে ঘুমিয়ে কাটিয়েছি। যতটুকু দরকার ছিল তার চেয়ে বেশি প্রস্তুতি নিয়েছিলাম।
সামনে নতুন কী নিয়ে আসছেন?আমার কোনো তাড়াহুড়ো নেই। ভালো কাজ হচ্ছে কি না সেদিকে গুরুত্ব দিই। সেই ধারাবাহিকতায় নতুন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি। দর্শকদের জন্য আবারও চমক নিয়ে আসতে চাই। দুটি সিনেমা করা আছে। সময় হলেই সবাই জানতে পারবেন। এ নিয়ে এখন কিছু না বলি।
বেছে বেছে কাজ করেন। এর নেপথ্যে কারণ কী?আমার মনে হয় বেশি বেশি কাজ করতে গেলে ভালো কিছু পাওয়া করা যায় না। সংখ্যা বাড়াতে গেলে মানসম্মত কাজ করা সম্ভব না। এ জন্য বেছে বেছে কাজ করার চেষ্টা করি।
মানের শিল্পীদের অনেক সময় মানহীন কাজে দেখা যায়...পেশাদার অভিনয়শিল্পীদের নিয়মিত কাজ করতে হয়। এ জন্য স্বাভাবিকভাবেই সব কাজ মানসম্মত হয়ে ওঠে না। বাছ-বিচার করে সবার পক্ষে চলা সম্ভবও না। তাই কিছু কাজ একটু অন্যরকম হবেই।
ঈদের নাটকে দেখা যাবে কি?ওটিটি ও বড়পর্দা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় নাটকে কাজ করা হচ্ছে না। সবশেষ রাকেশ বসুর পরিচালনায় তানিয়া বৃষ্টির সঙ্গে ‘শর্ত দিয়ে বিয়ে’ নাটকে অভিনয় করেছিলাম। আসছে ঈদেও নাটকে দেখা যাবে কি না সেটি নিশ্চিত করে বলা কঠিন। এখন পর্যন্ত পরিকল্পনা নেই। তবে ব্যাটে-বলে মিলে গেলে হয়তো দেখা যাবে।
সময়ের আলো/এএ/