খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) উপাচার্যের পদত্যাগের একদফা দাবিতে কুয়েট শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে ‘প্রতীকী অনশন’ করেছে গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এ ‘প্রতীকী অনশন’ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
কর্মসূচিতে গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব জাহিদ আহসান বলেন, কুয়েট শিক্ষার্থীরা তাদের ভিসির অপসারণের দাবিতে দীর্ঘ ২ মাস ধরে আন্দোলন করে আসছে। যে ভিসির অভিভাবকসুলভ আচরণ করার কথা ছিল তিনি অভিভাবকসুলভ আচরণ না করে বহিরাগত, ভাড়াটে, বিএনপি এবং যুবদলের সন্ত্রাসীদের ক্যাম্পাসে নিয়ে এসে শিক্ষার্থীদের উপর প্রথমে হামলা করেন। পরবর্তীতে এই শিক্ষার্থীরা যখন আন্দোলনে নামে তখন এই শিক্ষার্থীদেরকেই বহিষ্কার করেন।
তিনি বলেন, কুয়েটের ২২ জন শিক্ষার্থীর নামে মামলা হলেও সেই মামলা নিয়ে একটি ‘টু’ শব্দও ভিসি করেননি বরং সিন্ডিকেট মিটিং ডেকে শিক্ষার্থীদেরকে বহিষ্কার করেছেন। আমরা কুয়েট ভিসির এমন প্রহসনমূলক আচরণের প্রতিবাদ জানাই।
তিনি আরও বলেন, কুয়েট ভিসি অধ্যাপক মাছুদের অপসারণের দাবিতে ৩০ জন শিক্ষার্থী জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকলেও কোনো এক অজানা শক্তির বলে কুয়েট ভিসির কোনো কিছুই হয়নি। তিনি মোটেও অনুশোচনা প্রকাশ করেননি। শিক্ষার্থীদের কাছে যাননি। যে শক্তিবলে বা যারা এই জালেম ভিসিকে এখনও পদে বসিয়ে রেখেছেন তাদের শিকড় এই বাংলাদেশে থাকবে না।
গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখ্য সংগঠক হাসিব আল ইসলাম বলেন, কুয়েটের ভিসি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন, তিনি শিক্ষার্থীদের পক্ষে অবস্থান নেননি। তিনি দলান্ধ হয়ে সন্ত্রাসী ছাত্রদল, যুবদলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, কুয়েট শিক্ষার্থীরা যখন হলের তালা ভেঙ্গে হলে প্রবেশ করেছে তখন সেই ১৭ জুলাইয়ের পুনরাবৃত্তি— হলের বিদ্যুৎ সংযোগ,পানির সরবরাহ বন্ধ করে হল ছাড়তে বাধ্য করেছে।
প্রতীকী অনশনে অংশ নিয়েছেন গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখার মুখপাত্র রাফিয়া রেহনুমা, ছাত্রসংসদের নেত্রী নিশিতা জাহান নিহা প্রমুখ।